ব্রেকিং নিউজ

সকাল ১০:৩৬ ঢাকা, বুধবার  ২৬শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

পুঁজিবাজারে মূলধন ইস্যুতে নীতিমালাঃ প্রজ্ঞাপন জারি

কোম্পানির মূলধন বৃদ্ধি, ইনিশিয়াল পাবলিক অফার (আইপিও) ও রাইট ইস্যুতে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। গত ১৮ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার বিএসইসি এ প্রজ্ঞাপন জারি করে নির্দেশনা দিয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বিএসইসির অনুমোদন ছাড়া কোনো কোম্পানির মূলধন বাড়ানোর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তা, পরিচালক, কর্মকর্তা ও এজেন্ট কোনো ব্যক্তির কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করতে পারবে না। একই সাথে আইপিওতে আসা কোম্পানিগুলো বাজারে আসার দুই বছরের মধ্যে রাইট শেয়ার ইস্যুরও সিদ্ধান্ত নিতে পারবে না। এ ছাড়া রাইট ইস্যুর ক্ষেত্রে ও আইপিওর সংগৃহীত অর্থ সম্পূর্ণ ব্যবহার না করে নতুন করে মূলধন বাড়াতে পারবে না। অপর দিকে ওভার দ্য কাউন্টার মার্কেট (ওটিসি) থেকে শেয়ারবাজারে ফিরে আসার পর কোম্পানি তিন বছরের মধ্যে কোনো রাইট শেয়ার ছাড়তে পারবে না।

এ ছাড়া আইপিও থেকে সংগৃহীত অর্থ কোম্পানিগুলো এক-তৃতীয়াংশের বেশি ঋণ পরিশোধ করতে পারবে না। কোনো কোম্পানি আইপিও আবেদনের এক বছরের মধ্যে কোনো উদ্যোক্তা পরিচালক তাদের শেয়ার অন্য কোনো ব্যক্তির নিকট হস্তান্তর করে ক্ষেত্রে আইপিও অনুমোদনের দিন থেকে তিন বছর পর্যন্ত হস্তান্তরকৃত শেয়ার লকইন থাকবে। পাশাপাশি কোম্পানিগুলোর সংগৃহীত অর্থ আলাদা একটি ব্যাংক হিসাবে রাখতে হবে। এ ছাড়া পাঁচ লাখ টাকার বড় অঙ্ক হলে তা অ্যাকাউন্ট পে-চেকে লেনদেন সম্পন্ন করতে হবে।

উল্লেখ্য, এসংক্রান্ত বিষয়ে গত ২৯ অক্টোবর ৫৩০তম কমিশন সভায় বিএসইসি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা চলতি ১৮ ডিসেম্বর প্রজ্ঞাপন আকারে নির্দেশনা দিয়েছে বিএসইসি।

২৯ অক্টোবরের এ সিদ্ধান্তের আলোকে গত ১১ ডিসেম্বর বিএসইসির ৫৩১তম কমিশন সভায় চারটি কোম্পানির রাইট ইস্যুর আবেদন বাতিল হয়ে যায়। কোম্পানি চারটি হচ্ছে- প্রকৌশল খাতের বাংলাদেশ বিল্ডিং সিস্টেমস লিমিটেড (বিবিএস), ওষুধ ও রসায়ন খাতের সেন্ট্রাল ফার্মাসিউটিক্যালস ও জেএমআই সিরিঞ্জ ও বস্ত্র খাতের মোজাফফর হোসাইন স্পিনিং মিলস লিমিটেড।

