ব্রেকিং নিউজ

রাত ৮:৩৯ ঢাকা, রবিবার  ২৩শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

পেট ভাল তো আপনি ভাল থাকবেন

শ্রাবণ গিয়েছে। কিন্তু শ্রাবণের ধারা অব্যাহত। এই সময়ে পেটরোগা বাঙালির বিপদ। ডায়েরিয়া, আমাশা লেগেই থাকে। অনেকেই হেলাফেলা করেন। অনেকের ভেতর আবার ব্যাপারটা গা-সওয়া হয়ে যায়। কিন্তু দীর্ঘ দিন পেটের সমস্যা চলতে থাকলে নানা বিপত্তি হতে পারে। তাই সচেতন হওয়ার পাশাপাশি, শরীরচর্চা করুন। তবে বাড়াবাড়ি হলে প্রাথমিক ভাবে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। তার পরে শরীরচর্চা।

স্ট্রেচিং এবং যোগাসনের ককটেল: সকালের দিকে শরীরচর্চার সময় বার করতে পারলে খুব ভাল হয়। হাল্কা কিছু খেয়ে নিয়ে কিছু স্ট্রেচিং করুন, যাকে পরিভাষায় বলে ডায়নামিক স্ট্রেচ।

১) ওয়াইপার: মাটিতে চিৎ হয়ে শুয়ে পড়ুন। দু’হাত কাঁধ বরাবর রেখে হাঁটু মুড়ে শরীরের দু’দিকে শূন্যে কোমর ঘোরান। অনেকটা গাড়ির ওয়াইপারের মতো। দু’দিকে ১০ বার করে করুন। এতে কোমর এবং পেটের দু’পাশের পেশি দীর্ঘায়িত হয়।

২) নি টু চেস্ট: চিৎ হয়ে শুয়ে দু’হাত ভাঁজ করে বুকের কাছে দু’সেকেন্ড জাপটে ধরুন। তার পরে ছেড়ে দিন। এ ভাবে ১০ বার করুন। কোমরের নীচের পেশি দীর্ঘায়িত হয়। পরিপাক তন্ত্রে রক্ত সঞ্চালন বাড়ে।

৩) সুপারম্যান: এ বার উপুড় হয়ে শুয়ে পড়ুন। হাত দু’টি শূন্যে তুলুন। একই সঙ্গে শূন্যে তুলুন দু’পা-ও। ঠিক সুপারম্যানের মতো, যেন আকাশে উড়ছেন। মোট ১০ বার শরীর তুলুন আর নামান। এতে পেটের পেশি দীর্ঘায়িত হবে।

এ রকম আরও তিন-চারটি ডায়নামিক স্ট্রেচিং করার পরে দেখবেন ঘাম ঝরছে। এ বার কয়েকটি যোগ স্ট্রেচিং-এ ঢুকে পড়ুন।

ক) ভুজঙ্গাসন: সহজ এবং চেনা আসন। উপুড় হয়ে বগলের পাশ চেপে হাত দু’টিকে ভর দিয়ে বুক মাটি থেকে সাধ্যমতো উপরে তুলুন। দেখবেন পেটের পেশিতে টান লাগছে। ১০ থেকে ৩০ সেকেন্ড ধরে থাকুন এবং পর পর ৩ বার করুন।

খ) জানুশিরাসন: একটি হাঁটু মুড়ে অন্যটা কোমরের সঙ্গে আড়াআড়ি সোজা করে রাখুন। এ বার সোজা রাখা পায়ের পাতা-টা পারলে দু’হাত, নয়তো এক হাত দিয়ে  ধরুন। ১০ থেকে ৩০ সেকেন্ড এ ভাবে ধরে থাকুন। দু’দিকে ৩ বার রিপিট করুন। দেখবেন পেটের বাইরের পেশিতে চাপ পড়ছে।

