ব্রেকিং নিউজ

সকাল ১১:৪৯ ঢাকা, বুধবার  ১৫ই আগস্ট ২০১৮ ইং

পুলিশের কাছ থেকে পুলিশের কোটি টাকার ঘুষ বাণিজ্যে: সাসপেন্ড ১০

পুলিশ সদস্যদের পদোন্নতি দেয়ার কথা বলে কোটি টাকা ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) ১০ জন সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত আদেশ ঢাকা পুলিশ হেডকোয়ার্টার থেকে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ সদর দপ্তরে পৌঁছেছে।

যারা সাসপেন্ড হলেন: রিজার্ভ অফিসের এএসআই আনিসুজ্জামান, এএসআই মনির হোসেন, নায়েক মো. কবির হোসেন, ড্রাইভার শহীদুল ইসলাম, বাবলু জোমাদ্দার, রেশন স্টোরের মো. আব্বাস উদ্দিন, আরিফুর রহমান, ডিবির কনস্টেবল তাপস কুমার মন্ডল, ড্রাইভার দোলন বড়াল এবং বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানায় কর্মরত এএসআই হানিফ।

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের ২৩০ জন সদস্য পদোন্নতির জন্য পুলিশের বিশেষ পরীক্ষায় পাস করে বসে আছেন। শূন্য পদ না থাকায় তারা পদোন্নতি পাচ্ছেন না। পাস করে বসে থাকা কনস্টেবলদের নায়েক, হাবিলদার ও এএসআই পদে পদোন্নতির জন্য কনস্টেবল বাবলু, নায়েক কবির, এএসআই মনিরসহ তাদের  সহযোগীরা ২৩০ জনের কাছ থেকে জনপ্রতি ৩০ হাজার থেকে ৫৫ হাজার টাকা করে প্রায় এক কোটি টাকা ঘুষ উত্তোলন করে। বিষয়টি পুলিশ সদর দফতরে জানাজানি হলে তোলপাড় শুরু হয়। সূত্রে আরও জানা যায়, এনিয়ে তদন্ত কমিটি গঠনের পর ঐ তিনজনের নামে খোলা যৌথ একাউন্টে ঘুষের ১৬ লাখ টাকা রাখার হিসেব মিললেও বাকি টাকার হদিস পাচ্ছেন না তদন্ত কর্মকর্তারা। গত ১৭ জুন বরিশাল পুলিশ হেডকোয়ার্টারের ফ্যাক্স বার্তার মাধ্যমে পুলিশের সিকিউরিটি সেল ওই তিনজনকে ঢাকায় ডেকে এনে আলাদা আলাদাভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। জিজ্ঞাসাবাদে তারা টাকা তোলার বিষয়টি স্বীকার করেন। তাদের দেয়া তথ্যমতে পরবর্তীতে রিজার্ভ অফিসের এএসআই আনিস ও কামালকে সিকিউরিটি সেল ডেকে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে ঘটনার সাথে জড়িত সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন একাধিক কর্মকর্তার নাম বেরিয়ে আসে।

পুলিশ সদর দফতরের আদেশে তিন এএসআইসহ ১০ জনকে সাময়িক বরখাস্ত করার সত্যতা স্বীকার করে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ, সিকিউরিটি সেলের পাশাপাশি নিজস্ব আদলে তদন্ত করার জন্য বিএমপি’র পক্ষ থেকে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।