Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

সকাল ৭:৩১ ঢাকা, সোমবার  ১৯শে নভেম্বর ২০১৮ ইং

ফাইল ফটো

প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ

শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, আসন্ন এসএসসি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস বা ফাঁসের গুজব ছড়ানো, ফেসবুকে প্রশ্নপত্রের নামে হুজুগ সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, বিজি প্রেসসহ সম্ভাব্য যেসব স্থান থেকে এবং ব্যক্তির দ্বারা প্রশ্নপত্র ফাঁস হতে পারে তাদের ওপরে কড়া নজরদারি ও সার্বক্ষণিক নিবিড় পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা করেছি। সংশ্লিষ্টদের বাবা-মা, আত্নীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব সবার ব্যাপারেই আমরা খোঁজ খবর রাখছি। কাজেই পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস বা ফাঁসের গুজব ছড়ানো এবং ফেসবুকে প্রশ্নপত্র ফাঁসের নামে হুজুগ সৃষ্টিকারীদের পরিবারেরর সদস্য বা বন্ধু-বান্ধবও আইনের হাত থেকে রেহাই পাবেন না
মন্ত্রী আজ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এসএসসি পরীক্ষা সংক্রান্ত জাতীয় মনিটরিং কমিটির দ্বিতীয় সভায় এ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। আগামী ২ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ থেকে অনুষ্ঠিতব্য এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সুষ্ঠু, নকলমুক্ত এবং ইতিবাচক পরিবেশে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে সভা আহ্বান করা হয়।
সভা শেষে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁস প্রতিরোধে আমরা সর্ব্বোচ্চ মনিটরিং-এর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। দৃশ্যমান এবং অদৃশ্যমান উভয় পদ্ধতিতে মনিটরিং করছি। বিজি প্রেসের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মকান্ড সার্বক্ষণিকভাবে সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে মনিটরিং করা হচ্ছে। এই অবস্থায়ই তারা কাজ করতে বাধ্য।
তিনি বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁস বা ফাঁসের চেষ্টাকারীরা শনাক্ত হওয়ার সাথে সাথে তাদের বিরুদ্ধে ‘পাবলিক পরীক্ষা আইন ১৯৮০ (সংশোধিত ১৯৯৮)-এর শাস্তির বিধান নিশ্চিত করা হবে। আইসিটি এ্যাক্ট-২০০৬ অনুযায়ীও তাদের শাস্তি দেয়া হবে। ফেসবুকে প্রশ্নপত্রের নামে সাজেশন প্রদান করাকে অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করে তাদের বিরুদ্ধে ত্বড়িৎ শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এজন্য সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোকে সার্বক্ষণিক মনিটরিংয়ের মধ্যে রাখা হচ্ছে।
এর আগে মনিটরিং কমিটির সভায় জানানো হয়, আসন্ন এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে এবার আমরা আরো সমন্বিতভাবে কাজ করছি। এ লক্ষ্যে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করার জন্য ইতিমধ্যেই দেশের সব বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কাছে শিক্ষা সচিবের ডিও লেটার পাঠানো হয়েছে।
সভায় বলা হয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে পরীক্ষা সংক্রান্ত কন্ট্রোল রুমের জন্য লিংক স্থাপন করা হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটের হোমপেজে ‘এক্সাম কন্ট্রোল রুম’ নামক মেনুতে কন্ট্রোল রুমের ইমেইল আইডি, জাতীয় মনিটরিং কমিটির সদস্যগণের ফোন নম্বর ও ইমেইল আইডি থাকবে।
আসন্ন আসন্ন এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে একটি সক্রিয় ও ত্বড়িৎ কার্যক্ষম একটি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে (কক্ষ নং ১৯২২, ভবন নং ০৬, বাংলাদেশ সচিবালয়)। কন্ট্রোল রুমে ল্যান্ড ফোন (৯৫৪৯৩৯৬), দু’টি ইউনিক মোবাইল ফোন (০১৭৭৭-৭০৭৭০৫ ও ০১৭৭৭-৭০৭৭০৫), ইন্টারনেট কানেকশন নেয়া হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন উপসচিব পর্যায়ের কর্মকর্তার তত্বাবধানে কন্ট্রোল রুম পরিচালনা করা হবে। এখানে একাধিক আইটি বিশেষজ্ঞ থাকবে।
ফেসবুকে বা অন্য কোনোভাবে তথ্য পাওয়ার সাথে সাথে বিটিআরসি, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাকে জানিয়ে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে তথ্য আদান প্রদানের সুবিধার জন্য কন্ট্রোল রুমের ইনচার্জের নাম ও মোবাইল নম্বর ওয়েবসাইটে থাকবে। একইভাবে দেশের ১০টি বোর্ডেই ভিন্ন ভিন্ন কন্ট্রোল রুম খোলা হবে।
এছাড়াও পরীক্ষা চলাকালীন নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করার জন্য বিদ্যুৎ বিভাগে, পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে উত্তরপত্র এবং ওএমআরসহ গোপনীয় কাগজপত্র শিক্ষা বোর্ডসমূহে প্রেরণের লক্ষ্যে ডাকঘর খোলা রাখার জন্য ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে এবং পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে উত্তরপত্র এবং ওএমআরসহ গোপনীয় কাগজপত্র শিক্ষা বোর্ডসমূহে প্রেরণের লক্ষ্যে রেলওয়ে পার্সেল বিভাগ খোলা রাখার জন্য রেলপথ মন্ত্রণালয়ে পত্র দেয়া হয়েছে।
শিক্ষাসচিব মো: নজরুল ইসলাম খান প্রশ্নপত্র ফাঁস প্রতিরোধে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য স্বল্পসংখ্যক ব্যক্তির নিবিড় তত্বাবধানে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে প্রশ্নপত্র ছাপানোর পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, ছাপাখানায় কর্মরত প্রত্যেক ব্যক্তি একত্র হয়েও প্রশ্নপত্র ফাঁস করতে পারে। কাজেই এই প্রক্রিয়াকে যতটা সম্ভব স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে সম্পন্ন করা জরুরী।
জাতীয় মনিটরিং কমিটির আহ্বায়ক শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন ও অর্থ) স্বপন কুমার সরকার এ সভায় সভাপতিত্ব করেন। সভায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়,সংস্থার ও প্রতিষ্ঠানের কমিটির কর্মকর্তা ও সদস্যগণ উপস্থিত ছিলেন।