ব্রেকিং নিউজ

সকাল ৬:০৬ ঢাকা, শনিবার  ১৭ই নভেম্বর ২০১৮ ইং

প্রভাবশালীদের ব্যাংক হিসাব তদারকির নির্দেশ

প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ব্যাংক হিসাব এখন থেকে নিয়মিত তদারকির নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রভাবশালীদের ব্যাংক হিসাব নিয়মিত তদারকের নির্দেশ

এক্ষেত্রে প্রভাবশালীদের হিসাবে জমা হওয়া অর্থ বা সম্পদের উৎস জানার জন্য যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নেয়ার পাশাপাশি তাদের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক স্থাপনের আগে ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার অনুমোদন নিতে বলা হয়েছে।

অর্থপাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ কার্যক্রম জোরদারের লক্ষ্যে রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিট (বিএফআইইউ) থেকে জারি করা ‘মাস্টার’ সার্কুলারে এসব বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

সার্কুলারে বলা হয়, প্রভাবশালী বলতে সরকার বা রাষ্ট্রপ্রধান, গুরুত্বপূর্ণ ও সিনিয়র রাজনীতিবিদ, সিনিয়র সরকারি কর্মকর্তা, বিচারিক বা সামরিক ব্যক্তি, সরকারি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহীদের বোঝাবে। এসব ব্যক্তির ব্যাংক হিসাব খোলার ক্ষেত্রে সব ধরনের নীতিমালা অনুসরণের বিষয়টি নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। আর যার নামে হিসাবটি খোলা হচ্ছে তিনি তার প্রকৃত সুবিধাভোগী কিনা, সেটিও নিশ্চিত হতে বলা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানায়, অর্থপাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে নিয়োজিত আন্তর্জাতিক সংস্থা ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্কফোর্সের (এফএটিএফ) নীতিমালার আলোকে প্রভাবশালী ব্যক্তির হিসাব খোলা ও তদারকের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়, ব্যাংকের সহযোগী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরিচালিত মোবাইল ব্যাংকিং বা এজেন্ট ব্যাংকিং পরিচালনায় অর্থপাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়নের ঝুঁকি নিরসনে একটি ‘স্বতন্ত্র কাঠামো’ ও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে বলা হয়েছে। এজন্য যথাযথভাবে যাচাই-বাছাই করে এজেন্ট বা ক্যাশ পয়েন্ট নিয়োগ দিতে বলা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে আরও বলা হয়, এক্ষেত্রে সব পর্যায়ে নিয়ম মেনে কার্যক্রম পরিচালনা হচ্ছে কিনা, ব্যাংকটিকে তা নিশ্চিত করতে হবে। কেননা সরাসরি ব্যাংকিং কার্যক্রমের পাশাপাশি এ ধরনের সেবায় অর্থপাচার ও সন্ত্রাসী অর্থায়ন হলে তার দায় সমভাবে ব্যাংকের ওপর বর্তাবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

সার্কুলারে বলা হয়, কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে সময়ে-সময়ে দেওয়া নির্দেশনার পাশাপাশি অর্থপাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড, দেশীয় আইন ও এফআইইউর নির্দেশনার আলোকে এখন থেকে ব্যাংকগুলো একটি নিজস্ব নীতিমালা করবে, যা সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ বা সর্বোচ্চ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের অনুমোদিত হতে হবে। আর এই নীতিমালা কার্যকরের জন্য প্রতিবছর সব বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশ্যে ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীর অঙ্গীকার ঘোষণা ও তা বাস্তবায়নের নির্দেশ দিতে হবে।

এছাড়া সার্বিক বিষয় দেখভালের জন্য ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে ‘কেন্দ্রীয় পরিপালন ইউনিট’ এবং শাখা পর্যায়ে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ পরিপালন কর্মকর্তা নিয়োগ দিতে বলা হয়েছে। নিয়োজিত ব্যক্তি ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে সভা করে হিসাব খোলার ক্ষেত্রে গ্রাহকের সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ পরিচিতি (কেওয়াইসি), লেনদেন তদারক, সন্দেহজনক লেনদেন বা কার্যক্রম চিহ্নিতকরণ ও রিপোর্টিং, রেকর্ড সংরক্ষণ বিষয়ে আলোচনা করবেন বলে এতে বলা হয়।

এতে আরও বলা হয়েছে, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সন্দেহজনক তালিকাভুক্ত কোনো ব্যক্তি বা সত্তা এবং বাংলাদেশ সরকারের তালিকাভুক্ত কোনো ব্যক্তি বা নিষিদ্ধ ঘোষিত সত্তার কোনো হিসাব খোলা বা পরিচালনা করা যাবে না। বেনামে বা ছদ্মনামে বা শুধুমাত্র নম্বরযুক্ত কোনো হিসাব খোলা যাবে না।

নিবন্ধিত তবে শাখা বা কার্যক্রম নেই এমন ‘শেল ব্যাংকের’ সঙ্গে কোনো ধরনের ব্যাংকিং সম্পর্ক স্থাপন করা যাবে না। আর প্রতিটি ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য ও স্বাধীন উৎস হতে পাওয়া তথ্য, উপাত্ত ও দলিলাদির ভিত্তিতে গ্রাহক পরিচিতি যাচাই করতে হবে। কোনো বিষয়ে গ্রাহকের অসহযোগিতা বা সংগৃহীত তথ্য নির্ভরযোগ্য না হলে হিসাব না খোলা বা ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার অনুমতি নিয়ে চলমান হিসাব বন্ধ করে দেওয়া যাবে।

এছাড়া কোনো হিসাব থেকে নির্দিষ্ট দিনে এক বা একাধিক লেনদেনের মাধ্যমে জমা বা উত্তোলনের পরিমাণ ১০ লাখ টাকা বা তার বেশি হলে মাসিক ভিত্তিতে কারেন্সি ট্রানজেকশন রিপোর্ট (সিটিআর) হিসেবে এফআইউকে জানাতে হবে। একইভাবে সন্দেহজনক লেনদেন বা কার্যক্রম চিহ্নিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তা শাখা মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ পরিপালন কর্মকর্তাকে লিখিতভাবে অবহিত করতে বলা হয়েছে। ওই প্রতিবেদনের বিশ্লেষণ ও পর্যবেক্ষণ লিপিবদ্ধ করে সংরক্ষণ করতে বলা হয়েছে।