ব্রেকিং নিউজ

দুপুর ১:০৮ ঢাকা, সোমবার  ২৪শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

প্রধানমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়ার ‘পাল্টা প্রতিক্রিয়া’ জানালো বিএনপি

সুপ্রিমকোর্ট ও প্রধান বিচারপতিকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছিলেন গতকাল। ওই প্রতিক্রিয়ার পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তার বক্তৃতায় প্রধান বিচারপতিকে সরে যাওয়ারও হুমকি দিয়েছেন এবং বিচার বিভাগের বিরুদ্ধে জনগণকে উস্কে দেয়ার ব্যর্থ চেষ্টা করেছেন। এতে হতবাক ও বিস্মিত বিএনপি।

মঙ্গলবার রাত ৮টায় গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ফখরুল এ সব মন্তব্য করেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২১ আগস্টের অনুষ্ঠানে সোমবার প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহাকে নিয়ে যেসব বক্তব্য দিয়েছেন, সেই প্রেক্ষাপটেই এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

মির্জা ফখরুল বলেন, গতকাল (সোমবার) একটি দলীয় সভায় আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিমকোর্ট, বিচার বিভাগ, প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে যে বক্তব্য দিয়েছেন তাতে আমরা বিচলিত ও হতবাক হয়েছি। বর্তমান ক্ষমতাসীনরা বিচার বিভাগকে আক্রমণের টার্গেটে পরিণত করে যে পরিবেশ সৃষ্টি করেছে তা দেশ, জাতি ও রাজনীতির জন্য এক অশনি সংকেত।

তিনি বলেন, ক্ষমতাসীনদের অপছন্দের রায় দেয়ার কারণে তিনি (প্রধানমন্ত্রী) তার বক্তৃতায় প্রধান বিচারপতিকে সরে যাওয়ারও হুমকি দিয়েছেন এবং বিচার বিভাগের বিরুদ্ধে জনগণকে উস্কে দেয়ার ব্যর্থ চেষ্টা করেছেন। এই দায়িত্বজ্ঞানহীনতা দেশের পরিস্থিতিকে আরও নৈরাজ্যকর করে তুলতে পারে।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রীর মতো একটি দায়িত্বশীল পদে থেকে শেখ হাসিনা রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে যেভাবে পারস্পরিক সংঘর্ষের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন তা আগুন নিয়ে খেলার শামিল। ক্ষমতায় থেকে বিচার বিভাগ ও দেশের সর্বোচ্চ আদালতকে এভাবে হেয় করলে তার পরিণাম কখনো শুভ হয় না।

তিনি বলেন, সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকের (এবিএম খায়রুল হক) রাজনৈতিক রঙে রঞ্জিত কিছু রায়ে শুধু বিএনপি নয়, দেশ ও জনগণও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমরা সরকারে থাকার সময়েও কিছু রায় বিএনপির রাজনীতি-আদর্শ ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। তবুও আমরা বিচারক ও কোর্টের বিরুদ্ধে এমন আক্রমণাত্মক ভূমিকা নেইনি।

অতীতের ঘটনা তুলে ধরে বিএনপি মহাসচিব বলেন, এর আগে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে রায় পছন্দ না হলে বিচারকদের বিরুদ্ধে লাঠি মিছিল, সুপ্রিমকোর্ট প্রাঙ্গণে বস্তি বসানো, প্রধান বিচারপতির এজলাস ভাংচুর করেছে। এবার তারা (আওয়ামী লীগ) প্রধান বিচারপতিসহ উচ্চ আদালতকে আক্রমণের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছে।

এসময় মির্জা ফখরুল জনগণকে গণতন্ত্র, আইনের শাসন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতার পক্ষে অবস্থান গ্রহণের আহ্বান জানান।

আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীর মাধ্যমে বিচারপতি অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে ফিরিয়ে নিলেও সেই সংশোধনী বাতিলের মাধ্যমে সামরিক শাসনের সময় সংবিধানে আসা সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের বিধান ফিরিয়ে আনার রায় দিয়েছেন আপিল বিভাগ।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আজম খান, নিতাই রায় চৌধুরী, কেন্দ্রীয় নেতা আতাউর রহমান ঢালী, শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

আগস্টের শুরুতে সেই রায় প্রকাশের পর থেকে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গণে চলছে পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনা।

২১ আগস্ট উপলক্ষে সোমবার আওয়ামী লীগের আলোচনা সভায় প্রথমবারের মতো ওই রায় নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধান বিচারপতির পর্যবেক্ষণ নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী।

 

সম্পর্কিত সংবাদ 

সুপ্রীমকোর্টের মন্তব্যের জবাবে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানালেন প্রধানমন্ত্রী 

 

আরো পড়ুন 

পাকিস্তানি প্রেতাত্মারা বাংলাদেশকে নিয়ে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত : শিল্পমন্ত্রী

বিএনপির আদালতকে ইস্যু করার রঙিন স্বপ্ন চুপসে যাবে : কাদের