উল্লেখ্য, বিবিএস ও সেন্ট্রাল ফার্মা প্রতি পাঁচটি শেয়ারের বিপরীতে দুইটি রাইট শেয়ার ইস্যুর প্রস্তাব করেছিল। জেএমআই সিরিঞ্জ অ্যান্ড মেডিক্যাল ডিভাইসেস পরিচলনা পর্ষদ ২:১ অনুপাতে রাইট শেয়ার ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। অর্থাৎ একটি শেয়ারের বিপরীতে দু’টি রাইট শেয়ারের প্রস্তাব ছিল কোম্পানিটির। এ তিনটি কোম্পানিটি ২০১৩ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। আর ২০১৪ সালে তালিকাভুক্ত হয় বস্ত্র খাতের মোজাফফর হোসেন স্পিনিং মিলস লিমিটেড। এ কোম্পানিটি ৩:২ হারে রাইট ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। দু’টি সাধারণ শেয়ারের বিপরীতে তিনটি করে রাইট শেয়ার ইস্যুর প্রস্তাব করেছিল এটি।

রাইট শেয়ার ইস্যুর প্রস্তাব বাতিল হওয়ায় ব্যবসা সম্প্রসারণ পরিকল্পনা স্থগিত করেছে সেন্ট্রাল ফার্মা, জেএমআই সিরিঞ্জ ও মোজাফফর হোসাইন স্পিনিং। তবে বাংলাদেশ বিল্ডিং সিস্টেমস (বিবিএস) ব্যাংক অর্থায়নে তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কোম্পানি কর্তৃপরে সাথে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।

গতকালের শেয়ার বাজার পরিস্থিতি

এ দিকে গতকাল মিশ্র প্রবণতায় শেষ হয়েছে পুঁজিবাজারের সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস। দুই বাজারেই বেশির ভাগ সূচক ছিল নেতিবাচক প্রবণতায়। ঢাকায় তিনটি সূচকেরই অবনতি ঘটে। তবে চট্টগ্রামে চারটি সূচকের মধ্যে তিনটি অবনতি ঘটলেও একটি নামমাত্র উন্নতি ধরে রাখতে সক্ষম হয়। দুই বাজারেই লেনদেন হওয়া বেশির ভাগ কোম্পানি দর হারায়।

দিনশেষে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচকটি ৬ দশমিক ৭২ পয়েন্ট হ্রাস পায়। ডিএসই-৩০ ও শরিয়াহ সূচকের অবনতি ঘটে যথাক্রমে ২ দশমিক ৪৫ ও দশমিক ৬৫ পয়েন্ট। চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক ও সিএসসিএক্স সূচক যথাক্রমে ১ দশমিক ৩৭ ও ৮ দশমিক ২৮ পয়েন্ট হ্রাস পেলেও দশমিক ২০ পয়েন্ট উন্নতি ঘটে সিএসই -৫০ সূচকের।

সূচকের অবনতির মধ্যেও সামান্য বৃদ্ধি পায় ডিএসইর লেনদেন। বৃহস্পতিবারের ২৩১ কোটি টাকার স্থলে গতকাল ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ২৩৬ কোটি টাকা। তবে লেনদেন কমেছে চট্টগ্রামে। ২২ কোটি টাকা থেকে ২১ কোটিতে নেমেছে সিএসইর লেনদেন।

সিরামিকস, তথ্যপ্রযুক্তি ও রসায়ন খাত গতকাল মূল্যবৃদ্ধিতে এগিয়ে থাকলেও ব্যাংক, প্রকৌশল, টেক্সটাইল ও বীমা খাতে দরপতন অব্যাহত ছিল। তবে বিভিন্ন খাতের বেশ কয়েকটি বহু জাতিক কোম্পানির মূল্যবৃদ্ধি ছিল চোখে পড়ার মতো। এ ছাড়া গত দুই দিন টানা মূল্যবৃদ্ধির ধারায় পার করা খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতের বেশির ভাগ কোম্পানি গতকাল দর হারায়। ঢাকায় লেনদেন হওয়া ৩০৭টি সিকিউরিটিজের মধ্যে ১১২টির দাম বাড়লেও কমেছে ১৬০টির। ৩৫টির দর ছিল অপরিবর্তিত। পক্ষান্তরে চট্টগ্রামে লেনদেন হওয়া ২৫৭টি সিকিউরিটিজের মধ্যে ৮৪টির দাম বাড়ে, ১২৮টির কমে এবং ৩৯টির অপরিবর্তিত থাকে।