Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

সকাল ৭:০৫ ঢাকা, সোমবার  ১৯শে নভেম্বর ২০১৮ ইং

মেনন
সচিবালয়ে রোববার সংবাদ সম্মেলনে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন

প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমানের ত্রুটি ‘উদ্দেশ্যমূলক’ কি না জানতে মামলা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বহনকারী বিমানের যান্ত্রিক ত্রুটি ছিল মনুষ্য সৃষ্ট। তবে তা উদ্দেশ্যমূলক ছিল কি না জানতে সুনির্দিষ্ট অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হবে।

বিমান মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর সচিবালয়ে রোববার সংবাদ সম্মেলনে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন এ কথা জানিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হাঙ্গেরির বুদাপেস্টে ‘পানি সম্মেলন-২০১৬’ তে অংশ নিতে ২৭ নভেম্বর বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি বিশেষ ফ্লাইটে ঢাকা ত্যাগ করেন। পথিমধ্যে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলে বিমানটি তুর্কমেনিস্তানের আশখাবাদে জরুরি অবতরণ করে।

এ ঘটনায় ২৮ নভেম্বর বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স এবং বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) আলাদাভাবে কমিটি গঠন করে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে গত ৩০ নভেম্বর বিমানের ইঞ্জিনিয়ারিং ও কারিগরি বিভাগের ছয় কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করার কথা জানান রাশেদ খান মেনন।

তখন তিনি বলেছিলেন, বিমানের তেল চলাচলের পাইপে একটি নাট ঢিলা হওয়ার কারণে জ্বালানির চাপ কমে যায়। এ কারণে বিমানের জরুরি অবতরণ করতে হয়েছে। এক্ষেত্রে হিউম্যান ফেইল্যুর ফ্যাক্টর (মনুষ্য গাফিলতিজনিত বিষয়) প্রধান কারণ বলে কমিটি চিহ্নিত করেছে।

এরপর ১৪ ডিসেম্বর বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের তিনজন শীর্ষ প্রকৌশলীকেও সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

আজকের সংবাদ সম্মেলনে বিমানমন্ত্রী বলেন, ‘বিমানের বি-নাটটি ঢিলা থাকায় ওয়েল প্রেসার কমে যায়। একপর্যায়ে এটা নিশ্চিতভাবে বিপজ্জনক হতে পারতো। আমাদের সৌভাগ্য প্রধানমন্ত্রীর কোনো ক্ষতি হয়নি। কিন্তু এর চেয়ে বড় রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন আর কিছু পারে না।’

তিনি বলেন, ‘ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর জীবননাশের বহু চেষ্টা হয়েছে। কখনো একেবারে প্রকাশ্যে আবার কখনো গোপনে। সেক্ষেত্রে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিষয়টি তদন্ত করার জন্য তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।’

রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন জমা দেয়ার শেষ সময় ছিল বৃহস্পতিবার। তারা আজকে (রোববার) সকালে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।’

তিনি জানান, বেবিচকের তদন্ত প্রতিবেদন ইতিমধ্যে বেবিচকের চেয়ারম্যানের কাছে প্রদান করা হয়েছে। আর বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের তদন্তের ভিত্তিতে ইতিমধ্যে নয়জনের বিরুদ্ধে প্রাথমিক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘তিনটি তদন্ত প্রতিবেদনেই একটি বিষয় এসেছে- পুরো ঘটনাটি অর্থাৎ বি-নাট ঢিলা হওয়ার ব্যাপারটি মনুষ্য সৃষ্ট। তিনটি রিপোর্টে বলা হয়েছে এখানে হিউম্যান ফ্যাক্টর ইনভলব।’

‘তবে এই হিউম্যান ফ্যাক্টরটি কি ইনটেশনাল (উদ্দেশ্যমূলক) নাকি আনইনটেশনাল- স্বাভাবিকভাবেই এই তদন্ত কমিটিগুলোর পক্ষে সেটা নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি’ যোগ করেন তিনি।

বিমানমন্ত্রী বলেন, ‘মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটির একটি পরামর্শ আমরা বিবেচনায় নিয়েছি। সেটি হলো- এখন নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের আইনের আওতায় এনে এটা কোনো নাশকতামূলক কাজ কি না অথবা অবহেলাজনিত কোনো কাজ ছিল কিনা সেটা নির্ধারণ করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘এক্ষেত্রে নাশকতার সামান্যতম প্রমাণ পাওয়া গেলে সর্বোচ্চ শাস্তির যে বিধান রয়েছে, সে অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

এসময় রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘তিনটি তদন্ত প্রতিবেদন সমন্বিত করে সার-সংক্ষেপ আগামী দু-একদিনের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীসহ তার কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হবে। সেখানেই পরবর্তী পদক্ষেপগুলো ঠিক করা হবে।’

তিনি আরও জানান, মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে নিরাপত্তাজনিত সাতটি, ভিভিআইপি ফ্লাইটের নিরাপত্তা নিশ্চিতে চারটি, বেবিচকের জন্য তিনটি, বিমানের জন্য ১০টি সুপারিশ রয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটিতে কয়জনকে দায়ী করা হয়েছে জানতে চাইলে বিমানমন্ত্রী বলেন, ‘বরখাস্ত হওয়া নয়জন তো আছেই, আরও হয়তো যুক্ত হবে। তাই সংখ্যা বলা এ মুহূর্তে যুক্তিযুক্ত হবে না।’

বরখাস্ত হওয়া নয়জনের বিরুদ্ধে মামলা হচ্ছে কি না এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘সবার বিরুদ্ধে মামলা করা হবে কি না তা পরীক্ষা করা হচ্ছে। সুপারিশ রয়েছে সুনির্দিষ্টভাবে মামলা করার জন্য, আইনি পদক্ষেপ নেয়ার জন্য। এটা করা ছাড়া আমাদের সামনে কোনো পথ নেই।’

মামলা কারা করবে- সাংবাদিকরা জানতে চাইলে রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘আমরা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানাবো। আমাদের পক্ষ থেকে যদি করতে হয়, তবে আমরা করবো অথবা বিমান করবে। যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া দেখে এটা ঠিক করা হবে।’

এ ঘটনায় মন্ত্রীর দায় আছে কি না- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমি তো নৈতিক দায় সব সময়ই স্বীকার করি। তার মানে এই নয় যে আমার দায় আছে। আপনাদের বিবেচনায় যদি থাকে তবে তাই।’

সংবাদ সম্মেলনে বিমান ও পর্যটন সচিব এসএম গোলাম ফারুক উপস্থিত ছিলেন।