গ) শলভাসন: উপুড় হয়ে শুয়ে দু’হাতের তালু তলপেটের কাছে রাখুন। এ বার দু’পা শূন্যে তুলে ১০ থেকে ৩০ সেকেন্ড ধরে থাকুন। পর পর তিন বার করুন। চাপ পড়বে তলপেটের পেশিতে। সবগুলি আসনের ক্ষেত্রেই শ্বাস স্বাভাবিক থাকবে।

কার্যকারিতার ব্যালান্স শিট

সবগুলি আসনেরই লক্ষ্য হল পরিপাকতন্ত্র সংলগ্ন পেশিকে দীর্ঘায়িত করা। পাশাপাশি রক্ত সঞ্চালন বাড়ানো। এতে পরিপাকতন্ত্র ভাল থাকে। ভাল হয় বাওয়েল মুভমেন্ট। উপকারী উৎসেচক ক্ষরণ হয়। পেটের অস্বস্তি কেটে হাল্কা ভাব আসে।

মাথায় রাখুন

বাড়াবাড়ি হলে তীব্র শরীরচর্চা এড়িয়ে চলুন। কারণ, শরীর থেকে ঘামের মাধ্যমে বেশি তরল বেরিয়ে গেলে দুর্বল বোধ করবেন। যে হেতু রেস্ট্রিক্টেড ডায়েট নিচ্ছেন, তাই জোরে দৌড়নো, লাফালাফি, সিঁড়িতে ওঠানামা ইত্যাদি এড়িয়ে চলুন। বরং হাল্কা থেকে মাঝারি তীব্রতায় হাঁটা বা জগিং-এর কার্ডিও করুন। এতে শরীরে এনডরফিন নামের একটি ‘ফিলগুড’ হরমোন তৈরি হয়। ভাল লাগার একটা ভাব আসবে। প্যারাসিমপ্যাথেটিক নার্ভ কার্যক্ষম হবে, যাতে পেটের পেশি শিথিল হয়ে খাবার সহজে হজম হবে।

কার্ডিও-কোরের জোট

১) দু’টি জলের বোতল রেখে পা মেপে ১০ পা দূরত্ব বানান। এ বার পাশাপাশি হাল্কা গতিতে জগিং করে এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত ছ’বার আসা-যাওয়া করুন। ঠিক তার পরেই মেঝেতে উপুড় হয়ে কনুই আর পায়ের পাতায় ভর দিয়ে করুন ‘প্ল্যাংক’। একটা পা পাশে সরিয়ে শূন্যে ধরে থাকুন। দু’দিকে ১০ সেকেন্ড করে পা শূন্যে রাখুন। এর পর দু’মিনিট বিশ্রাম নিয়ে ২-৩ বার ড্রিলটা রিপিট করুন।

২) এক জায়গায় দাঁড়িয়ে দ্রুত হাঁটার ভান করুন। স্পট জগিংও করতে পারেন। ৩০ সেকেন্ড করার পর মাটিতে বসে পড়ুন। হাঁটু ভাঁজ করে শরীরটা পিছন দিকে হেলিয়ে রেখে, একটা হাল্কা বল হাতে ধরে শরীরের বাম আর ডান দিকে পর্যায়ক্রমে নিন, দু’দিকে ৬-৮ বার করে। তার পরে দু’মিনিটের বিশ্রাম নিন। ২-৩ বার ড্রিলটা রিপিট করুন। এই শরীরচর্চাটির নাম ‘সিটেড রাশিয়ান ট্যুইস্ট’। বল না থাকলে ৫০০ মিলিলিটারের জলভর্তি বোতলও নিতে পারেন।

এই দু’টি শরীরচর্চায় পেটের গভীরের পেশির জোর বাড়বে। পেটের অসুখের সঙ্গে মানসিক অবসাদের একটা সম্পর্ক আছে। এনডরফিন আর সেরোটোনিন হরমোন তৈরি হওয়াতে অবসাদও কাটবে। সূত্র আনন্দ বাজার পত্রিকা ।