ব্রেকিং নিউজ

রাত ৩:২৪ ঢাকা, শনিবার  ২২শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

পুঁজিবাজারে কেন সূচকের টানা পতন

Like & Share করে অন্যকে জানার সুযোগ দিতে পারেন। দ্রুত সংবাদ পেতে sheershamedia.com এর Page এ Like দিয়ে অ্যাক্টিভ থাকতে পারেন। আপনাদের সহযোগিতা আমাদেরকে অনুপ্রানিত করবে।

 

রাজনৈতিক অস্থিরতা পুঁজিবাজারকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করছে। দেশের অর্থনীতি যেমন অনির্দিষ্ট গন্তব্যের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে তেমনি অর্থনীতির একটি অংশ হিসেবে পুঁজিবাজারও চলছে দিকহীন গন্তব্যে। এতে বাজারে তৈরি হয়েছে প্রচণ্ড আস্থাহীনতা। ফলস্বরূপ প্রতিদিনই পতন ঘটছে দুই পুঁজিবাজার সূচকের। রাজনৈতিক পরিস্থিতি ঠিক না হওয়া পর্যন্ত চলমান অবস্থা থেকে উত্তরণ ঘটার সম্ভাবনা দেখছেন না পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা।

গত বছরের শেষ দিকে পুঁজিবাজারগুলো ঘুরে দাঁড়ালেও নতুন বছরের শুরুতেই তা হোচট খায়। সরকারবিরোধী দলের মুখোমুখি অবস্থান রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে অস্থির করে তোলে। বিরোধী দলের অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য অবরোধ কর্মসূচি ও এর বিপরীতে সরকারের অনমনীয় মনোভাব দেশের অর্থনীতিকে চরম সঙ্কটের দিকে এগিয়ে দেয়। অর্থনীতির অন্যান্য খাতের মতো পুঁজিবাজারও পড়ে যায় সঙ্কটে। টানা পতনের কবলে আটকে যায় পুঁজিবাজার, যা বড় ধরনের আস্থাহীনতা তৈরি করে। ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা মুখ ফিরিয়ে নিতে শুরু করেন। প্রতিদিনই লেনদেন শুরুতেই বিক্রয়চাপের শিকার হচ্ছে পুঁজিবাজার। এভাবে চলতি মাসের ১৭টি কার্যদিবসে প্রায় ৩০০ পয়েন্ট সূচক হারায় দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। লেনদেন ঘোরাঘুরি করছে ২০০ কোটির আশপাশে। চলমান এ রাজনৈতিক অচলাবস্থার অবসান না হলে এ আস্থাহীনতা কমবে না বলেই মনে করেন পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা।

পুঁজিবাজারের বর্তমান অবস্থা নিয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমবিএ) সহসভাপতি ও ইউনিয়ন ক্যাপিটালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আখতার হোসাইন সান্নামাত গণমাধ্যমকে বলেন, আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন রাজনৈতিক অবস্থা অনেক বেশি খারাপ। বিরোধী দলের অনির্দিষ্ট সময়ের অবরোধ কর্মসূচি ও সরকারের অনড় অবস্থান পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। এ সঙ্কট থেকে উত্তরণের একমাত্র পথ দেশ ও জাতির স্বার্থে উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতা। যে যার অবস্থান থেকে সরে এসে আলোচনার মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছা। তা না হলে অর্থনীতি বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়বে। আর অর্থনীতির সবচেয়ে সংবেদনশীল খাত হচ্ছে পুঁজিবাজার। এখানে আস্থা ফিরে আসা খুবই কঠিন।

তিনি আরো বলেন, অতীতেও রাজনৈতিক কর্মসূচি ছিল। কিন্তু তা ছিল সাময়িক। একটি নির্দিষ্ট সময়ের পর তা শেষ হয়ে যেত। তখন পুঁজিবাজারও সাময়িকভাবে মন্দায় আক্রান্ত হলেও একসময় তা ঠিক হয়ে গেছে। কিন্তু এখন প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি সব ধরনের বিনিয়োগকারীই ভুগছেন সিদ্ধান্তহীনতায়। কারণ তারা জানেন না এ অবস্থা কত দিন দীর্ঘায়িত হতে পারে। এ কারণে কেউই বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না। আবার পরিস্থিতি আরো বেশি অবনতি ঘটতে পারে এমন আশঙ্কা থেকে প্রতিদিনই বিক্রয়চাপ বেড়েই চলেছে, যা অবনতি ঘটাচ্ছে বাজার সূচকের। অংশগ্রহণ কমে যাওয়ায় কমছে বাজারের লেনদেনও।

