Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

সন্ধ্যা ৭:২৪ ঢাকা, মঙ্গলবার  ২০শে নভেম্বর ২০১৮ ইং

পুঁজিবাজার পরিস্থিতি

চার কার্যদিবস টানা পতনের পর শেষদিনে এসে পুঁজিবাজারের পতন থেমেছে। দিনের শুরুটা নেতিবাচক প্রবণতা দিয়ে হলেও গতকাল লেনদেনের মাঝখানে হঠাৎ ঘুরে দাঁড়ানোর প্রয়াস দেখা যায়। একপর্যায়ে সূচকের বেশ খানিকটা উন্নতিও ঘটে। কিন্তু দিনশেষে কোনো বাজারই তার পুরোটা ধরে রাখতে পারেনি।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গতকাল ডিএসইএক্স সূচকের ১৪ দশমিক ৭৪ পয়েন্ট উন্নতি রেকর্ড করা হয়। ডিএসই-৩০ ও শরিয়াহ সূচকের উন্নতি ঘটে যথাক্রমে ৪ দশমিক ০৩ ও ১ দশমিক ৯৮ পয়েন্ট। চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক ও সিএসসিএক্স সূচক যথাক্রমে ৭০ দশমিক ৮৪ ও ৩৯ দশমিক ২৯ পয়েন্ট বৃদ্ধি পায়। এখানে ৩ দশমিক ৬৭ পয়েন্ট উন্নতি ঘটে সিএসই-৫০ সূচকের।
সূচকের টানা অবনতির পর বেশ সতর্ক ছিলেন বিনিয়োগকারিরা। দুই বাজারে লেনদেনের অবনতি তারই ইঙ্গিত বহন করে। গতকাল বাজারগুলোতে লেনদেন কিছুটা হ্রাস পায়। ঢাকায় ডিএসইর লেনদেন দাঁড়ায় ২২৩ কোটি টাকায় যা আগের দিন অপেক্ষা ৫৮ কোটি টাকা কম। বুধবার বাজারটিতে ২৮১ কোটি টাকার লেনদেন নিষ্পত্তি হয়। চট্টগ্রামে ৩২ কোটি টাকা থেকে ২৬ কোটিতে নেমে আসে লেনদেন।

গতকাল সকালে নেতিবাচক প্রবণতা দিয়েই শুরু হয় দুই পুঁজিবাজারের লেনদেন। প্রথম আধঘণ্টায় দুই বাজারই কমবেশি সূচক হারায়। ঢাকায় ডিএসইর প্রধান সূচকটি চার হাজার ৭৮৩ পয়েন্ট থেকে লেনদেন শুরু করে বেলা ১১টায় সূচকটি নেমে আসে চার হাজার ৭৭১ পয়েন্টে। এ পর্যায়ে সূচকটির ১২ পয়েন্ট হারায় ডিএসই। কিন্তু পরবর্তী আধঘণ্টায় আবার ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে বাজারগুলো। বেলা সাড়ে ১১টায় ডিএসই সূচক পৌঁছে যায় চার হাজার ৮১০ পয়েন্টে। তবে সূচকের এ ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। আধঘণ্টার মাথায় আবার নিম্নমুখী হয় ডিএসই সূচক। দুপুর ১২টার দিকে সূচকটি আবার নেমে আসে চার হাজার ৭৭৫ পয়েন্টে। কিন্তু দিনের লেনদেনের শেষপর্যায়ে ফের ঊর্ধ্বমুখী হলে চার হাজার ৭৯৭ দশমিক ৯৫ পয়েন্টে স্থির হয় সূচকটি।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সরকারি বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) শেয়ারের অভিহিত মূল্য ১০ টাকায় পরিবর্তন করা হয়েছে। বুধবার প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদের সভায় এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে।
ডিএসই সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে আইসিবির শেয়ারের ফেস ভ্যালু ১০০ টাকা রয়েছে। আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার প্রতিষ্ঠানটির রেকর্ড ডেট। আর রেকর্ড ডেটের পরে আইসিবির ১০ টাকা অভিহিত মূল্য কার্যকর হবে।
প্রসঙ্গত, গত বছরের ১৬ সেপ্টেম্বর আইসিবির ফেস ভ্যালু ও মূলধন পরিবর্তনের লক্ষ্যে জাতীয় সংসদে ‘ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি) বিল-২০১৪’ পাস হয়। দশম সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের ১২তম কার্যদিবসে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বিলটি পাসের প্রস্তাব করলে তা কণ্ঠভোটে সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়।
এই সরকারি বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানের অনুমোদিত মূলধন রয়েছে এক হাজার কোটি টাকা ও পরিশোধিত মূলধন ৬৩২ কোটি টাকা। ১০০ টাকা অভিহিত মূল্যে প্রতিষ্ঠানটির মোট শেয়ার রয়েছে ছয় কোটি ৩২ লাখ ৮১ হাজার ২৫০টি। অভিহিত মূল্য ১০ টাকায় পরিবর্তিত হলে প্রতিষ্ঠানটির মোট শেয়ারসংখ্যা দাঁড়াবে ৬৩ কোটি ২৮ লাখ ১২ হাজার ৫০০টি। আইসিবি ১৯৭৭ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়।

