Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

রাত ১১:৪০ ঢাকা, শুক্রবার  ১৬ই নভেম্বর ২০১৮ ইং

পুঁজিবাজারে লেনদেনে খরা

সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবসে এসে সূচক ও লেনদেনের উন্নতি ঘটেছে পুঁজিবাজারে। গ্রামীণফোন ও স্কয়ার ফার্মার মতো বড় মূলধনী কোম্পানিগুলোর মূল্যবৃদ্ধির কারণেই পুঁজিবাজার সূচকের এ উন্নতি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। গতকাল লেনদেনের প্রথম এক ঘণ্টা দুই বাজার সূচক ভালো একটি অবস্থানে পৌঁছলেও দিনশেষে তা ধরে রাখতে পারেনি।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ডিএসইএক্স সূচক গতকাল ১৮ দশমিক ৭৮ পয়েন্ট বৃদ্ধি পায়। ডিএসই-৩০ ও শরিয়া সূচকের উন্নতি ঘটে যথাক্রমে ১২ দশমিক ০১ ও ৪ দশমিক ৬৪ পয়েন্ট। চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক ও সিএসসিএক্স সূচকের উন্নতি ঘটে যথাক্রমে ২০ দশমিক ২১ ও ৫ দমমিক ২৯ পয়েন্ট।
সূচকের পাশাপাশি লেনদেনেও কিছুটা উন্নতি ঘটে বাজারগুলোতে। ঢাকায় গতকাল ২৬৬ কোটি টাকার লেনদেন নিষ্পত্তি হয়, যা আগের দিন অপেক্ষা ২৯ কোটি টাকা বেশি। রোববার পুঁজিবাজারটির লেনদেন ছিল ২৩৭ কোটি টাকা। চট্টগ্রামে এক কোটি টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ২২ কোটিতে পৌঁছে লেনদেন।
বাজারের চলমান মন্দায় সিদ্ধান্তহীনতার মাঝে কাটছে বিনিয়োগকারীদের। নতুন বছরের শুরুতে বাজারে নতুন বিনিয়োগের প্রত্যাশায় অনেকে বাজারে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখলেও আরেকটি অংশ এখনো আস্থাহীনতা কাটিয়ে উঠতে পারছেন না। এর ফলে অব্যাহত রয়েছে লেনদেন খরা। যেখানে স্বাভাবিক সময়ে ডিএসইতে ৪০০ থেকে ৫০০ কোটি টাকা লেনদেন নিষ্পত্তি হয়েছে সেখানে এখন তা নেমে এসেছে ৩০০ কোটির নিচে। এর কারণ হিসেবে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ কমে যাওয়াকেই দায়ী করেন ুদ্র বিনিয়োগকারীরা। কারণ ক্যালেন্ডার বছরের শেষ মাস হিসেবে ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসহ পুঁজিবাজারের সাথে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এখন বিগত বছরের আয়-ব্যয় নিরূপণে ব্যস্ত সময় পার করছে। তাই এসব প্রতিষ্ঠান এখন বিনিয়োগে নেই। তবে নতুন বছরে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের নতুন বিনিয়োগ শুরু হলে পরিস্থিতির উন্নতি ঘটতে পারে বলে আশাবাদী হতে চান বিনিয়োগকারীদের বড় একটি অংশ। মূলত এ আশাবাদ থেকেই এখনো তারা বাজারে টিকে আছেন।
গতকাল লেনদেনের শুরুতে দুই পুঁজিবাজার ছিল ইতিবাচক ধারায়। ঢাকায় প্রথম এক ঘণ্টায় ডিএসইর প্রধান সূচকটির উন্নতি ঘটে ৩৪ পয়েন্ট। ৪ হাজার ৮৪৯ পয়েন্ট থেকে লেনদেন শুরু করা ডিএসইএক্স সূচক বেলা সাড়ে ১১টায় পৌঁছে ৪ হাজার ৮৮৫ পয়েন্টে। কিন্তু লেনদেনের এ পর্যায়ে বিক্রয় চাপের শিকার হয় ডিএসই। দিনের বাকি সময়ের পুরোটাই কাটে নেতিবাচক প্রবণতায়। দিনশেষে বৃদ্ধি পাওয়া সূচকের ১৮ পয়েন্ট উন্নতি ধরে রেখে ৪ হাজার ৮৬৮ পয়েন্টে স্থির হয় ডিএসই সূচক।
ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মতো বড় মূলধনী খাতগুলো গতকাল হারানো দরের একটি অংশ ফিরে পায়। তবে সূচকের উন্নতির পেছনে বড় ভূমিকা ছিল গ্রামীণফোণ ও স্কয়ার ফার্মার মতো কোম্পানিগুলোর মূল্যবৃদ্ধি। একই সাথে অন্য খাতগুলোতে বেশির ভাগ কোম্পানি মূল্যবৃদ্ধির তালিকায় উঠে এলে তা সূচকের উন্নতি ধরে রাখায় সহায়ক হয়। তবে প্রকৌশল খাতে গতকালও মিশ্র প্রবণতা অব্যাহত ছিল। অপর দিকে দিনের সর্বোচ্চ দরপতনের শিকার হয় রসায়ন খাত। ঢাকায় লেনদেন হওয়া ৩০৬টি কোম্পানি ও ফান্ডের মধ্যে ১৪০টির মূল্যবৃদ্ধি ঘটে। দর হারায় ১২১টি। ৪৫টির দর ছিল অপরিবর্তিত। পক্ষান্তরে, চট্টগ্রামে লেনদেন হওয়া ২৫১টি সিকিউরিটিজের মধ্যে ১১৬টির দাম বাড়ে, ৯৮ টির কমে এবং ৩৭টির দর অপরিবর্তিত থাকে।
 বেশ ক’দিন পর মূল্যবৃদ্ধির সুবাদে গতকাল আবার ডিএসইর লেনদেনের শীর্ষে উঠে আসে সিমেন্ট খাতের বহু জাতিক কোম্পানি লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট। ১৫ কোটি ২৯ লাখ টাকায় ১২ লাখ ৬৪ হাজার শেয়ার হাতবদল হয় কোম্পানিটির। ৭ কোটি ৭২ লাখ টাকায় ১৩ লাখ ৯২ হাজার শেয়ার বেচাকেনা করে দ্বিতীয় স্থানে ছিল ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড। ডিএসইর শীর্ষ দশ কোম্পানির তালিকায় আরো ছিল স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, আরএকে সিরামিকস, কেয়া কসমেটিকস, অগ্নি সিস্টেমস, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস, মোবিল যমুনা লুব্রিকেন্ট ও তুং-হাই নিটিং।
দিনের মূল্যবৃদ্ধির শীর্ষে ছিল বীমা খাতের সাধারণ বীমা কোম্পানি গ্লোবাল ইন্স্যুরেন্স। ৫ দশমিক ১৭ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি ঘটে কোম্পানিটির। মূল্যবৃদ্ধির তালিকায় উঠে আসা অন্যান্য কোম্পানির মধ্যে বিআইএফসি ৪.২৬, পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্স ৪.১৬, এইমস ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড ৪.১৫ ও ইস্টার্ন ক্যাবলসের ৪.০২ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি ঘটে।
অপর দিকে দিনের সর্বোচ্চ দরপতনের শিকার হয় রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকল ঝিল বাংলা সুগার মিলস। ৯ দশমিক ৩৭ শতাংশ দর হারায় কোম্পানিটি। এ ছাড়া লভ্যাংশ ঘোষণার রেকর্ড পরবর্তী মূল্য সমন্বয়ে ৭ দশমিক ১৪ শতাংশ দর হারায় কেয়া কসমেটিকস। অন্যান্য কোম্পানির মধ্যে জিএসপি ফিন্যান্স ৪.৮৯, জুট স্পিনার্স ৪.৬৭ ও ইস্টার্ন লব্রিকেন্টের ৪.৪৫ শতাংশ দরপতন ঘটে।