ব্রেকিং নিউজ

বিকাল ৫:২০ ঢাকা, বুধবার  ২৬শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

প্রত্যেকের জন্য ডিজিটাল আর্থিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন: ডাচ রানী

নেদারল্যান্ডসের সফররত রানী ম্যাক্সিমা দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে ডিজিটাল অর্থায়নের মাধ্যমে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাসহ সব দরিদ্র ও পল্লীর মানুষের আর্থিক অন্তর্ভুক্তির লক্ষ্যে বাংলাদেশের প্রয়াসের প্রশংসা করেছেন।
রানী আজ এখানে রাজবাড়ী ইউনিয়নে একটি ডিজিটাল কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের কাছে তাঁর প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, বাংলাদেশ ডিজিটাল মোবাইল আর্থিক ব্যবস্থার মাধ্যমে সব মানুষের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করতে উদ্যমশীলতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে।
ম্যাক্সিমা ২০০৯ সাল থেকে বিশ্বব্যাপী উন্নয়নে অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার প্রচারে জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত হিসেবে কাজ করছেন।
মোবাইল ব্যাকিংয়ে বাংলাদেশের প্রচেষ্টার প্রশংসা করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের সর্বত্র ব্যাংকের শাখা খোলা খুবই ব্যয়বহুল এবং তা সম্ভব নয়। ‘
রানী বলেন, বাংলাদেশের প্রচুর সম্ভবনা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে ইতোমধ্যে অনেক উদ্যোগও নেয়া হয়েছে। তবে প্রাতিষ্ঠানিক আর্থিক ব্যবস্থায় প্রত্যেককে যুক্ত করতে আরো অনেক কিছু করার রয়েছে। বাংলাদেশে প্রত্যেকের জন্য ডিজিটাল আর্থিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন। বীমা, ঋণ ও অধিক সঞ্চয় সুবিধার মাধ্যমে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর উন্নত ও সহজতর জীবন যাত্রা নিশ্চিত করতে হবে।
আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ত্বরান্বিত করতে আগামী বছরগুলোতে বাংলাদেশে অনেক বিধি-বিধান প্রণীত হবে-একথা উল্লেখ করে তিনি আশাবাদ প্রকাশ করে বলেন যে অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক প্রক্রিয়ার সুবাদে এসব ব্যবস্থা বাংলাদেশের মানুষকে ব্যাপক প্রবৃদ্ধির সুযোগ করে দেবে।
রানী প্রত্যেকের জন্য বীমার ব্যবস্থা করার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, দুর্ঘটনা ঘটতে পারে, এজন্য বিভিন্ন ঝুঁকির বিপরীতে বীমা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
ডাচ রানী ইউএনডিপির সহায়তায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এ টু আই প্রোগ্রামের রাজবাড়ী ইউনিয়ন ডিজিটাল কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। এতে পল্লীর মানুষ ডিজিটাল সেবার মাধ্যমে ব্যাংকিংসহ কিভাবে বিভিন্ন রকমের সেবা পাচ্ছে তা তিনি প্রত্যক্ষ করেন।
তিনি বলেন, ‘বাস্তবে আগে এটি সম্ভব ছিলো না। আমি মনে করি, এগুলো ভালো এবং নতুন উদ্ভাবন।’
ইউনিয়ন সেন্টার চত্বরে রানী ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের সঙ্গে মতবিনিম করেন। এটি বাংলাদেশ সরকারের একটি যুগান্তকারী সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কার্যক্রম।
আর্থিক অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের অবস্থান প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে রানী বলেন, আর্থিক অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে এক দেশের সঙ্গে অপর কোনো দেশের তুলনা করা কঠিন, তবে ক্ষুদ্র ঋণ অর্থায়নে বাংলাদেশের বলিষ্ঠ অভিজ্ঞতা রয়েছে এবং বর্তমান ডিজিটাল অর্থায়ন উদ্যোগ অন্যান্য দেশগুলোর জন্য একটি ভালো দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে।
এর আগে তিনি আর্থিক অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে আরএমজি নারী শ্রমিকরা কিভাবে সুবিধা ভোগ করছে তা পর্যবেক্ষণে এখানে ভিয়েলাটেক্স গ্রুপের গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি পরিদর্শন করেন।
রানী এখানে আরএমজি কর্মীদের অভিজ্ঞতা ও ডিজিটাল পদ্ধতিতে মজুরি-ভাতা প্রাপ্ত গার্মেন্টস শ্রমিকদের মতো নি¤œ আয়ের লোকদের চাহিদা সম্পর্কে খোঁজ-খবর নেন।
ঢাকা ফেরার পথে রানী টঙ্গি ব্র্যাক ব্যাংকের এসএমই উদ্যোক্তাদের বুটিক হাউস পরিদর্শন করেন।
ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান স্যার ফজলে হাসান আবেদন,নেদারল্যান্ডে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত শেখ মোহাম্মদ বেলাল, ঢাকায় নিযুক্ত ডাচ রাষ্ট্রদূত লিউনি মারগারেতা কুয়েলানায়েরা এবং ঢাকায় জাতিসংঘের আবাসিক প্রতিনিধি রবার্ট ওয়াটকিংস এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন।
জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত হিসেবে ডাচ রানী তিনদিনের সফরে সোমবার সকালে ঢাকা পৌঁছান।