গতকাল সকালে বেশ কয়েকটি ব্রোকার হাউজ ও মার্চেন্ট ব্যাংকের ট্রেডিং ফোরে গিয়ে দেখা যায় বিনিয়োগকারীদের উপস্থিতি খুবই কম। যারা উপস্থিত হয়েছেন তাদের বেশির ভাগই বাজার নিয়ে বেশ উদ্বিগ্ন। দিনের শুরুতে বাজার কিছুটা ঊর্র্ধ্বমুখী হলে সবার মধ্যে স্বস্তি ফিরে এলেও লেনদেনের মাঝামাঝি সময়ে এসে আবার বিক্রয়চাপ শুরু হওয়ায় হতাশা ভর করে সবার মধ্যে। এমনিতেই গত বেশ কিছুদিন ধরে বাজার মন্দায় আক্রান্ত হলে উপস্থিতির বেশির ভাগই লোকসানের মাঝে আছেন। তার ওপর গত চার দিনের ধারাবাহিক দরপতনে এখন অনেকটাই দিশেহারা। এ অবস্থায় লেনদেনে অংশ নেয়ার চাইতে বাজার পর্যবেক্ষণেই বেশি সময় ব্যয় করছিলেন তারা।
বিনিয়োগ পরিস্থিতি জানতে চাইলে তাদের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটে। তারা বলেন, পুঁজিবাজারের মতো একটি খাত মাসের পর মাস দরপতনের শিকার হলেও সরকার বা নিয়ন্ত্রক সংস্থা এ ব্যাপারে কোনো উদ্যোগই নিচ্ছে না। এ মুহূর্তে বিনিয়োগকারীদের পাশে কেউই নেই। সামনের দিনগুলো কেমন যাবে সে সম্পর্কেও কোনো ধারণা পাচ্ছেন না বিনিয়োগকারীরা। প্রচণ্ড লোকসানের শিকার একজন বিনিয়োগকারী হতাশা চেপে রাখতে না পেরে  যত আক্রোশ ঝাড়লেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ওপর। তার মতে, বাংলাদেশ ব্যাংকের অযৌক্তিক হস্তক্ষেপই পুঁজিবাজারকে ধ্বংস করেছে। হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যাংকগুলোর অলস পড়ে থাকলেও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কারণে ব্যাংকগুলো পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করতে পারছে না। এতে শুধু পুঁজিবাজার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তা নয়। ব্যাংকগুলোও এদের পুঞ্জীভূত লোকসান কাটিয়ে উঠতে পারছে না। এর ফলে ব্যাংকের মতো পুঁজিবাজারের একটি বড় খাত বিনিয়োগকারী টানতে পারছেন না। যারা আগে থেকেই এ খাতে বিনিয়োগ করেছেন তারা এ জনমে লোকসান কাটিয়ে উঠতে পারবেন না।