ব্রেকিং নিউজ

সকাল ৭:৪৬ ঢাকা, শনিবার  ২২শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

পুঁজিবাজার ২০১৪ঃ উত্থান -পতন

সূচকের উত্থান দিয়ে দেশের পুঁজিবাজারগুলো বছর শুরু করলেও শেষ হচ্ছে পতনের মধ্য দিয়ে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গত বছরের শুরুটা বেশ ভালোভাবেই পার করে পুঁজিবাজারগুলো। বিরোধী দলবিহীন এ নির্বাচনে আগের ক্ষমতাসীন দলই নতুন করে সরকার গঠন করে। পরবর্তী দিনগুলোতে বিরোধীদলের চোখে পড়ার মতো কোনো কর্মসূচি না থাকায় পুঁজিবাজারে আস্থাহীনতা সাময়িকভাবে হ্রাস পায়। দীর্ঘ দিন মন্দায় কাটানো পুঁজিবাজার এ সময় কিছুটা ইতিবাচক ধারায় ফিরে। জানুয়ারি ২০১৪ প্রায় পুরোটাই কাটে দুই পুঁজিবাজার সূচকের উত্থানে। কিন্তু দুই মাস যেতে না যেতেই সাময়িক এ প্রবণতা হোঁচট খায়। ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে ফের নেতিবাচক প্রবণতার শিকার হয় দুই পুঁজিবাজার। নতুন সরকার গঠনের পর তার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে দেশে ও দেশের বাইরে বিভিন্ন প্রশ্নের সৃষ্টি হলে আবারো নেতিবাচক প্রবণতা সৃষ্টি হয়। এ সময় একের পর নতুন কোম্পানি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হতে থাকে। আর এসব কোম্পানির তালিকতাভুক্তি সাময়িকভাবে বাজারে ক্রেজ সৃষ্টি করলেও মূল বাজারে তার কোনো ইতিবাচক প্রভাব পড়তে দখা যায়নি। বছরজুড়ে ১৭টি কোম্পানি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। তবে হাতে গোনা দু-একটি বাদে এসব কোম্পানির প্রায় প্রতিটির ক্ষেত্রেই তালিকাভুক্তির পরপর অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি অভিযোগ ওঠে। কোনো কোনো কোম্পানির বাজারদর আইপিও দরের কয়েক শ গুণ বৃদ্ধি পাওয়ার মতো ঘটনাও ঘটে। আর এভাবে পুঁজিবাজারের তারল্যের একটি বড় অংশ বিভিন্ন সময় বাজার থেকে বেরিয়ে যেতে থাকে। কারণ বেশির ভাগ আইপিওধারী সেকেন্ডারি মার্কেটের বিনিয়োগ ঝুঁকি নিতে রাজি নয়। আর এভাবে মন্দা দীর্ঘমেয়াদি রূপ নেয়। জুলাই মাসের শেষ দিকে এসে মন্দা কাটিয়ে ওঠে পুঁজিবাজার। আগস্ট ও সেপ্টেম্বর এ দুই মাস ভালোভাবেই পার করে পুঁজিবাজার। ২০১০ সালের পুঁজিবাজার বিপর্যয়ের পর এবারই সবচেয়ে দীর্ঘসময় ভালো কাটে পুঁজিবাজারের, যা অব্যাহত থাকে অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত। ১৮ সেপ্টেম্বর ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) লেনদেন পৌঁছে এক হাজার ৩০০ কোটির কাছাকাছি। এর ক’দিন পরই ২৫ সেপ্টম্বর ডিএসইর প্রধান সূচকটি দীর্ঘ দিন পর আবার পাঁচ হাজার পয়েন্টের ঘর অতিক্রম করে। টানা মূল্যবৃদ্ধির এ প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ১২ অক্টোবর একই সূচক পৌঁছে যায় পাঁচ হাজার ৩৩৪ পয়েন্টে। ২০১১ সালের পর ডিএসইর প্রধান সূচকটি আর এ পর্যায়ে পৌঁছেনি। কিন্তু এই শেষ। আবারো পতনের দিকে এগিয়ে