Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

রাত ৪:৪৭ ঢাকা, শুক্রবার  ১৬ই নভেম্বর ২০১৮ ইং

পুঁজিবাজারে ফের মিশ্রপ্রবণতা

Like & Share করে অন্যকে জানার সুযোগ দিতে পারেন। দ্রুত সংবাদ পেতে sheershamedia.com এর Page এ Like দিয়ে অ্যাক্টিভ থাকতে পারেন।

ইতিবাচক ধারায় একটি দিন পার করে ফের মিশ্র প্রবণতার শিকার হয়েছে দেশের পুঁজিবাজার। গতকাল বুধবার লেনদেনের বেশির ভাগ সময়ই পুঁজিবাজারগুলো পার করে সূচকের বড় রকম ওঠানামায়। প্রথমদিকে সূচক পড়ে গেলেও লেনদেনের মাঝামাঝি সময়ে আবার ঘুরে দাঁড়ায় বাজারগুলো। কিন্তু লেনদেনের শেষদিকে এসে সৃষ্ট বিক্রয়চাপ সূচকের উন্নতি ধরে রাখতে দেয়নি। মিশ্র প্রবণতায়ই লেনদেন শেষ করে দুই বাজার।

উভয় বাজারেই দু’টি সূচকের অবনতি ঘটলেও এগিয়ে ছিল একটি সূচক। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক ও শরিয়াহ সূচকের যথাক্রমে ৯ দশমিক ৪৬ ও ১ দশমিক ৮৪ পয়েন্ট অবনতি ঘটলেও ১ দশমিক ২৭ পয়েন্ট উন্নতি ঘটে ডিএসই-৩০ সূচকের। অনুরূপভাবে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক ও সিএসসিএক্স সূচকের যথাক্রমে ৭ দশমিক ৯০ ও ১৩ দশমিক ৫৬ পয়েন্ট অবনতি ঘটলেও ১ দশমিক ২৬ পয়েন্ট উন্নতি ঘটে সিএসই শরিয়াহ সূচকের।

গতকাল সকালে লেনদেনের শুরুতেই বিক্রয়চাপের শিকার হয় দুই পুঁজিবাজার। আগের দিনের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার ধারাবাহিকতা থাকবে এমন প্রত্যাশায় বিনিয়োগকারীরা যখন গতকাল ব্রোকার হাউজগুলোতে উপস্থিত হন তখনই দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। লেনদেন শুরুর মাত্র আধ ঘণ্টার মধ্যে ২৮ পয়েন্ট সূচক হারায় ডিএসই। চার হাজার ৭৫৭ দশমিক ১০ পয়েন্ট থেকে লেনদেন শুরু করা ডিএসইএক্স সূচকটি  বেলা ১১টার পরপরই নেমে আসে চার হাজার ৭২৯ পয়েন্টে। তবে বেলা সোয়া ১১টার দিকে আবার ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে বাজার। এ সময় হারানো দর আবার ফিরে পেতে থাকে লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলো। প্রায় দুই ঘণ্টা এ ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় থাকলে বেলা ১টার দিকে ডিএসইর প্রধান সূচকটি পৌঁছে যায় চার হাজার ৭৭৬ পয়েন্টে। এ পর্যায়ে সূচকের ১৯ পয়েন্ট উন্নতি রেকর্ড করা হয়। কিন্তু লেনদেনের শেষ এক ঘণ্টা আবারো বিক্রয়চাপের মুখে পড়লে আবারো পতন ঘটতে থাকে সূচকের। দিনশেষে সূচকের অবনতি দাঁড়ায় ৯ দশমিক ৪৬ পয়েন্ট।

গতকাল ব্যাংক, নন ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও টেক্সটাইলের মতো প্রধান প্রধান খাতগুলো বড় দরপতনের শিকার হয়। অন্য দিকে প্রকৌশল, সিমেন্ট ও বীমা খাতে মিশ্র আচরণ দেখা যায়। রসায়ন, জ্বালানি ও খাদ্য খাতেও দর হারানো কোম্পানির সংখ্যা ছিল বেশি। তবে মিউচুয়াল ফান্ডে গতকালও পতনের তালিকা ছিল দীর্ঘ। ঢাকায় লেনদেন হওয়া ৩০৫টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ৯৯টির দাম বাড়লেও কমে যায় ১৬৮টির দাম। দাম অপরিবর্তিত ছিল ৩৮টির। অন্য দিকে চট্টগ্রামে লেনদেন হওয়া ২২৬টি সিকিউরিটিজের মধ্যে ৭৬টির দাম বাড়ে, ১২১টির কমে এবং ২৯টির দাম অপরিবর্তিত থাকে।

গতকালও দুই বাজারের লেনদেনের শীর্ষস্থানটি দখলে রাখে সি অ্যান্ড এ টেক্সটাইল। ঢাকায় ১২ কোটি ৯৪ লাখ টাকায় কোম্পানিটির ৫২ লাখ ২৯ হাজার শেয়ার হাতবদল হয়। ১২ কোটি ৪১ লাখ লেনদেন করে তালিকার দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসে অলটেক্স। ডিএসইর শীর্ষ দশ কোম্পানির তালিকায় আরো ছিল চিটাগাং ভেজিটেবল অ্যান্ড পেট্রোকেমিক্যালস, আমরা টেকনোলজিস, গ্রামীণফোন, বেক্সিমকো ফার্মা, সামিট অ্যালাইয়েন্স পোর্ট, বেঙ্গল উইন্ডসর থার্মোপ্লাস্টিকস, জিএসপি ফিন্যান্স ও অগ্নি সিস্টেমস।

গতকাল ডিএসইর মূল্যবৃদ্ধির শীর্ষে উঠে আসে রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানি বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবলস। ৯ দশমিক ৯৬ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি পেয়ে গতকাল সার্কিট ব্রেকারের সর্বোচ্চ দরে পৌঁছে যায় বিগত বেশ কিছু দিন থেকে দরপতনের শিকার কোম্পানিটি। অন্যান্য কোম্পানির মধ্যে এটলাস বাংলাদেশ ৮.৬৮, সি অ্যান্ড এ টেক্সটাইল ৫.০০, ফারইস্ট লাইফ ইন্স্যুরেন্স ৪.৬৭ ও ন্যাশনাল লাইফের ৪.৩২ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি ঘটে। অন্য দিকে দিনের সর্বোচ্চ দর হারায় এক্সিম ব্যাংক ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড। ৯ দশমিক ৫৮ শতাংশ দর হারায় এ ফান্ড।