Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

সকাল ১১:৪৭ ঢাকা, বৃহস্পতিবার  ১৫ই নভেম্বর ২০১৮ ইং

প্রতিটি উপজেলায় চক্ষু বিশেষজ্ঞ নিয়োগ-জেলায় মেডিকেল কলেজ হবে : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আমরা উপজেলা হাসপাতালেও চক্ষু বিশেষজ্ঞ নিয়োগ দেব। ’নতুন চিকিৎসক তৈরির মাধ্যমে উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে তাঁর সরকারের সিলেটে একটি পৃথক মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ও দেশের প্রতিটি জেলায় একটি করে মেডিকেল কলেজ স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জনগণের দোরগোড়ায় উন্নত চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেয়াই আমাদের লক্ষ্য। এজন্য সিলেটে একটি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হবে এবং জনসংখ্যার বিবেচনায় প্রতি জেলায় একটি করে মেডিকেল কলেজ স্থাপনের চিন্তা-ভাবনাও রয়েছে।’

pm122

প্রধানমন্ত্রী আজ সকালে রাজধানীর ফার্মগেট কৃষিবিদ মিলানায়তনে বাংলাদেশ চক্ষু চিকিৎসক সমিতির ৪৩তম বার্ষিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে এ কথা বলেন।

চট্টগ্রাম এবং রাজশাহীতে পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “অনেকেই মনে করেন চট্টগ্রাম এবং রাজশাহী মেডিকেল কলেজই বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তিরত হবে। কিন্তু আমরা তা করছি না এবং করবোও না। বিশ্ববিদ্যালয় দু‘টি সম্পূর্ণ পৃথক ও পূর্ণাঙ্গ প্রতিষ্ঠান হবে। যেখানে শিক্ষার্থীরা স্নাতকোত্তর শিক্ষা লাভ করবে ও গবেষণার সুযোগ পাবে। স্নাতকোত্তর পর্যায়ের নিচের শিক্ষার্থীরা মেডিকেল কলেজে পড়াশোনা করতে পারবে।”
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন বিভাগ এবং জেলা পর্যায়ের মেডিকেল কলেজগুলো এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হবে।

তিনি বলেন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ যেমন বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত, একইভাবে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ এবং রাজশাহী মেডিকেল কলেজও যথাক্রমে চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় এবং রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হবে।

বাংলাদেশ চক্ষু চিকিৎসক সমিতির সভাপতি ডা. শরফুদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক, বিশিষ্ট চক্ষু বিশেষজ্ঞ ও সাবেক উপদেষ্টা ডা. সৈয়দ মুদাচ্ছের আলী বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন এবং এতে স্বাগত বক্তৃতা দেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. দিন মোহাম্মদ নুরুল হক ।

pm124

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বিশিষ্ট চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা. দিন মোহাম্মদ নুরুল হককে তার পেশাগত দক্ষতার স্বীকৃতি হিসেবে শহীদ ডা. আলিম চৌধুরী স্বর্ণপদকে ভূষিত করেন।

মন্ত্রীবর্গ, সংসদ সদস্যবৃন্দ এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও চিকিৎসক সমাজের প্রতিনিধিগণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

রাজধানীর বাইরে মেডিকেল কলেজ পরিচালনায় শিক্ষক সংকটের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসকরা ঢাকার বাইরে যেতে চান না। এই সমস্যা সমাধানে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।

চিকিৎসা পেশাকে মহৎ পেশা হিসেবে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আপনারা যারা চক্ষু চিকিৎসক বা চক্ষু বিশেষজ্ঞ আছেন, দেশের মানুষ যেন আলোকিত ভবিষ্যৎ পায় সে লক্ষ্যে কাজ করবেন।’

তৃণমূল পর্যন্ত সকলের চক্ষু সেবা নিশ্চিত করতে তাঁর সরকারের উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা উপজেলা হাসপাতালেও চক্ষু বিশেষজ্ঞ নিয়োগ দেব।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসা সরঞ্জাম আমদানিতে শুল্ক হ্রাস করা হয়েছে। কোন কোন ক্ষেত্রে তা শুল্ক মুক্ত করা হয়েছে। চক্ষু চিকিৎসার সরঞ্জাম আমদানিও শুল্ক মুক্ত হওয়ার কথা। তবে এটা না হয়ে থাকলে এ ব্যাপারে উদ্যোগ নেয়া হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, মানসস্মত চিকিৎসা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। নার্স সংকটের সমাধানে এ পেশার উন্নয়নে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা প্রদানের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নার্সিং একটি সন্মানজনক পেশা, এটা মানুষকে বোঝাতে হবে । তিনি বিজ্ঞান, কলা ও বাণিজ্য অনুষদের শিক্ষার্থীদেরও নার্সিং কোর্সে যোগ দেয়ার সুযোগ করে দেয়ার পরামর্শ দেন।

