ব্রেকিং নিউজ

রাত ১:২৫ ঢাকা, বৃহস্পতিবার  ২০শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

পুঁজিবাজারে লেনদেন ও সূচকের অবনতি

ফের নেতিবাচক প্রবণতার শিকার হয়েছে পুঁজিবাজার। দুই দিন মূল্যবৃদ্ধির পর গতকাল দুই বাজারেই অবনতি ঘটে লেনদেন ও সূচকের। মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর গুলশানে সংঘটিত সহিংস ঘটনার কারণে পরিস্থিতি আরো খারাপ হতে পারে, এমন ধারণা থেকেই পুঁজিবাজারে এ নেতিবাচক প্রবণতা। আগে থেকেই বিরোধী দলের অবরোধ কর্মসূচি নিয়ে সরকারের অনমনীয় অবস্থানে রাজনীতিতে এক ধরনের অনিশ্চয়তা বিরাজ করছিল। তার ওপর এ ধরনের ঘটনা তাতে আরো নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। গতকাল পুঁজিবাজারে এটাই ছিল প্রধান আলোচ্য বিষয়। সবার মধ্যে ছিল এক ধরনের শঙ্কা, যার প্রভাব পড়ে বাজারে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচকটি গতকাল ১৮ দশমিক ০৪ পয়েন্ট হ্রাস পায়। ডিএসই-৩০ ও শরিয়াহ সূচকের অবনতি ঘটে যথাক্রমে ৮ দশমিক ৫৫ ও ৮ দশমিক ৩১ পয়েন্ট। চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক ও সিএসসিএক্স সূচকের অবনতি ঘটে যথাক্রমে ৫৬ দশমিক ৫৯ ও ৩৪ দশমিক ৫৬ পয়েন্ট। এ বাজারে সিএসই-৫০ সূচকটি হারায় ৩ দশমিক ০৯ পয়েন্ট। নেতিবাচক প্রবণতার কারণে কমে যায় বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ। সূচকের পাশাপাশি কমেছে দুই বাজারের লেনদেনও। ঢাকায় গতকাল লেনদেন হয় ৩৯০ কোটি টাকা যা আগের দিন অপেক্ষা ১৪ কোটি টাকা কম। মঙ্গলবার এখানে ৪০৪ কোটি টাকার লেনদেন নিষ্পত্তি হয়। চট্টগ্রামে ৩০ কোটি টাকা থেকে লেনদেন নেমে আসে ২৬ কোটি টাকায়।

গতকাল লেনদেনের শুরুতেই নেতিবাচক প্রবণতার শিকার হয় দুই পুঁজিবাজার। চার ঘণ্টা লেনদেন সময়ের বেশির ভাগই বিক্রয়চাপের মুখে ছিল বাজারগুলো। ঢাকা শেয়ারবাজারে ডিএসইএক্স সূচকের চার হাজার ৯৭০ পয়েন্ট থেকে লেনদেন শুরু করলেও বেলা ২টার দিকে সূচকটি নেমে আসে চার হাজার ৯৪৫ পয়েন্টে। লেনদেনের এ পর্যায়ে সূচকটির প্রায় ২৫ পয়েন্ট হারায় ডিএসই। তবে শেষ আধঘণ্টায় ক্রয়চাপ কিছুটা বৃদ্ধি পায়। দিনশেষে সূচকের ১৮ দশমিক ০৪ পয়েন্ট অবনতিতে লেনদেন শেষ করে ডিএসই।

পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তাই এখন পুঁজিবাজারের স্বাভাবিক গতিকে বাধাগ্রস্ত করছে। বিনিয়োগকারীরা শত ঝুঁকি নিয়েও বাজারে টিকে রয়েছেন। তারপরও কখন কী ঘটে তা নিয়ে সবার মধ্যে এক ধরনের শঙ্কা রয়েছে। বিনিয়োগকারীদের একটি বড় অংশই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরাও এ মুহূর্তে খুব একটা ঝুঁকি নিতে রাজি নন। ফলে লেনদেন যেমন কমে যাচ্ছে তেমনি বৃদ্ধি পাচ্ছে বিক্রিচাপও। এ অবস্থার নিরসন না হওয়া পর্যন্ত মন্দা অব্যাহত থাকতে পারে এমনটিই আশঙ্কা প্রকাশ করছেন তারা।

আইডিএলসিকে পেছনে ফেলে গতকাল ডিএসইর লেনদেনের শীর্ষ উঠে আসে প্রকৌশল খাতের প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ বিল্ডিং সিস্টেমস লিমিটেড। ২৩ কোটি ৫৫ লাখ টাকায় ৪৩ লাখ ৮৮ হাজার শেয়ার বেচাকেনা হয় কোম্পানিটির। ১৩ কোটি ৩২ লাখ টাকা লেনদেন করে আইডিএলসি ছিল দিনের দ্বিতীয় কোম্পানি। ডিএসইর শীর্ষ দশ কোম্পানির তালিকায় আরো ছিল অগ্নি সিস্টেমস, অ্যাকটিভ ফাইন কেমিক্যালস, অলটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ, ডেসকো, সাইফ পাওয়ারট্রেক, গ্রামীনফোন, সামিট অ্যালাইয়েন্স পোর্ট ও স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস।