ব্রেকিং নিউজ

সকাল ৭:৪৯ ঢাকা, বৃহস্পতিবার  ১৮ই জানুয়ারি ২০১৮ ইং

প্রকৌশলীর দুর্নীতি

টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) আবদুর রহিমের বিরুদ্ধে চরম স্বেচ্ছাচারিতা, কর্তব্যে অবহেলা, সীমাহীন দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সার্বক্ষণিক কর্মস্থলে না থাকা, ঠিকাদারদের ফাইল আটকে রেখে উৎকোচ আদায়, কর্তৃপক্ষের বিনানুমতিতে কর্মস্থল ত্যাগ ও অসদাচরণসহ বিস্তর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়াও উপজেলা মাসিক সভায় টানা অনুপস্থিত ও ঠিকাদারদের সঙ্গে সমন্বয় হীনতার কারণে উপজেলার চলমান উন্নয়ন কাজ চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে জানা যায়। অনিয়ম দুর্নীতি বন্ধে সম্প্রতি উপজেলার ইউপি চেয়ারম্যানরা ক্ষুব্ধ হয়ে উপজেলা মাসিক সভায় তার বদলির প্রস্তাব এনে রেজুলেশনের মাধ্যমে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রেরণ করেন। এর আগে তিনি নাটোর জেলার লালপুরে উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত থাকা অবস্থায় তার বিরুদ্ধে অসদাচরণ ও দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে তিন বছরের জন্য বেতন স্কেলের  (ইনক্রিমেন্ট ডাউন) অবনমিত রাখার দণ্ড দেয়া হয়। জানা যায়, তিনি লালপুর উপজেলায় থাকাবস্থায় তার বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী বিধিতে অসদাচরণ ও দুর্নীতির দায়ে বিভাগীয় মামলা রজু করা হয়। তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনায় তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বিধি অনুযায়ী লঘুদণ্ড হিসেবে তাকে বেতন স্কেলের নিচু ধাপে অবনমিত রাখার দণ্ড তিন বছরের জন্য আরোপ করা হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে ভারপ্রাপ্ত সচিব (এলজিআরডি মন্ত্রণালয়) আবদুল মালেক স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত এক প্রজ্ঞাপন সম্প্রতি উপজেলার বিভিন্ন ইউপি চেয়ারম্যান বরাবর প্রেরণ করা হয়েছে। সূত্রে জানা গেছে, আবদুর রহিম ২০১৪ সালের ২৭ মার্চ নাগরপুর উপজেলা প্রকৌশলী (ভার.) হিসেবে যোগদান করেন। তার দাবিকৃত উৎকোচ না দিলে ফাইল আটকে দেয়া হয় বলে ভুক্তভোগী একাধিক ঠিকাদার জানান। ঠিকাদার মনির, বারেক ও কাজী বুলবুলকে জিম্মি করে অবৈধভাবে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এছাড়া কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলাপ আলোচনা না করে ৩য় শ্রেণীর কোয়ার্টার (মধুবন) ১ লাখ টাকার সংস্কার কাজ নামে বেনামে নামমাত্র কাজ করে পুরো টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা প্রকৌশলীর আচরণে অতিষ্ঠ হয়ে ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারীরা উপজেলা পরিষদে তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করে। গত মার্চ ২০১৫ মাসের মাসিক সভায় নাগরপুর সদর, সহবতপুর ও মামুদনগর ইউপি চেয়ারম্যানরা তার বদলির প্রস্তাব করেন। অবস্থা বেগতিক দেখে পরের মাস এপ্রিল ২০১৫ মাসের মাসিক সভায় উপস্থিত হয়ে অনাকাক্সিক্ষত পরিবেশ সৃষ্টির জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন উপজেলা প্রকৌশলী আবদুর রহিম। মামুদনগর ইউপি চেয়ারম্যান শেখ কামাল হোসেন জানান, উপজেলা প্রকৌশলীর কাছে কোনো ফাইল পাঠালে চরম হয়রানি করেন। অন্যায় দাবি (পিসি) না মেটালে বিল আটকে দেন। এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকৌশলী আবদুর রহিম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, কোনো ঠিকাদার বা ইউপি চেয়ারম্যান আমার সামনে এসে কোনো অভিযোগ প্রমাণ করতে পারবে না। কাজ বুঝে নেয়াটা আমার অপরাধ।