ব্রেকিং নিউজ

রাত ১১:২৪ ঢাকা, সোমবার  ২৪শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

ফাইল ফটো

প্রধানমন্ত্রীর অধীনে আগামী জাতীয় নির্বাচন হবে

স্বাস্থ্যমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সভাপতি মন্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, দেশের সংবিধান অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
তিনি বলেন, আমরা যেভাবে দেশের উন্নয়ন কাজ করছি তাতে ২০১৯ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও আওয়ামী লীগ নির্বাচিত হবে।
তিনি আরো বলেন, বর্তমান সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ড পরিচালনার মাধ্যমে আগামী নির্বাচনেও সরকার গঠন করে আমরা হ্যাট্রিক করবো।
তিনি আজ বিকেলে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ আগামী ৫ জানুয়ারি গণতন্ত্রের বিজয় দিবস এবং ১০ জানুয়ারি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসের কর্মসূচি সফল করার লক্ষে এ বর্ধিত সভার আয়োজন করে।
ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এমএ আজিজের সভাপতিত্বে বর্ধিত সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী এবং ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম, আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, খাদ্যমন্ত্রী এবং ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট কামরুল ইসলাম, সহ-সভাপতি ফয়েজ উদ্দিন মিয়া, শেখ বজলুর রহমান, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হাজী মো. সেলিম এমপি, সাংগঠনিক সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ ও প্রচার সম্পাদক আব্দুল হক সবুজ প্রমুখ।
কেন্দ্রীয় ১৪ দলের মূখপাত্র নাসিম বলেন, বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার গতকালের বক্তব্য আর ২০১৩ সালের বক্তব্যের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। আর গত ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর তার চুড়ান্ত ফয়সালা হয়ে গেছে।
তিনি বলেন, ২০১৩ সালে সংলাপের প্রয়োজন ছিল। সেজন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বেগম জিয়াকে সংলাপের আহবান জানিয়েছিলেন। তার জবাবে বেগম জিয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে যে আচারণ করেছিলেন তা দেশের মানুষ ভুলে যায়নি।
বেগম জিয়ার সংলাপের প্রস্তাব নাকচ করে দিয়ে নাসিম বলেন, নির্বাচন কমিশনের কোন সংলাপ ছাড়া অন্য কারো সাথে আওয়ামী লীগ সংলাপে বসবে না।
তিনি বলেন, বেগম জিয়ার আলোচনার প্রস্তাবের কোন গুরুত্ব নেই। তাই সংলাপের ও কোন প্রয়োজন নেই। নির্ধারিত সময় শেষে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
নাসিম বলেন, গত ৫ জানুয়ারির নির্বাচন না হলে দেশে সামরিক শাসন জারী হতো। দেশে কোন গণতন্ত্র থাকতো না। এ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের গণতন্ত্র রক্ষা পেয়েছে। আর নির্বাচন বানচালের জন্য বিএনপি সবকিছু করেছে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সকল ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গণতন্ত্রের বিজয় হয়েছে।
নাসিম বলেন, আওয়ামী লীগ ৫ জানুয়ারি গণতন্ত্রের বিজয় দিবস হিসেবে পালন করবে। এদিন বিএনপি জামায়াত ষড়যন্ত্র করতেই পারে। সেজন্য আমরা এদিন রাজপথে থাকবো এবং এ দিনকে গণতন্ত্রেও বিজয় দিবস হিসেবে পালন করবো।
নাসিম বলেন, আমরাও আন্দোলন করেছি। রাজপথে পুলিশের মার খেয়েছি। কিন্তু কখনো পুলিশের গায়ে হাত তুলিনি।
তিনি বলেন, তখনও পুলিশ ছিল এবং পুলিশের ব্যারিকেডও ছিল। তারপরও আমরা আন্দোলন করেছি।
নাসিম বলেন, জনগণ দেখে নেতারা মার খাচ্ছে কিনা। নেতাদের মার খাওয়া দেখে তারা রাজপথে নেমে আসে। বিএনপি নেতারা মারও খায় না আর আন্দোলনও হয় না।
মায়া আগামী ৫ জানুয়ারি এবং ১০ জানুয়ারি আওয়ামী লীগের কর্মসূচি সম্পর্কে মহানগর আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের নির্দেশনা দেন।
তিনি বলেন, আগামী ৫ জানুয়ারি গণতন্ত্রেও বিজয় দিবস উপলক্ষে দেশের তিনশ’ নির্বাচনী এলাকায় একসাথে বিকেলে শোভাযাত্রা বের করা হবে। এদিন সকাল থেকে রাজধানী ঢাকা সহ সারাদেশে মাইকে জাতির পিতার ভাষণ এবং দেশাত্মবোধক গান বাজবে।
মায়া বলেন, আগামী ৫ জানুয়ারি রাজধানীর প্রতিটি নির্বাচনী এলাকায় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে এবং আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা এ সকল সমাবেশে উপস্থিত থাকবেন।
তিনি বলেন, গত ৫ জানুয়ারির নির্বাচন না হলে দেশের পরিস্থিতি মুক্তিযুদ্ধের চেয়েও ভয়াবহ আকার ধারণ করত।
তিনি বলেন, আগামী ১০ জানুয়ারি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে আওয়ামী লীগের জনসভা অনুষ্ঠিত হবে। আওয়ামী লীগের এ জনসভা জনসমুদ্রে পরিনিত হবে।
কামরুল ইসলাম বলেন, বেগম জিয়ার পুত্র তারেক রহমান মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধু এবং সংবিধান নিয়ে যে কটুক্তি করেছে তার জন্য ক্ষমা না চাইলে বিএনপিকে কোথাও নির্বিঘ্নে জনসভা করতে দেয়া হবে না।
বর্ধিত সভায় থানা, ওয়ার্ড ও ইউনিয়নের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকগণ উপস্থিত ছিলেন।