ব্রেকিং নিউজ

রাত ৮:০৫ ঢাকা, বৃহস্পতিবার  ২০শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

Index Graph of 25-01-2015

পুঁজিবাজারে দরপতন দিয়ে সপ্তাহ শুরু

সূচকের বড় ধরনের অবনতি দিয়ে আরো একটি সপ্তাহ শুরু করেছে দেশের পুঁজিবাজার। গতকাল লেনদেনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত টানা পতনের মধ্য দিয়ে কাটে দুই বাজারের। আর এভাবে দিন শেষে বড় অঙ্কের সূচক হারায় বাজারগুলো। সকালে লেনদেন শুরু হওয়ার পরপরই যে বিক্রয়চাপ শুরু হয় তা অব্যাহত থাকে লেনদেনের শেষ পর্যন্ত।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচকটি কমে যায় ৮১ দশমিক ১৯ পয়েন্ট। ডিএসই-৩০ ও শরিয়াহ সূচকের অবনতি ঘটে যথাক্রমে ৩২ দশমিক ৯৯ ও ২২ দশমিক ৪৯ পয়েন্ট। চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক ও সিএসসিএক্স সূচক হারায় যথাক্রমে ২৮৩ দশমিক ০১ ও ১৬১ দশমিক ৫২ পয়েন্ট। এখানে সিএসই-৫০ সূচকের অবনতি ঘটে ১৫ দশমিক ৯৪ পয়েন্ট।

এ টি পুঁজিবাজারগুলোর জন্য সাম্প্রতিক সময়ের সর্বোচ্চ দরপতন। এ বছরের প্রথম সপ্তাহ থেকে শুরু হওয়া নেতিবাচক প্রবণতার মধ্যে এক দিনে দুই পুঁজিবাজার সূচকের এত পতন ঘটেনি। গত ৫ জানুয়ারি থেকে সৃষ্ট রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণেই এমনটি ঘটছে বলে মনে করছেন পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, যেখানে বছরের শুরুতে বিগত অর্থবছরের লভ্যাংশ ঘোষণাকে সামনে রেখে পুঁজিবাজারে ইতিবাচক প্রবণতা বিরাজ করে সেখানে এবার টানা পতনের শিকার হচ্ছে বাজারগুলো। দিনের পর দিন দর হারাচ্ছে শেয়ার। তাই চলমান রাজনৈতিক অচলাবস্থাই এর জন্য দায়ী বলে মনে করেন তারা।

গতকাল লেনদেনের শুরু থেকেই বিক্রয়চাপের মুখে পড়ে দুই পুঁজিবাজার। এ সময় দুই বাজারের লেনদেন হওয়া কোম্পানি ও ফান্ডগুলো একে একে দর হারাতে থাকে। বেলা বাড়ার সাথে সাথে এ চাপ আরো বাড়তে থাকে, যা অব্যাহত থাকে লেনদেন শেষ হওয়া অবধি। কোনো প্রকার ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা ছাড়াই লেনদেন শেষ করে বাজারগুলো। ঢাকায় ডিএসইএক্স সূচকের চার হাজার ৭৯৭ দশমিক ৯৫ পয়েন্ট থেকে লেনদেন শুরু করলেও দিন শেষে ৮১ দশমিক ১৯ পয়েন্ট হারিয়ে স্থির হয় চার হাজার ৭১৬ দশমিক ৭৬ পয়েন্টে।

লেনদেন হওয়া খাতগুলোতে বেশির ভাগের শতভাগ কোম্পানি গতকাল দর হারায়। ব্যাংক, বীমা, সিমেন্ট, সিরামিকস, তথ্য প্রযুক্তি ও বিবিধ খাতে শত ভাগ কোম্পানির দরপতন ঘটে। অন্যদিকে নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বীমা, রসায়ন ও প্রকৌশল খাতে হাতেগোনা কয়েকটি কোম্পানি উঠে আসে মূল্যবৃদ্ধির তালিকায়। ঢাকায় লেনদেন হওয়া ৩০৭টি কোম্পানি ও ফান্ডের মধ্যে মূল্যবৃদ্ধির তালিকায় ছিল মাত্র ৩৪টি। ২৫২টি দরপতনের শিকার হয়। অপরিবর্তিত ছিল ২১টির দর। অপর দিকে চট্টগ্রামে লেনদেন হওয়া ২৩৩টি সিকিউরিটিজের মধ্যে ৩৬টির দাম বাড়ে, ১৮৫টির কমে এবং ১২টির দাম অপরিবর্তিত থাকে।
গতকাল দুই বাজারের লেনদেনের শীর্ষে ছিল সি অ্যান্ড এ টেক্সটাইল। ঢাকায় ২৩ কোটি ৮১ লাখ টাকায় কোম্পানিটির ৯০ লাখ ৭৪ হাজার শেয়ার হাতবদল হয়। ১২ কোটি ৪৬ লাখ টাকা লেনদেন করে লাফার্জ সুরমা উঠে আসে লেনদেনের দ্বিতীয় অবস্থানে। ডিএসই’র শীর্ষ দশ কোম্পানির তালিকায় আরো ছিল ডেসকো, সামিট অ্যালাইয়েন্স পোর্ট, অলটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ, জিএসপি ফিন্যান্স, ন্যাশনাল ফিড মিলস, গ্রামীণফোন, ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড ও চিটাগাং ভেজিটেবল অ্যান্ড পেট্রোকেমিক্যাল রিফাইনারি।

দিনের মূল্যবৃদ্ধির শীর্ষে ছিল জেমিনি সি ফুড। ৮ দশমিক ৭৫ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি ঘটে খাদ্য খাতের এ প্রতিষ্ঠানের। এ ছাড়া এক্সিম ব্যাংক ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড ৬.৩৪, নর্দার্ন জুট ৬.২২, আইসিবি ৫.৮৪ ও জিএসপি ফিন্যান্সের ৫.৩৯ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি ঘটে। অপর দিকে দিনের সর্বোচ্চ দরপতনের শিকার হয় শ্যামপুর সুগার মিলস। ৯ দশমিক ৭৮ শতাংশ দর হারায় রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলটি। এ ছাড়া সামিট অ্যালাইয়েন্স পোর্ট ৯.০৯, সোনালি আঁশ ৭.২৭, ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্স ৬.৭৯, ন্যাশনাল ফিড মিলস ৬.৭৫, কাসেম ড্রাইসেল ও ন্যাশনাল পলিমার ৬.৫০ শতাংশ দর হারায়।

Leave a Reply