ব্রেকিং নিউজ

বিকাল ৪:৩৯ ঢাকা, মঙ্গলবার  ২৫শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

রুহুল কবির রিজভী
রুহুল কবির রিজভী, ফাইল ফটো

‘প্রতিপক্ষকে দুরমুস করতেই বিচারপতিদের অভিশংসন আইন’

ক্ষমতার মসনদকে নিস্কন্টক ও প্রতিপক্ষকে দুরমুস করতেই বিচারপতিদের অভিশংসন ও অপসারণের ক্ষমতা সুপ্রীম জুডিসিয়াল কাউন্সিলের পরিবর্তে এখন জাতীয় সংসদের ওপর ন্যস্ত করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছে বিএনপি।

বুধবার বেলা সাড়ে ১১টায় নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা জাতীয় সংসদের হাতে নিতে সম্প্রতি নতুন আইন পাশ করেছে মন্ত্রীসভা। এর ফলে বিচারপতিদের অভিশংসন ও অপসারণের ক্ষমতা সুপ্রীম জুডিসিয়াল কাউন্সিলের পরিবর্তে এখন জাতীয় সংসদের ওপর ন্যস্ত হবে। বিচারপতিদের পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ ও তাদের ওপর নগ্ন আগ্রাসন করতেই এমন আইন করা হচ্ছে বলে মনে করে বিএনপি। এটি স্বাধীন বিচারকার্য পরিচালনায় বাধার সৃষ্টি করবে এবং মানুষ ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হবে। এটি পাসের মাধ্যমে সরকার পুরোপুরি বিচারপতিদের আচরণ নিয়ন্ত্রণ করবে। এই পুরো প্রক্রিয়াটিই ভীতিকর। চাপ সৃষ্টির জন্যই এটি করা হচ্ছে। বিচারপতিরা যেন সরকারের ইচ্ছামতো কাজ করে সেজন্যই এই আইন করা হচ্ছে। এই আইন কার্যকর হলে ন্যায়বিচার শিকেয় উঠবে। এই আইন পাশের মাধ্যমে সরকার বিচার ব্যবস্থাকে বিরোধী দল সহ গণমাধ্যম এবং গণতন্ত্রে স্বীকৃত সকল অধিকারকে আরো নিষ্ঠুরভাবে দমন করতে সক্ষম হবে। এই আইন প্রণয়নের প্রধান লক্ষ্যই হচ্ছে ক্ষমতার মসনদকে নিস্কন্টক করা এবং তাদের প্রতিপক্ষকে দুরমুস করা। সম্প্রতি ভোটারবিহীন সরকারের তিন জন মন্ত্রী উচ্চ আদালতে দন্ডিত হওয়ায় সরকারের মধ্যে একধরনের ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। আর সে কারনেই তড়িঘড়ি করে বিচারপতিদেরকে নিয়ন্ত্রণ করতেই এই নতুন আইন পাশ হতে যাচ্ছে বলে জনগণ বিশ্বাস করে। বিচার বিভাগকে নিয়ন্ত্রণের এই আইন পাশ করা হলে সংবিধানের সর্বশেষ স্তম্ভটুকুও বিলীন হয়ে যাবে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন-বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মোসতাক মিয়া, হারুন-অর রশিদ, সহ-দপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু, স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, এস এম আশরাফুর রহমান আশরাফ ও যুবদলের কেন্দ্রীয় সদস্য গিয়াস উদ্দিন মামুন প্রমুখ।