Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

সকাল ৯:৫৫ ঢাকা, বুধবার  ২১শে নভেম্বর ২০১৮ ইং

প্রধানমন্ত্রীর সহানুভূতি জানাতে আসাটা ছিল নিছকই ছলনা

বর্তমান জবরদখলকারী ভোটারবিহীন সরকার অমানবিকতার আরেকটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তা হলো ‘পুত্রশোকে কাতর বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের। বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব এ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আরো বলেছেন, বেগম জিয়ার বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের ঘটনায় এটা সুস্পষ্ট যে, গতকাল কোকোর মৃত্যু সংবাদে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সহানুভূতি জানাতে আসাটা ছিল নিছকই ছলনা, একটি প্রহসনের মহড়া মাত্র। কোকোর জন্য প্রধানমন্ত্রীর সমবেদনা জানানোটা যেন কুমিরের কান্না বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

রোববার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ভোটারবিহীন সরকার মনুষ্যত্বের সকল বৈশিষ্ট্যগুলোকে জলাঞ্জলি দিয়েছে। এই অবৈধ সরকার ও তাদের আন্দোলনের ফসল ১/১১ এর সরকারের মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনে প্রায় সাড়ে সাত বছর ধরে অসুস্থতায় ভুগছিলেন আরাফাত রহমান কোকো। ২০০৭ সালের মঈনউদ্দিন-ফখরুদ্দিনের সরকার বেগম খালেদা জিয়াকে গ্রেফতারের দিনই কোকোকে আটক করে। আটকের পর তার ওপর চালানো হয় অমানুষিক অত্যাচার। এই অত্যাচারেই গুরুতর হৃদরোগে আক্রান্ত হন আরাফাত রহমান কোকো। এরপর আওয়ামী মহাজোট সরকার একের পর এক মিথ্যা মামলা দায়ের করতে থাকে কোকোর বিরুদ্ধে। মায়ের কাছ থেকে সন্তানের পরিবারকে বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়। মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের ফলে অসুস্থতায় ভুগে গতকাল আরাফাত রহমান কোকো মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পরিবারকে ধারাবাহিকভাবে ধ্বংস করার একটি মাত্র উদ্দেশ্য হচ্ছে জিয়ার বহুদলীয় গণতন্ত্রকে উচ্ছেদ করা।

রিজভী আহমেদ বলেন, কোকোর মৃত্যুতে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাত করতে আসাটাকে আমরা ইতিবাচক অর্থেই গ্রহণ করেছিলাম। রাজনীতির বাইরে সামাজিক দায়িত্ববোধের তাগিদেই প্রধানমন্ত্রী বেগম জিয়াকে সমবেদনা জানাতে এসেছেন বলে ধরে নিয়েছিলাম। কিন্তু বেগম জিয়ার বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের ঘটনায় এটা সুস্পষ্ট যে, গতকাল কোকোর মৃত্যু সংবাদে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সহানুভূতি জানাতে আসাটা ছিল নিছকই ছলনা, একটি প্রহসনের মহড়া মাত্র। কোকোর জন্য প্রধানমন্ত্রীর সমবেদনা জানানোটা যেন কুমিরের কান্না।

রিজভী আরো বলেন, বেগম জিয়াকে কারাগারে বন্দি করার নীল নকশা তারা অনেক দিন ধরেই করে আসছে। বেগম জিয়াকে দায়ী করে আটক করার জন্যই একের পর এক পেট্রলবোমা মেরে নাশকতার ঘটনা ঘটানো হচ্ছে। বিএনপি’র পক্ষ থেকে দ্ব্যর্থহীন কন্ঠে বারবার বলা হয়েছে যে, সরকারি এজেন্টরাই এই নাশকতাগুলো করছে বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে। সেই উদ্দেশ্যটা হচ্ছে গণবিরোধী ভোটারবিহীন সরকারের বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভকে ভিন্ন দিকে ঘুরিয়ে দেয়া। চলমান আন্দোলনের বিরুদ্ধে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরী করা। আর সেজন্যই বেগম জিয়াসহ নেতৃবৃন্দের নামে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।

তিনি বলেন, বেগম জিয়াকে নিজ বাড়ি থেকে উচ্ছেদ, তাকে এবং তার ছেলেদের বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা মামলা দায়ের, ছেলেদেরকে মায়ের কাছ থেকে দুরে রাখতে বাধ্য করাসহ এমন কোনো উৎপীড়নের পন্থা নেই যা এই অবৈধ সরকার অবলম্বন করেনি। কিন্তু তারপরেও জাতীয়তাবাদী শক্তিকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন গন্তব্যে না পৌঁছানো পর্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে জনগণের সম্মিলিত শক্তিতে অবরোধ-হরতাল অব্যাহতভাবে চলতে থাকবে।

বিএনপি’র যুগ্ম মহাসচিব হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, অবিলম্বে বিএনপি চেয়ারপারসনসহ সকল নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। অন্যথায় এই অবৈধ সরকারকে ভয়াবহ পরিণতির জন্য আর বেশিদিন অপেক্ষা করতে হবেনা। তিনি যাত্রাবাড়ীতে দুষ্কৃতিকারীদের কর্তৃক পেট্রলবোমা হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে প্রকৃত দোষীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানান। এ সময় রিজভী আহমেদ যাত্রাবাড়ীতে পেট্রলবোমার আঘাতে দগ্ধ মানুষদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।