প্রধানমন্ত্রী বর্তমান প্রজন্মকে অত্যন্ত মেধাবী হিসেবে অভিহিত করে বলেন, নবম শ্রেণীর পাঠ্যসূচিতে সায়েন্স ও আর্টসের সঙ্গে নাসিং কোর্স অন্তর্ভূক্ত করা যেতে পারে। এতে শিক্ষার্থীরা সহজেই নার্সিং সম্পর্কে জানতে ও শিখতে পারবে।

স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে বর্তমান সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘গোপালগঞ্জে বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিব চক্ষু বিজ্ঞান ইন্সটিটিউট প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এর ওপর আরো গবেষণা করা হবে, যাতে মানুষ উন্নত সেবা পায়।’

শেখ হাসিনা বলেন,‘এসব ইন্সটিটিউটে বিশেষজ্ঞ তৈরির সঙ্গে চিকিৎসা সেবার মানও বাড়বে। এছাড়া গবেষণার মাধ্যমে এ অঞ্চলে অন্ধত্বসহ বিভিন্ন রোগ-ব্যাধির সৃষ্টির কারণ সম্পর্কেও জানা যাবে।

তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি নতুন নতুন রোগ-ব্যাধি দেখা দিচ্ছে। এসব রোগের প্রতিকার ও চিকিৎসা পদ্ধতি উদ্ভাবনে ব্যাপক গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে। এ ব্যাপারে মানুষের মাঝে সচেতনতাও বাড়াতে হবে। চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকার চিকিৎসা সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে কাজ করে যাচ্ছে।’

অন্ধত্ব ও চোখের রোগ এড়াতে সবাইকে চোখের প্রতি যত্মশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘চোখ থাকতেই চোখের মর্ম বুঝতে হবে।
গর্ভকালীন মায়েদের সচেতনতার ওপর অধিক গুরুত্ব দেয়ার পরামর্শ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জন্মগত অন্ধত্ব ও চোখের রোগ প্রতিরোধে গর্ভকালে মায়েদের আরো সচেতন হতে হবে।

স্বাস্থ্যসহ দেশের মানুষের সব ধরণের মৌলিক চাহিদা পূরণে তাঁর সরকারের অঙ্গীকারের কথা পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, এ লক্ষ্যে তাঁর নেতৃত্বাধীন ১৯৯৬ সালের সরকারের মেয়াদে গ্রামাঞ্চলে কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপনের কাজ শুরু হয়। কিন্তু বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় এসে তা বন্ধ করে দেয়।
তিনি বলেন,‘২০০৯ সালে আমরা আবার ক্ষমতায় এসে কমিউনিটি ক্লিনিক চালু করি। বর্তমানে দেশে কমিউনিটি ক্লিনিকের সংখ্যা সাড়ে ১২ হাজারেরও বেশি। এসব ক্লিনিক থেকে বিনামূল্যে ৩০ ধরনের ওষুধ ও সেবা দেয়া হচ্ছে।

জাতীয় বার্ন ইউনিট ও প্লাস্টিক সার্জারি ইন্সিটিটিউট প্রতিষ্ঠা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৯৬ সালে আমরা বার্ন ইউনিট প্রতিষ্ঠা করি। কিন্তু পরবর্তীতে তা যথাযথভাবে পরিচালনা করা হয়নি। এখন আমরা এ প্রতিষ্ঠানকে জাতীয় বার্ন ইউনিট ও প্লাস্টিক সার্জারি ইন্সিটিটিউট হিসেবে গড়ে তুলছি।
এ সময় শেখ হাসিনা বিএনপি-জামায়াতের অবরোধ কর্মসূচিতে পেট্রোল বোমা ছুঁড়ে নৃশংসভাবে মানুষ পুড়িয়ে হত্যার কথা উল্লেখ করে বলেন, ওরা মানুষ পুড়িয়ে হত্যা এবং জ্বালাও-পোড়াওয়ের মাধ্যমে যে ভয়াবহ নৈরাজ্যের সৃষ্টি করেছিল তা ভাষা প্রকাশ করার মতো নয়। তাদের আন্দোলন লক্ষ্য হচ্ছে জীবন্ত মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করা ।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত সাত বছরে প্রায় সাড়ে ১২ হাজার চিকিৎসক ও ৫ হাজারেরও বেশি নতুন নার্স নিয়োগ দেয়া হয়েছে। নার্সদের মর্যাদা দ্বিতীয় শ্রেণীতে উন্নীত হয়েছে। তিন হাজার মিডওয়াইফার পদ সৃষ্টি এবং এ পদে নিয়োগও দেয়া হয়েছে। নতুন ১০ হাজার নার্স পদ সৃষ্টির প্রক্রিয়া চলছে। স্বাস্থ্যখাতে ২০০৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে।

শেখ হাসিনা জাতির পিতার সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নে ২০২১ সালের মধ্যে দেশকে মধ্যম আয় এবং ২০৪১ সাল নাগাদ উন্নত দেশে পরিণত করতে তাঁর সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে এ লক্ষ্য অর্জনে দেশ ও জাতির সেবায় আরো নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনে চক্ষু বিশেষজ্ঞ ও চিকিৎসকদের প্রতি আহ্বান জানান।