ব্রেকিং নিউজ

সকাল ৬:৫৮ ঢাকা, শনিবার  ২২শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

পুঁজিবাজারে পতন অব্যাহত

পতনের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রয়েছে পুঁজিবাজারে। গতকাল টানা তৃতীয় দিনের মতো সূচক হারাল দুই পুঁজিবাজার। দিনের শুরুতে দুই বাজারে সূচকের ঊর্ধ্বমুখিতা দেখা গেলেও এক ঘণ্টার মধ্যে শুরু হয় বিক্রয়চাপ। দিনের বাকি সময়ে এ চাপ সামলে উঠতে পারেনি পুঁজিবাজারগুলো। সূচকের পাশাপাশি কমেছে লেনদেনও।
গতকাল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচকটি ১০ দশমিক ১৩ পয়েন্ট হারায়। অন্য দু’টি সূচক ডিএসই-৩০ ও শরিয়াহ সূচকের অবনতি ঘটে যথাক্রমে ১ দশমিক ৫৫ ও ২ দশমিক ৯১ পয়েন্ট। চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক ও সিএসসিএক্স সূচকের অবনতি ঘটে যথাক্রমে ৫১ দশমিক ৮৯ ও ৩২ দশমিক ৮৭ পয়েন্ট। সেখানে সিএসই ৫০ সূচক ১ দশমিক ৩৬ পয়েন্ট হ্রাস পায়।
গতকাল কমেছে বাজারগুলোর লেনদেনও। ঢাকায় গতকাল ২৪৭ কোটি টাকার লেনদেন নিষ্পত্তি হয় যা আগের দিন অপেক্ষা ১৩ শতাংশ কম। চট্টগ্রামে ২৮ কোটি টাকা থেকে ২৫ কোটিতে নেমে আসে লেনদেন।
সূচকের ওঠানামার মধ্য দিয়ে গতকাল সকালে দুই পুঁজিবাজারে লেনদেন শুরু হলেও লেনদেনের প্রথম এক ঘণ্টা বাজারগুলোতে সূচকের উন্নতি দেখা গেছে। ঢাকায় ডিএসইএক্স সূচকের চার হাজার ৮৬৭ দশমিক ০৮ পয়েন্ট থেকে লেনদেন শুরু করে পৌনে এক ঘণ্টার মাথায় সূচকটি পৌঁছে যায় চার হাজার ৮৮৮ পয়েন্টে। বেলা সাড়ে ১১টার পরই শুরু হয় বিক্রয়চাপ যা অব্যাহত থাকে বেলা দেড়টা পর্যন্ত। এ সময় সূচকটি নেমে আসে চার হাজার ৮৪৫ পয়েন্টে। এ পর্যায়ে ডিএসই সূচকের অবনতি ঘটে ২২ পয়েন্ট। তবে লেনদেনের শেষ কয়েক মিনিট আবার ঘুরে দাঁড়াতে চেষ্টা করে বাজার। শেষ মুহূর্তেও এ ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় হারানো সূচকের একটি অংশ ফিরে পায় ডিএসই। দিনশেষে ১০ দশমিক ১৩ পয়েন্ট হারিয়ে লেনদেন শেষ করে ডিএসই।
সোমবারের মতো গতকালও দুই পুঁজিবাজারের লেনদেন হওয়া খাতগুলোর বেশির ভাগই পতনের শিকার হয়। এদের মধ্যে সিরামিকস, তথ্যপ্রযুক্তি ও বিবিধ খাতে সর্বাধিক দরপতন ঘটে। এ তিনটি খাতের শতভাগ কোম্পানি দর হারায়। দরপতনের দিক থেকে এর পরপরই ছিল ননব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান, টেক্সটাইল ও বীমা খাত। প্রকৌশল ও ব্যাংকিং খাতের কয়েকটি কোম্পানি আগের দিনের দর ধরে রাখতে সক্ষম হয়। তবে দিনটি কিছুটা ভালো কাটে মিউচুয়াল ফান্ডের। গতকাল ডিএসইর মূল্যবৃদ্ধিও শীর্ষ দশের তালিকায় উঠে আসে সাতটি মিউচুয়াল ফান্ড। ঢাকায় লেনদেন হওয়া ৩১০টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ৭৯টির মূল্যবৃদ্ধি ঘটলেও দর হারায় ১৯০টি। ৪১টির দর ছিল অপরিবর্তিত। পক্ষান্তরে চট্টগ্রামে লেনদেন হওয়া ২৪০টি সিকিউরিটিজের মধ্যে ৫৮টির দাম বাড়ে, ১৬২টির কমে ও ২০টির দাম অপরিবর্তিত থাকে।
দরপতন সত্ত্বেও গতকাল ডিএসইর লেনদেনের শীর্ষে ছিল ন্যাশনাল ফিড লিমিটেড। ৯ কোটি ২১ লাখ টাকায় কোম্পানিটির ২২ লাখ ৯৭ হাজার শেয়ার হাতবদল হয়। আট কোটি ২৪ লাখ টাকা লেনদেন করে দিনের দ্বিতীয় কোম্পানি ছিল গ্রামীণফোন। ডিএসইর শীর্ষ দশ কোম্পানির তালিকায় আরো ছিল অগ্নি সিস্টেমস, ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড, লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট, আইডিএলসি ফিন্যান্স, তিতাস গ্যাস, বাংলাদেশ বিল্ডিং সিস্টেমস, সাইফ পাওয়ারট্রেক ও অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ।