যেতে থাকে পুঁজিবাজার। অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহের পর থেকে টানা দরপতন শুরু হয়, যা অব্যাহত থাকে ডিসেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহেও। প্রায় ৬০০ পয়েন্ট সূচক হারানোর পাশাপাশি ডিএসইর লেনদেন নেমে আসে ২০০ কোটির নিচে। এ বছর পুঁজিবাজারের সবচেয়ে বড় অর্জন ডি-মিউচুয়ালাইজেশন। মালিকানা থেকে পৃথক হয়ে যায় দুই পুঁজিবাজারের ব্যবস্থাপনা। সবচেয়ে বড় কথা আগের অলাভজনক প্রতিষ্ঠান থেকে দুই পুঁজিবাজারকে পরিণত করা হয় লাভজনক প্রতিষ্ঠানে। বিভিন্ন মহল থেকে দুই স্টক এক্সচেঞ্জ ডিমিউচুয়ালাইজেশনের বিষয়টি দীর্ঘ দিন থেকে দাবি করা হলেও ২০১০ সালের পুঁজিবাজার বিপর্যয়ের পর বিষয়টি তৎকালীন সরকার গুরুত্ব সহকারে নেয়। তৎকালীন অর্থমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ তত্ত্বাবধানে এগিয়ে চলে এ ডি-মিউচুয়ালাইজেশন কার্যক্রম। এরই ধারাবাহিকতায় গত বছরের (২০১৩) ২১ নভেম্বর পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিতে রূপান্তরিত হয় দেশের দুই স্টক এক্সচেঞ্জ। এর আগে একই বছরের ২ মে জাতীয় সংসদ এক্সচেঞ্জেস ডিমিউচুয়ালাইজেশন আইন পাস করে। তবে ডিমচিুয়ালাইজড পরবর্তী স্টক এক্সচেঞ্জগুলোর যাত্র শুরু হয় চলতি বছরেই। ১৩ ফেব্রুয়ারি ডিএসইর ট্রেক হোল্ডার পরিচালক নির্বাচনের পর গঠিত হয় ডিএসই বোর্ড। সাবেক বিচারপতি সিদ্দিকুর রহমান মিয়াকে চেয়ারম্যান করে ১২ সদস্যবিশিষ্ট পরিচালনা পর্ষদ গঠন করা হয়। পর্ষদে ডিএসইর চার নির্বাচিত পরিচালককেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়। অনুরূপভাবে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সাবেক সচিব ড. আবদুল মজিদকে চেয়ারম্যান করে গঠন করা হয় ১২ সদস্যবিশিষ্ট সিএসই পর্ষদ। এখানেও সিএসইর ট্রেক হোল্ডারদের পক্ষ থেকে চারজন নির্বাচিত পরিচালক অন্তর্ভুক্ত হন। দুই স্টক এক্সচেঞ্জই একজন করে ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইওর নেতৃত্বে পরিচালিত হচ্ছে ব্যবস্থাপনা। ডি-মিউচুয়ালাইজেশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে স্টক এক্সচেঞ্জগুলোতে স্টক ব্রোকারদের প্রাধান্য খর্ব হলেও পুঁজিবাজারের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক পরিবর্তনের সুযোগ সৃষ্টি হয়। বিনিয়োগকারীদের স্বার্থসংরক্ষণের পাশাপাশি পুঁজিবাজারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয়। তবে ডি-মিউচুয়ালাইজেশনের পুরো প্রক্রিয়া বেশ দীর্ঘমেয়াদি। পুরো বিষয়টি সম্পন্ন হতে বেশ কয়েক বছর লাগতে পারে। ডি-মিউচুয়ালাইজেশনের প্রায় এক বছর অতিক্রান্ত হলেও এখনো কোনো এক্সচেঞ্জই তাদের কৌশলগত অংশীদার (স্ট্রাটেজিক পার্টনার) খুঁজে পায়নি। ডি-মিউচুয়ালাইজেশন আইন অনুসারে প্রতিটি এক্সচেঞ্জেই একজন করে স্ট্রাটেজিক পার্টনার থাকতে হবে যারা উভয় এক্সচেঞ্জের পর্ষদে থাকবেন।