ব্রেকিং নিউজ

সকাল ১১:৫৭ ঢাকা, বৃহস্পতিবার  ২৪শে মে ২০১৮ ইং

পুলিশ-মানবাধিকার কমিশন মুখোমুখি অবস্থানে, ড. মিজান জঙ্গিবাদকে উস্কে দিচ্ছেন : ডিএমপি

বৃহস্পতিবার মানবাধিকার চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান পুলিশের বিরুদ্ধে বাড়াবাড়ি করার অভিযোগ তুলে বলেন,একটি জেলার পুলিশ কর্মকর্তারা যেন আইনের ঊর্ধ্বে উঠে গেছেন।  সভ্য সমাজে তারা যে ধরনের ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেন তা মেনে নেওয়া যায় না। কেউ নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে জড়িত থাকলেও তাকে গুলি করার কোনো অধিকার পুলিশের নেই ,অপরাধীকে সাজা দেওয়ার জন্য আদালত আছে। পুলিশ কখনোই কারো উপর অমানবিক আচরণ করতে পারে না। মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যানের বক্তব্য গণমাধ্যমে প্রচারের পর রাতে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে একটি বিবৃতি দিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ ।

রাতে ডিএমপি’র উপ পুলিশ কমিশনার মাসুদুর রহমান স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে অভিযোগ করেছেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন  হিজবুত তাহরীর বাংলাদেশের সক্রিয় সদস্য নাফিস সালামকে হাসপাতালে দেখতে গিয়ে পরোক্ষভাবে জঙ্গিবাদকে উস্কে দিচ্ছেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান।সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে তিনি রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা পুলিশ বাহিনীর চেইন অব কমান্ড সম্পর্কে অনভিপ্রেত মন্তব্য করেছেন। যা পুলিশ বাহিনীর মনোবল ভেঙ্গে দিতে পারে এবং এর ফলে জনশৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এছাড়াও এ বক্তব্য পুলিশ বাহিনীর মধ্যে শৃঙ্খলা বিনষ্টের কারণ হতে পারে।

ডিএমপির দাবি, হিযবুত তাহরীর একটি নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন। নাফিস সালাম এই সংগঠনের তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক পরামর্শক। ড. মিজানুর রহমান বাংলাদেশ সরকারের একটি সাংবিধানিক গুরুত্বপূর্ণ পদে কর্মরত। তিনি এ পদে কর্মরত থেকে একজন আসামির সঙ্গে আদালতের অনুমতি ব্যতীত হাসপাতালে দেখা করতে গিয়েছেন। এতে আইন এবং শিষ্টাচার লঙ্ঘিত হয়েছে। যা ভবিষ্যতে অন্যান্য নাগরিকদের মধ্যে আইন লংঘনের প্রবণতা সৃষ্টি করতে পারে। তদুপরি যাচাই বাছাই ব্যতীত নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি জঙ্গি সন্ত্রাসী সংগঠনের আসামির বক্তব্যের ভিত্তিতে একতরফাভাবে বক্তব্য প্রদান জঙ্গিবাদকে উৎসাহিত করতে পারে। এর মাধ্যমে তদন্ত কাজ বাধাগ্রস্ত হতে পারে

ডিএমপির দাবি গত বছর ডিসেম্বর মাসেও একটি নিদিষ্ট জেলাকে কটাক্ষ করে বক্তব্য প্রদান করেন ড. মিজানুর রহমান। এবারও একই সুরে কথা বলছেন।

ডিএমপির বিবৃতিতে আরো বলা হয়,  ড. মিজানুর রহমান এর বক্তব্যে বর্তমান সরকারের জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে অবস্থানের বিষয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ভুল ইঙ্গিত দিতে পারে। একটি সাংবিধানিক পদে থেকে পুলিশ বাহিনীর মনোবল ভেঙ্গে দিয়ে তিনি কি অর্জন করতে চেয়েছেন তা বোধগম্য নয়। দায়িত্বশীল সকল ব্যক্তিকে এ ধরনের ঢালাও মন্তব্য পরিহার করতে ডিএমপি অনুরোধ করছে।’
Mizanur
মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান যা বলেছিলেনঃ

পুলিশের গুলিতে আহত একজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দেখতে গিয়ে বৃহস্পতিবার পুলিশ বাহিনী নিয়ে মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান বলেনঃ একটি জেলার নাম ব্যবহার করে পুলিশের কিছু কর্মকর্তা ‘ঔদ্ধত্যপূর্ণ’ আচরণ করে প্রধানমন্ত্রীকে হেয় করার চেষ্টা করছেন। একটি নির্দিষ্ট জেলার পুলিশ যেন আইনের ঊর্ধ্বে। সভ্য সমাজে তারা যে ধরনের ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেন তা মেনে নেওয়া যায় না। ওই জেলার নাম জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আপনারা সবাই তা জানেন বলে আমি বিশ্বাস করি।

মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান বলেন, কেউ নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে জড়িত থাকলেও তাকে গুলি করার কোনো অধিকার পুলিশের নেই। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি মানবাধিকার রক্ষার উপরও গুরুত্ব দিতে বলেছেন। অন্য একটি বাহিনী এখন অনেকটাই সংযত হয়েছে। পুলিশকেও সংযত হতে হবে। অপরাধ যে-ই করুক তাকে আইনের আওতায় আনতে হবে- মন্তব্য করে তিনি বলেন, অপরাধীকে সাজা দেওয়ার জন্য আদালত আছে। পুলিশ কখনোই কারো উপর অমানবিক আচরণ করতে পারে না। এটা কেউ ভুলে গেলে চলবে না।

গত ১৭ অক্টোবর মোহাম্মদপুরে পুলিশের গুলিতে আহত নাফিস সালামকে দেখার পর মিজানুর রহমান বলেন, কর্তব্যরত চিকিৎসকতাকে জানিয়েছেন, খুব কাছ থেকে নাফিসকে গুলি করা হয়েছে। এ ধরনের নির্মমতা, বর্বরতা ও অসভ্যতা মেনে নেওয়া যায় না। পুলিশ সচেতনভাবে, যে কোনো ধ্বংসাত্মক কাজে যুক্ত না তাকে এমন নির্দয়ভাবে গুলি করতে পারে তা ভাবা যায় না। পুলিশের হাতে কেউ নির্যাতিত হলে উল্টো তাকেই পুলিশ সন্ত্রাসী বানায় এবং মিথ্যা ও হয়রানিমূলকমূলক মামলা দায়ের করে বলে অভিযোগ মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যানের।

ইদানিং মনে হচ্ছে, আমরা মধ্যযুগ বা দাস যুগে আছি। নাগরিকরা যেন পুলিশের সেবাদাসে পরিণত হয়েছে। এমনটি কারো কাম্য নয়। সাম্প্রতিক সময়ে পুলিশি নির্যাতনের প্রতিটি ঘটনা সংশ্লিষ্টদের নজরে এনেছেন জানিয়ে তিনি বলেন,  তারপরও পুলিশকে নিয়ন্ত্রণের কোনো চেষ্টা দেখা যাচ্ছে না। পুলিশের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ তুলে এই বাহিনীকে নিয়ন্ত্রণ করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে বলেছেন । স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলছি, পুলিশকে নিয়ন্ত্রণ করুন। তা না হলে পুলিশ যেসব ঘটনা ঘটাচ্ছে মানবাধিকার আইন অনুযায়ী আমরা যেসব ঘটনার লিখিত প্রতিবেদন তৈরি করে মহামান্য রাষ্ট্রপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করতে বাধ্য হব। তিনি সংসদে এরপর বিষয়গুলো তুলবেন।

নাফিসের মা যা বলেছেঃ

নাফিসের মা লায়লার ভাষ্যমতে, সেদিন জুমার নামাজ পড়তে ইকবাল রোডের একটি মসজিদে গিয়েছিলেন নাফিস। নামাজ শেষে সেখানে লতিফ সিদ্দিকীর হজ বিষয়ক বক্তব্য নিয়ে মুসল্লিরা কথা বললে নাফিস তাদের কথা শুনছিলেন। হঠাৎ পুলিশ সেখানে উপস্থিত হয়ে ফাঁকা গুলি ছোড়ে। সবাই আতঙ্কে দৌড় দিলে নাফিসও দৌড় দেয়। পুলিশ এরপর নাফিসকে ধরে তার পায়ে বন্দুক ঠেকিয়ে গুলি করে।

পুলিশ যা বলছেঃ

পুলিশের ভাষ্যমতে, ওই দিন ইকবাল রোডের বায়তুস সালাম জামে মসজিদের সামনে নাফিসসহ ২০/২৫ জন যুবক হিযবুত তাহরীর ব্যানারে মিছিল বের করে রাষ্ট্রবিরোধী শ্লোগান দেয়। এক পর্যায়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করলেও আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা গুলি ছোড়ে