Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

রাত ১১:৩২ ঢাকা, বৃহস্পতিবার  ১৫ই নভেম্বর ২০১৮ ইং

পুঁজিবাজারে দরপতন অব্যাহত

দরপতন থেকে বেরিয়ে আসতে পারছে না দেশের পুঁজিবাজার। সোমবার এক দিন ভালো কাটিয়ে গতকাল আবার পতন ঘটল পুঁজিবাজারে; ৮০ শতাংশ কোম্পানি শিকার হলো দরপতনের। এতে অবনতি ঘটেছে দুই বাজার সূচকের। বড় মাত্রায় অবনতি ঘটে ঢাকা শেয়ারবাজারের লেনদেনে।

বেশ ক’দিন অবনতির পর সোমবার দুই বাজারে সূচকের নামমাত্র উন্নতি ঘটলেও গতকাল দিনশেষে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) প্রধান সূচকটি ২৯ দশমিক ৮৩ পয়েন্ট হারায়। ডিএসই-৩০ ও শরিয়াহ সূচকের অবনতি ঘটে যথাক্রমে ১১ দশমিক ০১ ও ৫ দশমিক ৯৩ পয়েন্ট। চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সার্বিক মূল্য সূচক ও সিএসসিএক্স সূচকের অবনতি ঘটে যথাক্রমে ৭৯ দশমিক ৪৬ ও ৪৬ দশমিক ০২ পয়েন্ট। সিএসই-৫০ সূচক হারায় ৫ দশমিক ৪ পয়েন্ট।

সূচকের এ অবনতি প্রভাবিত করে ডিএসইর লেনদেনকেও। গতকাল এখানে লেনদেন নেমে আসে ২০২ কোটি টাকায়। সোমবার যেখানে লেনদেন ছিল ২৬৬ কোটি টাকা। অবশ্য বড় ধরনের উন্নতি ঘটে সিএসইর লেনদেনে। সেখানে ৭০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায় লেনদেন। আগের দিন ছিল ২২ কোটি টাকা। গতকাল চট্টগ্রাম স্টকে গ্রামীণফোন ও স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালের  দু’টি ব্লক ট্রেডিংয়ের কারণে ঘটে এ উন্নতি। গ্রামীণফোনের ২৭ কোটি ১৭ লাখ ও স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের ২৬ কোটি ৫১ লাখ টাকার শেয়ার হাতবদল হয় এ দিনে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, নতুন বছর শুরু হওয়া পর্যন্ত কিছুটা ধৈর্য ধরতে হবে সবাইকে। কোনো বিশেষ কারণ না ঘটলে বরাবরই বছরের শেষ সময় বাজারে নেতিবাচক প্রবণতা থাকে যা নতুন বছরের শুরুতেই কেটে যায়। প্রতিষ্ঠানগুলো বছরের শুরুতে বিনিয়োগ পরিকল্পনা নিয়ে অগ্রসর হয়। তখন ক্রমান্বয়ে স্বাভাবিক হতে থাকে পুঁজিবাজার। আবার জানুয়ারি মাসে কোম্পানিগুলোর একটি বড় অংশ  বিগত অর্থবছরের লভ্যাংশ ঘোষণা শুরু করে যা শেয়ার দরে বড় ধরনের প্রভাব ফেলে। বিনিয়োগকারীদের সেই সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করার পরামর্শ দিলেন তারা।

এ দিকে ঢাকার মতো চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও লেনদেনের ওপর নতুন কমিশন হার বা লাগা চার্জ নির্ধারণ করেছে। গতকাল থেকে এ কমিশন হার কার্যকর হয়েছে। সিএসই সূত্র জানায়, নির্ধারিত নতুন হার অনুসারে ২৩ ডিসেম্বর মঙ্গলবার থেকে ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত লেনদেনে প্রতি হাজার টাকায় ১৮ পয়সা কমিশন নির্ধারণ করা হয়েছে। ৫ থেকে ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত এ কমিশনের হার হবে ১৫ পয়সা। ১০ কোটি টাকার ওপরে হলে এটি হবে ১৩ পয়সা। এ ছাড়া হাওলা বা কন্ট্রাক্ট বা হাওলা চার্জ নির্ধারণ করা হয়েছে ২ টাকা।

গতকাল লেনদেনের শুরু  থেকেই নেতিবাচক প্রবণতার শিকার হয় পুঁজিবাজারগুলো। ঢাকায় ৪ হাজার ৮৬৮ দশমিক ৪৭ পয়েন্ট থেকে লেনদেন শুরু করে প্রথম ১০ মিনিটে ডিএসইর প্রধান সূচকটি নেমে আসে ৪ হাজার ৮৫৯ পয়েন্টে। তবে এর পরপরই সাময়িকভাবে ঊর্ধ্বমুখী হয়ে ওঠে সূচকটি। সকাল ১১টায় ডিএসই সূচক পৌঁছে যায় ৪ হাজার ৮৬৯ পয়েন্টে। লেনদেনের এ পর্যায়েই শুরু হয় বিক্রয়চাপ যা অব্যাহত থাকে লেনদেন শেষ হওয়া পর্যন্ত । দিনশেষে সূচকের ২৯ দশমিক ৮৩ পয়েন্ট হারিয়ে দিনের লেনদেন শেষ করে ডিএসই।

ব্যাংক বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও খাদ্য খাতকে বাদ দিয়ে গতকাল দুই পুঁজিবাজারের বেশির ভাগ খাতই বড় ধরনের দরপতনের শিকার হয়। ব্যাংক, বীমা, টেক্সটাইল ও প্রকৌশল খাতে হাতে গোনা কয়েকটি কোম্পানি ছাড়া বাকিগুলোর দরপতন ঘটে। পতনের দিক থেকে সবচেয়ে এগিয়ে ছিল বিবিধ খাত। এ খাতের শতভাগ কোম্পানি গতকাল দর হারায়। এভাবে দুই বাজারের লেনদেন হওয়া কোম্পানির বেশির ভাগই উঠে আসে পতনের তালিকায়। ঢাকায় লেনদেন হওয়া ৩০৯টি সিকিউরিটিজের মধ্যে মাত্র ৬৭টির মূল্যবৃদ্ধি ঘটে। দর হারায় ২০৫টি। ৩৭টির দর অপরিবর্তিত থাকে। চট্টগ্রামে লেনদেন হওয়া ২৪১টি সিকিউরিটিজের মধ্যে ৬৫টির দাম বাড়লেও দর হারায় ১৪৪টি। ৩২টি সিকিউরিটিজের দর ছিল অপরিবর্তিত।

গতকাল টানা দ্বিতীয় দিনের মতো ডিএসইর লেনদেনের শীর্ষে ছিল লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট। ১১ কোটি ২৭ লাখ টাকায় কোম্পানিটির ৯ লাখ ৩৯ হাজার শেয়ার হাতবদল হয় গতকাল। ৮ কোটি ৫৮ লাখ টাকা লেনদেন করে ব্র্যাক ব্যাংক উঠে আসে দ্বিতীয় স্থানে। ডিএসইর লেনদেনে শীর্ষ ১০ কোম্পানির তালিকায় আরো ছিল ডেসকো, বেক্সিমকো ফার্মা, গ্রামীণফোন, স্কয়ার ফার্মা, সামিট অ্যালাইয়েন্স পোর্ট, কাসেম ড্রাইসেল, অগ্নি সিস্টেমস ও তুং-হাই নিটিং।