ব্রেকিং নিউজ

রাত ১:০২ ঢাকা, বুধবার  ১৯শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

‘প্রবীণরা মানসিক নির্যাতনের শিকার’

প্রবীণদের নিয়ে কাজ করে এমন সংগঠনগুলো বলছে, বাংলাদেশে প্রবীণদের একটি বড় অংশ নানাভাবে নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন।

এ বিষয়ে সচেতনতারও অভাব রয়েছে। প্রবীণদের দেখভালের জন্য বাংলাদেশে একটি আইন থাকলেও অনেকেই সে সম্পর্কেও ঠিকভাবে জানেন না।

এমনই প্রেক্ষাপটে বিশ্বজুড়ে আজ পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক প্রবীণ নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস। প্রবীণদের বিষয়ে সচেতনতা তৈরিই দিনটি পালনের লক্ষ্য।

প্রবীণদের অধিকার নিয়ে কাজ করে হেল্প এজ ইন্টারন্যাশনাল। প্রতিষ্ঠানটির কান্ট্রি ডিরেক্টর, নির্ঝরিণী হাসান বলছিলেন, দেশে বিভিন্নভাবে প্রবীণ নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে।

তিনি বলেন, “অবহেলা তো আছেই, সেইসাথে শারীরিক ও মানসিক ও অর্থনৈতিক নির্যাতনের শিকার হন অনেক প্রবীণ। এর মধ্যে মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন বেশি”।

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পরিবারের সদস্যদের দ্বারাই নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন তারা। অনেকের আশ্রয় হচ্ছে বৃদ্ধাশ্রমে।

মিজ হাসান জানান, তাদের এক জরিপে দেখা গেছে, বাংলাদেশের শহরে বিশেষ করে নিম্ন মধ্যবিত্তদের মধ্যে ৮৮% বলেছেন যে তারা বিভিন্নভাবে নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন।

এর কারণ হিসেবে যৌথ পরিবার ভেঙে একক পরিবার ব্যবস্থার আধিপত্যকে দায়ী করেন প্রবীণদের অধিকার নিয়ে কর্মরত মিজ হাসান।

আগে নানা-নানী, দাদা-দাদী ছিলেন পরিবারের প্রধান। কিন্তু একক পরিবারে তারা অনেকটাই উপেক্ষিত।

“একজন প্রবীণ মানুষ সারাজীবন পরিবারের প্রধান ছিলেন, হঠাৎ আবিষ্কার করণে পরিবারে তার কোনও সম্মান নেই” বলেন নির্ঝরিণী হাসান।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ অর্থনৈতিক অবস্থা। বর্তমান প্রতিযোগিতার যুগের কারণে অনেকেই মনে করেন, প্রবীণদের আয়-রোজগারের ক্ষমতা নেই। তারা পরিবারের বোঝা হয়ে ওঠেন অনেকে কাছে।

যদিও প্রবীণদের অধিকারের বিষয়ে ২০১৩ সালে একটি নীতির অনুমোদন দেয়া হয়।

এছাড়া পিতা-মাতা ভরণ পোষণ আইনও হয় ২০১৩ সালেই। মিজ হাসান বলেন, “ছেলে-মেয়ের ওপর বাধ্য-বাধকতা থাকলেও অনেকেই সন্তানদের বিরুদ্ধে আইনের সাহায্য নিতে চান না। এটা এই আইনের দুর্বলতা”।

এখানে রাষ্ট্রের দায়িত্বের বিষয়ে কিছু থাক দরকার বলে তিনি মনে করেন।

তবে এই আইন বা নীতি সম্পর্কে অনেকেই জানেন না। সরকারিভাবে এ সম্পর্কে জানানোর উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন। বিবিসি