ব্রেকিং নিউজ

রাত ১:১৩ ঢাকা, বুধবার  ১২ই ডিসেম্বর ২০১৮ ইং

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন

প্রতিবাদের ঝড় থামাতে আয়কর বিবরণী প্রকাশ করলো ডেভিড ক্যামেরন

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন পানামা পেপারস কেলেঙ্কারির সূত্র ধরে রোববার তার ছয় বছরের আয়কর বিবরণী প্রকাশ করেছেন।

তিনি ২০১৪-১৫ সালে ২ লাখেরও বেশি পাউন্ডের আয়ের বিপরীতে কর দিয়েছেন ৭৬ হাজার পাউন্ড। পানামা পেপারস কেলেঙ্কারিতে তার নাম আসায় ব্রিটেনে যে প্রতিবাদ বিক্ষোভের ঝড় ওঠে তার অবসান ঘটাতে তিনি এই বিবরণী প্রকাশের উদ্যোগ নিলেন।

উল্লেখ্য, এই প্রথম ব্রিটেনের কোন প্রধানমন্ত্রী তার আয়কর বিবরণী প্রকাশ করলেন।

প্রকাশিত বিবরণী থেকে দেখা গেছে, ক্যামেরন তার বাবার কাছ থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে ৩ লাখ পাউন্ড ছাড়াও মায়ের কাছ থেকে উপহার হিসেবে আরো ২ লাখ পাউন্ড পেয়েছেন। সমালোচকরা প্রশ্ন তুলছেন- মায়ের কাছ থেকে পাওয়া উপহারও কি অফশোর কোম্পানির তহবিলের অংশ কি-না।
শনিবার ক্যামেরন স্বীকার করেছেন তিনি ভাল কোন সপ্তাহ পার করছেন না। কারণ তিনি মনে করছেন পরিস্থিতি আরো ভালভাবেই সামাল দেয়া উচিত ছিল। যদিও প্রথমে তিনি বলেছিলেন, এটি একটি ব্যক্তিগত ব্যাপার।

ক্যামেরন এখন বলছেন, ‘আমি জানি শেখার অনেক কিছু আছে। আমি এসব থেকে শিখবো। তবে আপনারা ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিট অথবা নামহীন উপদেষ্টাদের দায়ী না করে আমাকে অপবাদ দিন।’

তিন পৃষ্ঠার আয়কর বিবরণী থেকে দেখা গেছে, ক্যামেরন ২০০৯ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত মোট ১১ লাখ পাউন্ড আয় করেছেন। আয়কর দিয়েছেন ৪ লাখ পাউন্ড।

এদিকে মধ্য লন্ডন থেকে ট্রাফালগার স্কয়ার পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভ থেকে প্রধানমন্ত্রী ক্যামেরনের পদত্যাগ দাবি করা হয়েছে। শনিবার আয়োজিত এই বিক্ষোভে স্থবির হয়ে পড়ে শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থা।

পানামা ভিত্তিক ল’ফার্ম মোসাক ফনসেকার সমর্থনে যেসব অফশোর কোম্পানির নাম ফাঁস হয়েছে তাতে ক্যামেরনের মৃত পিতা আয়ান ক্যামেরনের বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানেরও নাম রয়েছে। ক্যামেরন স্বীকার করেছেন, এ বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানে তার শেয়ার রয়েছে। চূড়ান্তভাবে একথা স্বীকারের পর বিক্ষোভকারীরা তার পদত্যাগের দাবিতে রাস্তায় নেমে আসে।

উল্লেখ্য, কর ফাঁকি দেয়ার লক্ষে বিশ্বের অনেকেই অফশোর কোম্পানিগুলোতে তাদের অর্থ মজুদ করেন। পানামা ভিত্তিক ল ফার্ম মোসাক ফনসেকা এসব ফার্মকে সহায়তা করেছে। বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অনেকের মধ্যে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন থেকে শুরু করে আইসল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীও রয়েছেন। পুতিন তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করলেও আইসল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডেভিড গানলাকসন ইতোমধ্যে পদত্যাগ করেছেন।

শীর্ষ মিডিয়া