Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

রাত ৯:৩৪ ঢাকা, বুধবার  ২১শে নভেম্বর ২০১৮ ইং

ফাইল ফটো

প্রতিবন্ধীদের ঝুঁকি কমাতে বিশেষ পরিকল্পনা দরকার : সায়মা

অটিজম বিষয়ক জাতীয় উপদেষ্টা কমিটির চেয়ারপার্সন সায়মা হোসেন বলেছেন, প্রতিবন্ধী মানুষের দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসে বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করা উচিত।
তিনি আজ অক্ষমতা ও দুর্যোগ ঝুকি ব্যবস্থাপনা শীর্ষক ঢাকা সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বলেন, ‘প্রতিবন্ধী মানুষেরা যে কোন প্রাকৃতিক ও মানব সৃষ্ট দুর্যোগকালে অসহায় অবস্থায় পড়ে। অতএব দুর্যোগকালে দৈহিক ও মানসিক প্রতিবন্ধী লোকদের জীবন রক্ষায় বিশেষ পরিকল্পনা নেয়া প্রয়োজন।’
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়, সেন্টার ফর ডিসএ্যাবিলিটি ইন ডেভেলপমেন্ট (সিডিডি) এবং ন্যাশনাল ফোরাম অব অর্গানাইজেশন ওয়ার্কিং উইথ দ্য ডিসএ্যাবল্ড (এনএফওডাব্লিউডি) বাংলাদেশ কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে যৌথভাবে তিন দিনব্যাপী এই সম্মেলনের আয়োজন করে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন মায়া, বীর বিক্রম, নারী ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি, ইউএনআইএসডিআর-এর এ্যাডভোকেসি ও প্রচার বিভাগের প্রধান ড. জেরি ভেলাসকোয়েজ প্রমুখ অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। এতে সভাপতিত্ব করেন সমাজ কল্যাণ সচিব তারিখ-উল-ইসলাম।
সায়মা তার মুল প্রবন্ধ উপস্থাপনায় বলেন, ‘আমার নানা (বঙ্গবন্ধু) যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিয়েছিলেন। আমার মাও (প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা) যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের পাশাপাশি প্রতিবন্ধীদের কল্যাণে একই পথ অনুসরণ করছেন।’
সায়মা বলেন, দুর্যোগকালে শারীরিক ও মানসিকভাবে চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন লোকদের প্রেক্ষাপটে আমাদেরকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বিষয়টি চিন্তা করতে হবে। এই প্রক্রিয়া দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসের লক্ষ্যে পরিকল্পনায় প্রক্রিয়ায় যথাযথ তথ্য প্রদান করবে।
তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ অনেক আন্তর্জাতিক ফোরামে মানবজাতির কল্যাণে বিভিন্ন ইস্যুতে সফলভাবে নেতৃত্ব দিচ্ছে। আমি আশা করি বাংলাদেশ দুর্যোগকালে শারীরিক ও মানসিক চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন লোকদের জীবন রক্ষার জন্য অনুরূপ প্রয়াস চালিয়ে যাবে।
যুক্তরাষ্ট্রে হারিকেন ঝড় ও জাপানে সুনামির উল্লেখ করে সায়মা বলেন, এই দু’টি দেশে প্রতিবন্ধী ও প্রবীণ লোকজন এবং নারী ও শিশুরা প্রাকৃতিক দুর্যোগকালে সবচেয়ে বেশি কষ্ট ভোগ করেছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষজ্ঞ পরামর্শক প্যানেলের সদস্য সায়মা বলেন, শারীরিক প্রতিবন্ধী মানসিক ব্যাধিতে আক্রান্ত লোকজনের মৃত্যুর হার এসব ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের চেয়ে বেশি।
তিনি আরো বলেন, তাই, মানুষ সৃষ্ট ও প্রাকৃতিক দুর্যোগকালে প্রতিবন্ধীদের জীবন রক্ষার জন্য তাদের চ্যালেঞ্জ ও সমস্যাগুলো অন্তর্ভুক্ত করে দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হবে।
মায়া বলেন, ভৌগোলিক অবস্থান ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের কারণে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি দুর্যোগপ্রবণ দেশগুলোর অন্যতম বাংলাদেশে এই ধরনের ঝুঁকি আরো বাড়ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের ফলে দেশে দুর্যোগের ঘটনা ও তীব্রতা ক্রমান্বয়ে বেড়েই চলেছে।
তিনি বলেন, প্রতিবন্ধীসহ নারী শিশু ও প্রবীণ লোকজন অন্যান্য সক্ষম লোকজনের তুলনায় সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ ও ক্ষতিগ্রস্ত। সরকার ভিন্ন ভিন্ন অবস্থায় সক্ষম লোকদের জন্য অবকাঠামো, শিক্ষা ও কর্মসংস্থান সুবিধার উন্নয়নসহ প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করছে।
মায়া বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালে সাইক্লোন শেল্টার ও মুজিব কেল্লা স্থাপন করার মাধ্যমে দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস কর্মকান্ডের সূচনা করেছিলেন। মন্ত্রী আরো বলেন, তারপর ১৯৭৪ সালে তিনি প্রতিবন্ধীদের জন্য ৪৭টি মহকুমায় সমন্বিত শিক্ষা কর্মসূচি শুরু করেছিলেন। পরে তা ৬৪ জেলায় সম্প্রসারণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, দুর্যোগ পরবর্তী সময়ে প্রবীণ, নারী, শিশু ও প্রতিবন্ধীদের রক্ষা করার লক্ষ্যে আমরা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন ২০১২-এর ২৭ ধারার অধীনে তাদের জন্য বিধান রেখেছি। প্রতিবন্ধী লোকদের সহজ প্রবেশাধিকারের লক্ষ্য আশ্রয় কেন্দ্রের নকশা তৈরির সময় আরএএমপি নির্মাণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
বর্তমান সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করার ফলে আমরা ঘূর্ণিঝড় ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগকালে জানমালের ক্ষতি কমিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছি।
চুমকি বলেন, নারীরা দেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেক এবং অনুরূপভাবে শিশুদের সংখ্যাও মোট জনসংখ্যায় একটি উল্লেখযোগ্য অংশ। তাই, মানবসৃষ্ট ও প্রাকৃতিক দুর্যোগকালে নারী ও শিশুদের জীবন রক্ষায় বিষয়টিকে প্রাধান্য দেয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।