শীর্ষ মিডিয়া

ব্রেকিং নিউজ

রাত ৯:১১ ঢাকা, মঙ্গলবার  ১৮ই ডিসেম্বর ২০১৮ ইং

প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে গ্রেফতারকৃত ইউজিসি কর্মকর্তার র‌্যাব হেফাজতে মৃত্যু

র‌্যাব হেফাজতে থাকার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওমর সিরাজ (৩৫) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। তিনি ইউজিসির কর্মকর্তা ছিলেন। বৃহস্পতিবার রাতে শেরেবাংলা নগর থানার পুলিশ তার লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
শেরেবাংলা নগর থানার এসআই ওয়াজেদ আলী সাংবাদিকদের জানান, ওমর সিরাজকে র‌্যাব-৪ এর একটি টিম গ্রেফতার করেছিল। সেখানে ওমর সিরাজ অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাকে হৃদরোগ ইন্সটিটিউটে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। পরে র‌্যাবের পক্ষ থেকে থানায় খবর দেয়া হলে পুলিশ হৃদরোগ হাসপাতাল থেকে তার লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়।
রাত সাড়ে ১১টায় শেরেবাংলা নগর থানার ডিউটি অফিসার জানান, এ ব্যাপারে বিস্তারিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে ওমর সিরাজ মামলার আসামি থাকায় র‌্যাব তাকে গ্রেফতার করেছিল। আজ শুক্রবার ওমর সিরাজের লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে ময়নাতদন্ত করা হবে বলে জানা গেছে।
র‌্যাবের একটি সূত্রে জানা গেছে, মেডিকেলে ভর্তি পরীক্ষা চলার মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে (ইউজিসি) অভিযান চালিয়ে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে সম্প্রতি তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, যাদের মধ্যে একজন হলেন সহকারী পরিচালক। আর তিনিই হলেন ওমর সিরাজ। তার সঙ্গে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের স্টোর কিপার রেজাউল করিম (৩২) এবং ঈশান ইমতিয়াজ হৃদয়কে (২২) গ্রেফতার করে র‌্যাব।
র‌্যাবের হাতে গ্রেফতারের পর প্রশ্নফাঁসে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার হওয়ায় ওমর সিরাজকে সাময়িক বরখাস্ত করে ইউজিসি কর্তৃপক্ষ। তিনিই মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা এবং কৃষি ব্যাংক, জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন ও বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ পরীক্ষার হলে উত্তরপত্র বিতরণকারী এ চক্রের হোতা বলে জানায় র‌্যাব।
র‌্যাবের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি থেকে জানা গেছে, ওমর সিরাজ অসাধু উপায় অবলম্বন ও জালিয়াতি করে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা, কৃষি ব্যাংকের অফিসার নিয়োগ, জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের সহকারী জজ নিয়োগ পরীক্ষার উত্তরপত্র সরবরাহ করে আসছিলেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে।
শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশ জানায়, সেই ওমর সিরাজ র‌্যাবের হেফাজতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার উপপরিচালক মেজর মাকসুদুল আলম গণমাধ্যমকে বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ওমর ফারুককে দুদিনের রিমান্ডে নেয়া হয়েছিল।
সন্ধ্যায় অসুস্থবোধ করলে তাকে হৃদরোগ ইন্সটিটিউটে ভর্তি করা হয়। সেখানে তিনি সোয়া ৭টার দিকে মারা যান। তাকে রিমান্ডে নির্যাতন করা হয়েছিল কিনা জানতে চাইলে মেজর মাকসুদুল আলম বলেন, ওমর অসুস্থ হয়ে পড়েন। র‌্যাব কাউকে নির্যাতন করে না।