গতকাল সকালে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় পুঁজিবাজারগুলো দিন শুরু করলেও দিন শেষে যথারীতি সূচক হারিয়েই লেনদেন শেষ করে দুই বাজার। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচকটি গতকাল ৮ দশমিক ৪২ পয়েন্ট হ্রাস পায়। ডিএসই-৩০ ও শরিয়াহ সূচকের অবনতি ঘটে যথাক্রমে ৯ দশমিক ৪৪ ও ৩ দশমিক ৩২ পয়েন্ট। চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক হারায় ২৬ দশমিক ০৮ পয়েন্ট। এখানে সিএসসিএক্স ও সিএসই-৫০ সূচকের অবনতি ঘটে যথাক্রমে ২৬ দশমিক ০১ ও ৩ দশমিক ৩৭ পয়েন্ট।

সূচকের পাশাপাশি অবনতি ঘটেছে দুই পুঁজিবাজারের লেনদেনেও। ঢাকায় গতকাল লেনদেন নেমে আসে ২০৪ কোটি টাকায়, যা আগের দিন অপেক্ষা ১৯ কোটি টাকা কম। রোববার বাজারটিতে মোট ২২৩ কোটি টাকার লেনদেন নিষ্পত্তি হয়। চট্টগ্রামে ২৩ কোটি টাকা থেকে লেনদেন নেমে আসে ২০ কোটিতে।

সোমবার সকালে ডিএসইএক্স সূচকের ৪ হাজার ৭১৬ দশমিক ৭৬ পয়েন্ট থেকে লেনদেন শুরু করে আধা ঘণ্টার মাথায় সূচকটি পৌঁছে চার হাজার ৭৪৬ পয়েন্টে। অর্থাৎ প্রথম আধা ঘণ্টায় ডিএসই সূচকের উন্নতি ঘটে প্রায় ৩০ পয়েন্ট। কিন্তু লেনদেনের এ পর্যায়ে শুরু হয় বিক্রয়চাপ। পরবর্তী দুই ঘণ্টারও বেশি এ চাপ অব্যাহত থাকে। বেলা দেড়টার দিকে সূচকটি নেমে আসে ৪ হাজার ৭৯৪ পয়েন্টে। তবে লেনদেনের শেষ এক ঘণ্টা হারানো সূচকের একটি অংশ ফিরে পায় ডিএসই। দিনশেষে ৪ হাজার ৭০৮ দশমিক ৩৩ পয়েন্টে স্থির হয় ডিএসই সূচক।

ব্যাংক ও বীমা খাতের মূল্যবৃদ্ধিই গতকাল দুই পুঁজিবাজার সূচকের বড় ধরনের অবনতি রোধ করে। লেনদেনের মাঝামাঝি সময়ে বেশির ভাগ খাতের ব্যাপক দরপতন ঘটলেও লেনদেনের শেষ পর্যায়ে হারানো দরের একটি অংশ ফিরে পায়। এ ক্ষেত্রে ব্যাংক ও বীমা খাতের বেশ কিছু কোম্পানির মূল্যবৃদ্ধি ঘটে, যা লেনদেনের শেষ মুহূর্তে সূচককে সাময়িকভাবে ঊর্ধ্বমুখী করে তোলে। এ সময় অন্যান্য কোম্পানিও হারানো দরের কিছুটা ফিরে পায়। দিনশেষে ডিএসইর লেনদেন হওয়া ৩০৭টি সিকিউরিটিজের মধ্যে ১১১টির মূল্যবৃদ্ধি ঘটে। দর হারায় ১৪৪টি। ৫২টির দর ছিল অপরিবর্তিত। পক্ষান্তরে চট্টগ্রামে লেনদেন হওয়া ২৩১টি সিকিউরিটিজের মধ্যে ৭৭টির দাম বাড়ে, ১২৫টির কমে এবং ২৯টির দাম অপরিবর্তিত থাকে।