এ দিকে তালিকাভুক্তির দ্বিতীয় দিনই বড় দরপতনের শিকার হয়েছে ন্যাশনাল ফিড লিমিটেড। সোমবার দুই পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার দিন ৩০০ শতাংশের বেশি দাম বাড়লেও গতকাল দ্বিতীয় দিনের মাথায় তার অনেকটাই হারিয়ে বসে কোম্পানিটি। দুই বাজারেই দিনের দরপতনের শীর্ষে ছিল কোম্পানিটি। ৯ দশমিক ৪১ শতাংশ দর হারায় তারা। তালিকাভুক্তির দিন ৩৬ কোটি টাকা লেনদেন করা কোম্পানিটির লেনদেন গতকাল নেমে আসে ৯ কোটি টাকায়।
সংশ্লিষ্টরা মনে করেন বাজারে এখন এক ধরনের প্রবণতা তৈরি হয়েছে। কোনো কোম্পানি তালিকাভুক্ত হতেই বিনিয়োগকারীরা হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন। কোম্পানির মৌলভিত্তি কতটুকু মূল্যবৃদ্ধির দাবি রাখে তা বিবেচনা না করেই সবাই শেয়ার কিনতে থাকেন। অথচ দুই দিন পরই এসব কোম্পানি টানা দরপতনের শিকার হয়। আর এতে প্রচুর লোকসান গুনতে হয় বিনিয়োগকারীদের। নতুন কোম্পানি তালিকাভুক্তির পর বরাবর এ ধরনের ঘটনা ঘটলেও তা থেকে শিক্ষা নেন না তারা। ফলে লোকসান আরো বেড়ে যায়।
ন্যাশনাল ফিডের পর আরো একটি কোম্পানির তালিকাভুক্তি হয় পুঁজিবাজারগুলোতে। বস্ত্র খাতের কোম্পানি সি অ্যান্ড এ টেক্সটাইল আজ তালিকাভুক্ত হতে যাচ্ছে দুই বাজারে। আজ দুই বাজারে লেনদেন শুরু হবে কোম্পানিটির।
কোম্পানিটি ১০ টাকা অভিহিত মূল্যে চার কোটি ৫০ লাখ শেয়ার ছেড়ে পুঁজিবাজার থেকে ৪৫ কোটি টাকা মূলধন উত্তোলন করে। এর আগে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) ৫২৮তম সভায় মূলধন উত্তোলনের অনুমোদন দেয়া হয়।
৩০ জুন ২০১৪ সমাপ্ত অর্থবছরের আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় ১ দশমিক ৭৮ টাকা এবং একই সময়ে শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য ছিল ১৮ দশমিক ৩৮ টাকা। কোম্পানির ইস্যু ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করে এএফসি ক্যাপিটাল লিমিটেড ও ইম্পেরিয়াল ক্যাপিটাল লিমিটেড।