Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

বিকাল ৩:১১ ঢাকা, শনিবার  ১৭ই নভেম্বর ২০১৮ ইং

পোস্টারে ছেঁয়ে গেছে তারাবো পৌরসভার বিভিন্ন এলাকা

পৌর নির্বাচন: লক্ষ্য কি ?

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এবং বিরোধীদল বিএনপি, প্রধান দুই দলেরই মাঠ পর্যায়ের নেতা-কর্মিরা বলেছেন, সংগঠন গোছানোর বিষয়কে অন্যতম টার্গেট হিসেবে নিয়েই তারা পৌর নির্বাচনে নেমেছেন।

সরকারে থাকার কারণে তৃণমূলে আওয়ামী লীগের ধারাবাহিক সাংগঠনিক কর্মকান্ড নেই, প্রথমবারের মতো দলীয়ভিত্তিতে পৌর নির্বাচনকে তারা দল গোছানোর বড় সুযোগ হিসেবে দেখছে।

আর দীর্ঘ সাত বছর পর দলীয় প্রতীক নিয়ে মানুষের কাছে যাওয়ার সুযোগকে বিএনপিও দল পুনর্গঠনের কাজে লাগাতে চাইছে।

ঢাকার অদূরে নারায়ণগঞ্জের তারাবো পৌরসভায় গিয়ে দেখা যায়, নির্বাচনী প্রচারণায় বিরোধীদল বিএনপির নেতাকর্মিরা তৎপর হলেও তাদের মধ্যে এক ধরণের ভয় কাজ করছে।

নারায়ণগঞ্জের তারাবো পৌরসভায় একটি বাজারে কথা হচ্ছিল ভোটারদের কয়েকজনের সাথে।বাজারটির একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আব্দুল মজিদ মিয়া বলছিলেন, “এবার সবাই নিজের ভোট নিজে দিতে চাই।কারণ অনেকদিন পর ভোট হচ্ছে।৫ই জানুয়ারির সংসদ নির্বাচনে ভোট দিতে পারি নাই।তাই আমাদের মধ্যে এই ভোট নিয়ে উৎসাহ বেশি।”

প্রাথমিক স্কুল শিক্ষক শাহানা পারভিন দেখছেন, এবার প্রার্থী এবং তাদের সমর্থকরা ঘরে ঘরে গিয়ে ভোট চাইছেন।ফলে ভোটারা ভোট দিতে পারবে, এই আশা তৈরি হয়েছে।

ব্যবসায়ী আনোয়ারুল ইসলাম মনে করেন, প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীকে এই পৌর নির্বাচনে আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি, দুই দলেরই জোর তৎপরতা তারা দেখছেন।এটি তাদের মধ্যে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

তবে ভোটারদের অনেকের মধ্যে এক ধরণের শংকাও রয়েছে যে, তারা ভোট দিতে পারবেন কিনা।

তবে তারাবো পৌরসভা শহরটি এখন প্রার্থীদের এবং বিশেষ করে দুই দলের নেতা-কর্মিদের নির্বাচনী মিছিল,মাইকিং আর পোষ্টার-ব্যানারে অন্যরকম চেহারা নিয়েছে।

দলীয় প্রতীকের শ্লোগানে মুখরিত পৌরসভাটিতে জাতীয় নির্বাচনের মতো একটা আমেজও পাওয়া যাচ্ছে।

বিরোধীদল বিএনপি তাদের দলীয় প্রতিক নিয়ে সর্বশেষ ভোটযুদ্ধে নেমেছিল বিগত সেনা সমর্থিত তত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে ২০০৮ সালে।এখন পৌর নির্বাচন হলেও সাত বছর পর দলটি তাদের প্রতিক নিয়ে তৃণমুলের নেতাকর্মিরা সক্রিয় হয়েছেন।

তবে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ঢাকার দু’টি সিটি করপোরেশন নির্বাচন দলীয় প্রতিকে না হলেও সেই ভোটের দিন বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীরা সরে দাঁড়িয়েছিল।তারাবো পৌরসভাতেও ভোটারদের অনেকে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন, বিএনপি শেষপর্যন্ত ভোটে থাকবে কিনা।

তারাবোতে বিএনপি দলীয় মেয়র প্রার্থী নাসিরউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, তার দল এবার শেষপর্যন্ত এই নির্বাচনে থাকবে।

একইসাথে তিনি বলেছেন, এখনও সরকারের একতরফা আচরণের কারণে তার মধ্যে ভয় কাজ করছে।কারণ তাদের নেতাকর্মিদের একটা বড় অংশ এখনও মামলার কারণে পালিয়ে রয়েছে। এছাড়া পুরোণো মামলায় গ্রেফতারের ভয় দেখানো হচ্ছে।

আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকারের অধীনে ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারির নির্বাচন প্রতিহত করতে ব্যর্থ হওয়ায় বিএনপি সাংগঠনিক কর্মকান্ডও স্থবির হয়ে পড়ে।দীর্ঘ সময় ধরে বিএনপি নেতৃত্ব দল পুনর্গঠনের কথা বললেও তা দৃশ্যমান নয়।এখন পৌর নির্বাচনকে ঘিরে বিএনপির তৃণমুল সক্রিয় হয়েছে।

কিন্তু অনেক জায়গায় প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে তৃণমুলের সাথে আলোচনা না করার অভিযোগ উঠেছে।তারাবোতেই এখনকার মেয়র শফিকুল ইসলাম চৌধুরি বিএনপি থেকে বেরিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে লড়ছেন।

তিনি বলেছেন, মনোনয়ন নিয়ে সমস্যার কারণে অনেক জায়গায় দল গোছানোর পরিবর্তে নেতিবাচক ফল হচ্ছে।

তিনি আরও অভিযোগ করেছেন, দল পুনর্গঠনের কথা বলা হচ্ছে, কিন্তু তৃণমূলের সাথে কথা না বলে কেন্দ্র থেকে প্রার্থী চাপিয়ে দেয়া হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জের তারাবোতে আওয়ামী লীগের সংগঠন এখন পরিবারকেন্দ্রিক। সেখানকার সংসদ সদস্য গোলাম দস্তগীর গাজী।

তাঁর স্ত্রী হাসিনা গাজী মেয়র পদে দলের মনোনয়ন পেয়েছেন। এই মনোনয়নে কারণে তারাবোতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মিদের চাপা দ্বন্দ্ব আরও বেড়েছে বলে দলটির স্থানীয় নেতাদের অনেকে বলেছেন।

তবে গোলাম দস্তগীর গাজী দাবি করেছেন, এই নির্বাচনকে ঘিরে তাদের দল সেখানে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার সুযোগ পেয়েছে।

৫ই জানুয়ারির সংসদ নির্বাচন একতরফা হওয়ায় আওয়ামী লীগ একটা ভাবমূর্তির সংকটে পড়েছিল।

এছাড়াও জঙ্গী তৎপরতাসহ নানান ইস্যূতে সরকার সমালোচনার মুখে রয়েছে।

তারাবোতে আওয়ামী লীগ প্রার্থী হাসিনা গাজী বলছিলেন, দলীয় ভিত্তিতে পৌর নির্বাচন হলেও প্রচারণায় স্থানীয় সমস্যায় সমাধানের অঙ্গিকারগুলিই তিনি তুলে ধরছেন।

মাঠ পর্যায়ের দুই দলের নেতাকর্মিরাই ভাবছেন,পৌরনির্বাচন তাদের সংগঠনের জন্য ইতিবাচক ফল দেবে।তবে সুষ্ঠু অবাধ নির্বাচন অনূষ্ঠানের ওপরই দুই দলের লাভলোকসানের হিসাব নির্ভর করছে।বিবিসি বাংলা