ফাইল ফটো

প্রকাশ্যে মূত্রত্যাগের অপরাধে ১০৯ জনের জেল

ভারতের আগ্রা শহরে প্রকাশ্যে মূত্রত্যাগ করার অভিযোগে পুলিশ ১০৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।

পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, দুদিনের এক অভিযানের অংশ হিসেবেই তারা এই লোকদের গ্রেপ্তার করে।

ভারতে প্রকাশ্যে প্রস্রাব করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হলেও সব বড় শহরেই এটা ব্যাপকভাবে ঘটতে দেখা যায়।

আগ্রা রেল পুলিশ কর্তৃপক্ষ বলছে তাজমহলের শহর আগ্রা আর তার আশপাশের বিভিন্ন রেল স্টেশনে প্রকাশ্যে মূত্রত্যাগের দায়ে এদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদের ২৪ ঘন্টার জন্য জেলে পাঠানো হয়েছে এবং প্রত্যেককে জরিমানাও দিতে হয়েছে।

আগ্রার রেল পুলিশ বৃহস্পতি আর শুক্রবার এক বিশেষ অভিযান চালিয়ে এদের আটক করে।
রেল পুলিশের স্পেশ্যাল সুপারিন্টেডেন্ট গোপেশনাথ খান্না সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, “যে আগ্রায় হাজার হাজার দেশী-বিদেশী পর্যটক আসেন সারা বছর, সেই অঞ্চলের স্টেশনগুলিতে মানুষ মূত্রত্যাগ করে আর পানের পিক ফেলে রাখে। মহিলা আর শিশুদের সামনেই অনেকে এটা করেন – কোনও লাজলজ্জাও নেই এঁদের।“

প্রকাশ্যে মল-মূত্রত্যাগ আটকাতে গ্রেপ্তার নতুন ঘটনা হলেও বিভিন্ন এলাকার প্রশাসন এটা বন্ধ করতে বেশ কিছু অভিনব কায়দা নিয়েছে ।

যেমন পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলা প্রশাসন হুমকি দিয়েছিল, যারা প্রকাশ্যে মল-মূত্রত্যাগ করবেন, ধরতে পারলে তাদের মুখের ছবি তুলে গ্রামে ‘হল অফ ফেম’এর আদলে ‘হল অফ শেম’ এর মতো একটা দেওয়ালে সেঁটে দেওয়া হবে। ভোররাতে মাঠেঘাটে পুলিশ নিয়ে প্রহরা দিচ্ছেন সরকারি আধিকারিকেরা – এমন ঘটনাও ঘটেছে।

ভারতে প্রকাশ্যে মলত্যাগ আর মূত্রত্যাগ একটা বড় সমস্যা – সরকার কয়েক লক্ষ বাড়িতে শৌচাগার তৈরির পরিকল্পনা নিয়েছে।

তবে রাস্তা ঘাটে যথেষ্ট সংখ্যক সাধারণ শৌচাগার না থাকার ফলে অনেকেই প্রকাশ্যে মূত্রত্যাগ করেন। আর কাজে কর্মে বেরনো মহিলাদের অবস্থা আরও শোচনীয় হয়ে ওঠে।