ব্রেকিং নিউজ

দুপুর ২:০৪ ঢাকা, সোমবার  ২৩শে জুলাই ২০১৮ ইং

প্রধানমন্ত্রীর কাছে ছাত্রলীগ কর্মী হিসাবে স্বীকৃতি চেয়ে খোলাচিঠি

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে খোলা চিঠি লিখেছেন এক ছাত্রলীগ কর্মী। হুসাইন মোহাম্মদ সাগর নামের ওই ছাত্রলীগ কর্মী তার চিঠিতে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি বদিউজ্জামান সোহাগের সমালোচনা করেন। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে নিহত সুমন চন্দ্র দাস ছাত্রলীগের কর্মী নয়, সোহাগের এমন বক্তব্যের প্রেক্ষিতে তিনি এ সমালোচনা করেন। এ ছাড়া চিঠিতে ছাত্রলীগ কর্মী হিসেবে নিজেদের নানা হতাশার কথাও তুলে ধরেন সাগর।

চিঠিটি হুবহু তুলে ধরা হলো :
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আমি হুসাইন মোহাম্মদ সাগর। সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির মাস্টার্স প্রথম বর্ষের ছাত্র। পারিবারিকভাবে অনেক আগে থেকেই আমরা বঙ্গবন্ধুর আদর্শের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। আমি যখন ভাল করে বুঝতে শিখিনি তখনই বাবা-ভাইদের সঙ্গে গ্রামের মেঠো পথ ধরে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে ছুটতাম।

আমি সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ছাত্রলীগের প্রস্তাবিত কমিটির সভাপতি। এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি এক সময় ছাত্র শিবিরের আস্তানা হিসেবে পরিচিত ছিল; কিন্তু এই ক্যাম্পাসটি এখন জামায়াত-শিবির মুক্ত। আমি, নিহত সুমন চন্দ্র দাস ও ছাত্রলীগের আদর্শে অনুপ্রাণিত অন্যরা ক্যাম্পাসটি এই রাহুচক্রের কবল থেকে মুক্ত করি। এ কারণে সিলেটের আওয়ামী রাজনীতির সিনিয়র নেতৃবৃন্দের কাছে আমাদের আলাদা গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে।

মাননীয় নেত্রী, বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) সংঘর্ষের ঘটনা সম্পর্কে আপনি নিশ্চয়ই অবগত আছেন। সেদিন সকাল ৯টার দিকে আমার কাছে খবর আসে, শাবিপ্রবি ছাত্রলীগের সহসভাপতি অঞ্জন রায়ের উপর হামলা হয়েছে। নিজের একজন সহকর্মীর উপর এ রকম হামলার কথা শুনেই সুমনসহ আমরা ১০/১৫ জন তাৎক্ষণিক ছুটে যাই।

আমরা শাবিপ্রবি ক্যাম্পাসে গিয়েই হতভম্ব হয়ে যাই। সেখানে পূর্বে থেকে ওঁত পেতে থাকা সন্ত্রাসীরা বৃষ্টির মতো গুলি চালায়। তাদের গুলি আমার সামনে থাকা সুমন চন্দ্র দাসের গায়ে লাগে। সে তৎক্ষণাৎ মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। তাকে উদ্ধার করে আনতে গিয়ে একটি গুলি লাগে আমার পেটে। আরো কয়েকজন বন্ধুও গুলিবিদ্ধ হয়। সুমনকে ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আনার সঙ্গে সঙ্গে মারা যায়।

আমরা কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালের বেডে শুয়ে সুমন চন্দ্র দাসের সহযাত্রী হবার প্রহর গুনছি। আর শুনছি, প্রিয় বন্ধুটি যেন আমাদের ডাকছে। বলছে, বাড়ি থেকে মায়ের হাতের নাড়ু এনেছি। আমি কি একা খাবো, তোরা খাবি না?

মাননীয় নেত্রী, গুলিবিদ্ধ হলাম আমরা। এক সহযোদ্ধাকে সারা জীবনের জন্য হারালাম আমরা। আবার গ্রেফতার তালিকায়ও আমরা। তাতে দুঃখ নেই; কিন্তু বড় দুঃখ হচ্ছে, আমাদের সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি বদিউজ্জামান সোহাগ সত্যিকার ঘটনা না জেনে (যা পত্র-পত্রিকায়ও এসেছে) তথ্য বিভ্রাটে প্ররোচিত হয়ে সংবাদ সম্মেলনে বলে দিলেন, নিহত সুমন নাকি ছাত্রলীগের কেউ নয়।

এ কথা শোনার পর আর বেঁচে থাকতে ইচ্ছে করছে না প্রাণপ্রিয় নেত্রী। সুমন চন্দ্র দাস ছিল একজন মুক্তিযোদ্ধা বাবার সন্তান এবং তিন বোনের একমাত্র আদরের ভাই। আমাদের প্রায়ই বলতো, সে ছাত্রলীগের রাজনীতি করে তার মুক্তিযোদ্ধা বাবার ইচ্ছা ও অনুপ্রেরণাতে। সে জন্য সবসময় মিছিলের অগ্রভাগে থেকে নেতৃত্ব দিত। শেষদিনেও সামনে থেকে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করেছে।

মাননীয় নেত্রী, জানার বড় ইচ্ছে, ছাত্রলীগের কমিটিতে কয়জন কর্মীর স্থান লাভের সুযোগ আছে? প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের হাজার হাজার কর্মী রয়েছে। আপনি জানেন, অধিকাংশ কমিটির মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে ১০ বছর পর্যন্ত পার হয়ে যায়। তাই সুমন চন্দ্র দাসের মতো ত্যাগী কর্মীরা নেতা হতে পারে না। তারা কর্মী হয়ে বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে বাঁচিয়ে রাখে। আর সুমনের মতো কর্মীরা আছে বলেই সোহাগ ভাইরা নেতা; কিন্তু মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হয়ে, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ হৃদয়ে ধারণ করে, সন্ত্রাসীদের গুলিতে জীবন দিয়েও সুমন চন্দ্র দাস ছাত্রলীগের কর্মী হতে পারলো না। আমার তো মনে হচ্ছে, সুযোগ থাকলে তাকে ছাত্র শিবির কর্মী বলে চালিয়ে দেওয়া হতো।

মাননীয় নেত্রী, ছাত্রলীগের বিভিন্ন কমিটি গঠনের দীর্ঘ সূত্রিতায় যে লাখ লাখ কর্মী স্থান পায় না, তারাও ছাত্রলীগের কর্মী। আমার বন্ধু মারা গেছে, আমরা গুলিবিদ্ধ হয়েছি; কিন্তু তাতে কষ্ট নেই। আপনি শুধু সোহাগ ভাইকে একবার বলুন, আমরা ছাত্রলীগের কর্মী, বঙ্গবন্ধুর সৈনিক। আমাদের সেই অধিকারটুকু যাতে তিনি কেড়ে না নেন
ইতি
হুসাইন মোহাম্মদ সাগর।

Like & share করে অন্যকে দেখার সুযোগ দিন