Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

দুপুর ১২:২৭ ঢাকা, রবিবার  ১৮ই নভেম্বর ২০১৮ ইং

পুলিশের বিরুদ্ধে সংবাদ পরিবেশন ২ সাংবাদিক গ্রেপ্তার

আট ঘণ্টার ব্যবধানে ফরিদপুরের দুই সাংবাদিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সাদা পোশাকের সাংবাদিক বেলাল চৌধুরীকে শহরের অয়্যারলেস পাড়ায় নিজ বাসা থেকে ‍পুলিশ গ্রেপ্তার করে।

এর আট ঘণ্টা আগে সোমবার দিনগত রাত ১ টার দিকে ভাঙ্গা উপজেলা মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদের একটি সভা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় সাংবাদিক কামরুজ্জামান সিদ্দিকী কামরুলকে।

মঙ্গলবার দুপুরে তাদের দুজনকেই ভাঙ্গা থানায় দ্রুত বিচার আইনে করা পুলিশের একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়।

সাংবাদিক বেলাল চৌধুরী ফরিদপুর থেকে প্রকাশিত দৈনিক নাগরিক বার্তা পত্রিকার ব্যবস্থাপনা সম্পাদক ও অনলাইন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন ফরিদপুরের সভাপতি। কামরুজ্জামান সিদ্দিকী ফরিদপুর বাস মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক নাগরিক বার্তা পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক।

জেলা পুলিশ বিভাগের ব্যর্থতার খবর প্রকাশের জের ধরেই তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে ধারনা করা হচ্ছে। ঘটনার পর থেকে গ্রেপ্তার আতঙ্কে রয়েছেন ফরিদপুরে কর্মরত সাংবাদিকরা।

স্থানীয় সাংবাদিকরা জানান, কয়েক বছর আগে মৌলবাদী গোষ্ঠীর হামলায় আহত হয়ে পঙ্গু হন সাংবাদিক বেলাল চৌধুরী। পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আর্থিক সহায়তায় ভারতে উন্নত চিকিৎসার পর এখন পঙ্গু হয়ে বেঁচে আছেন। কয়েকদিন আগে স্থানীয় দৈনিক নাগরিক বার্তায় তিনি ফরিদপুরের পুলিশের ব্যর্থতা নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেন। গত ২ ডিসেম্বর ‘একই বাসা থেকে আবারো সাংবাদিকের মটরসাইকেল চুরি’, ‘চুরি-ছিনতাই রোধে ব্যর্থ ফরিদপুরের পুলিশ প্রশাসন’, গত ৩ ডিসেম্বর ‘চুরি ছিনতাই রোধে ব্যর্থ পুলিশ’, ‘শহরের অর্ধশতাধিক স্পটে চলছে ফ্রি স্টাইলে ছিনতাই’ এবং ৪ ডিসেম্বর মন্ত্রীর নির্দেশও মানছে না পুলিশ, শহরের অলিগলিতে বিক্রি হচ্ছে মাদকদ্রব্য’ শিরোনামে খবর প্রকাশ করে দৈনিক নাগরিক বার্তা পত্রিকাটি। মূলত এরপর থেকেই তাকে শায়েস্তা করা হবে বলে পুলিশসহ বিভিন্ন মহল থেকে হুমকি দেয়া হচ্ছিল।

এদিকে, সোমবার দিনগত রাত ১ টার দিকে সাংবাদিক মো. কামরুজ্জামান সিদ্দিকী কামরুলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ঘটনার সময় তিনি ভাঙ্গা উপজেলা মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদের একটি সভায় ছিলেন। কোনো কারণ ছাড়াই বিনা প্ররোচনায় পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায় বলে তার স্বজন ও সমর্থকরা অভিযোগ করেছেন।

তবে পুলিশের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের জের ধরেই তাকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে বলে ধারনা করা হচ্ছে।

এদিকে, মাত্র ৮ ঘণ্টার ব্যবধানে ফরিদপুর প্রেসক্লাবের দুই সাংবাদিককে গ্রেপ্তার করায় সাংবাদিক মহলে আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। ফরিদপুরে কর্মরত বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ফরিদপুরে সাংবাদিকতা করাই এখন দুষ্কর হয়ে পড়েছে। পুলিশের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের খবর প্রকাশ করলেই তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা, হুমকি ধামকি ও গ্রেপ্তার করে হয়রানি করা হচ্ছে।

দুই সাংবাদিক গ্রেপ্তারের বিষয়ে ফরিদপুর প্রেসক্লাব, রিপোর্টার্স ইউনিটি, বাংলাদেশ কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতি ফরিদপুর শাখা, জেলা বাস মালিক গ্রুপ, সংবাদপত্র হকার্স সমিতিসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে।