ব্রেকিং নিউজ

সকাল ১১:১৬ ঢাকা, বৃহস্পতিবার  ২০শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

আমির হোসেন আমু
শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু

প্রকৃত জামদানি তাঁতীদের প্লট দিতে শিল্পমন্ত্রীর নির্দেশ

জামদানি শিল্পনগরির সকল প্লটে গুণগতমানের জামদানি শিল্প স্থাপনে লক্ষ্যে বিসিকের নজরদারি ও পৃষ্ঠপোষকতা বাড়ানোর নির্দেশনা দিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু।

তিনি বলেন, এ শিল্পনগরিতে জামদানি তাঁতশিল্পী ছাড়া অন্য কারো নামে কোনো প্লট বরাদ্দ থাকলে, তা দ্রুত বাতিল করে প্রকৃত তাঁতীদের মাঝে বরাদ্দ দিতে হবে। এক্ষেত্রে কোনো ধরণের শৈথিল্য প্রদর্শন করলে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি সতর্ক করেন।

শিল্পমন্ত্রী আজ রাজধানীর বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর মিলনায়তনে দশ দিনব্যাপী জামদানি প্রদর্শনী-২০১৮ এর উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ নির্দেশনা দেন।

বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশন (বিসিক) এবং বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর যৌথভাবে এর আয়োজন করে।

বিসিক চেয়ারম্যান মুশতাক হাসান মুহাঃ ইফতিখারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম, সংসদ সদস্য গোলাম দস্তগীর গাজী (বীর প্রতীক) এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোঃ এনামুল হক বক্তব্য রাখেন।

আমির হোসেন আমু বলেন, স্বাধীনতা-পরবর্তীতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান গৃহিত নীতির ফলে ঝিমিয়ে পড়া জামদানি শিল্পে প্রাণ চাঞ্চল্য ফিরে আসে। এর ধারাবাহিকতায় জামদানি শিল্পখাত ধীরে ধীরে বিকশিত হতে থাকে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পৃষ্ঠপোষকতায় বর্তমানে জামদানি শিল্প আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে। বাংলাদেশের জামদানি শিল্প এখন ইউনেস্কো ঘোষিত ওয়ার্ল্ড হেরিটেজের অন্তর্ভুক্ত। দেশের জামদানি শিল্পকে ঐতিহ্যবাহী মসলিনের জায়গায় ফিরিয়ে নিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় শিল্প মন্ত্রণালয় কাজ করছে।

শিল্পমন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে জামদানিকে বাংলাদেশের প্রথম ভৌগলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য হিসেবে নিবন্ধন দেয়া হয়েছে। এর ফলে বিশেষ বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন দেশিয় ঐতিহ্যবাহী পণ্য হিসেবে জামদানির সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়েছে। এ উদ্যোগ জামদানির বাণিজ্যিক গুরুত্ব বাড়াবে। এ শিল্পে পণ্য বৈচিত্রকরণের লক্ষ্যে বিসিক জামদানি তাঁতীদের মাঝে নকশা বিতরণ, প্রশিক্ষণ, ঋণ সহায়তা, বিপণন অবকাঠামো তৈরিসহ বিভিন্ন ধরনের সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। জামদানি শিল্পের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে বিসিক পরিচালিত গবেষণার সুপারিশ বাস্তবায়নে শিল্প মন্ত্রণালয় সর্বাত্মক সহায়তা দেবে বলে তিনি জানান।

অনুষ্ঠানে বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের ঐতিহ্যবাহী মসলিন, জামদানি, বেনারশি, সিল্ক, কাতান, টাঙ্গাইল শাড়িসহ বিভিন্ন বস্ত্র এবং পাট শিল্পের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনার নির্দেশনা দিয়েছেন। এ প্রেক্ষিতে পদ্মা নদীর ওপাড়ে প্রায় ২ হাজার কোটি ব্যয়ে নতুন তাঁত পল্লি গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এতে উদ্যোক্তাদের জন্য প্লট, ঋণ সুবিধা, আবাসন, শ্রমিকদের ছেলে-মেয়েদের জন্য শিক্ষা, চিকিৎসাসহ সংশ্লিষ্ট সকল সুবিধাদি নিশ্চিত করা হবে। জামদানি শিল্পের উদ্যোক্তাদের উন্নয়নে বিসিকের পাশাপাশি বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ও সম্ভব সব ধরনের সহায়তা দিতে আগ্রহী বলে তিনি জানান।

উল্লেখ্য, জামদানি শিল্পের সাথে সরাসরি প্রায় ১৫ হাজার মানুষ জড়িত। প্রতিবছর দেশে গড়ে ১ লাখ পিসেরও বেশি জামদানি শাড়ি উৎপাদিত হচ্ছে। জামদানি শাড়ি ছাড়াও ইদানিং পাঞ্জাবী, ফতুয়া, মানিব্যাগ, রুমাল, হাতব্যাগ, মেয়েদের পোশাক, টেবিল ক্লথ ইত্যাদিতে জামদানি নকশার ব্যবহার বাড়ছে। বর্তমানে বাংলাদেশের তৈরি জামদানি শাড়ি ও বস্ত্র ভারত, ভিয়েতনামসহ আমেরিকা ও ইউরোপের দেশগুলোতে রপ্তানি হচ্ছে। দশ দিন ব্যাপী আয়োজিত এ প্রদর্শনীতে ৩৫টি জামদানি শাড়ী ও বস্ত্র প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে। এ প্রদর্শনী প্রতিদিনি সকাল ১০ টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ক্রেতা দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।