ব্রেকিং নিউজ

বিকাল ৪:০৮ ঢাকা, বৃহস্পতিবার  ১৬ই আগস্ট ২০১৮ ইং

পুঁজিবাজারের লেনদেনের অবনতি আশঙ্কাজনক

 নেতিবাচক প্রবণতায় পুঁজিবাজারের লেনদেনের অবনতি আবারো আশঙ্কাজনক পর্যায়ে চলে গেছে। গতকাল দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) লেনদেন নেমে আসে ২৬৩ কোটি টাকায়। ৮০ কার্যদিবসের পর ডিএসইর লেনদেন আবার তিন শ’ কোটি টাকার নিচে নেমে এলো। এর আগে সর্বশেষ চলতি বছরের ২০ জুলাই এ পর্যায়ে ছিল পুঁজিবাজারটির লেনদেন। দেশের দ্বিতীয় পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) লেনদেনও গতকাল নেমে আসে ২২ কোটি টাকায়।
চলতি বছরের জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে মূল্যবৃদ্ধির ধারায় ফেরা পুঁজিবাজারে ইতিবাচক প্রবণতা টিকে থাকে প্রায় তিন মাস। এ সময় ডিএসইর প্রধান সূচকটি ৪ হাজার ৩৬৩ পয়েন্ট থেকে পৌঁছে যায় ৫ হাজার ৩৩৪ পয়েন্টে। এ বছরের ১২ অক্টোবর এ পর্যায়ে ছিল ডিএসই সূচক। একই সময়ে বৃদ্ধি পায় ডিএসইর লেনদেনও। জুলাই মাসের শুরুতে আড়াই শ’ কোটি টাকা লেনদেন নিষ্পত্তি করা ডিএসইর লেনদেন আড়াই মাসের ব্যবধানে ১৮ সেপ্টেম্বর পৌঁছে যায় ১ হাজার ২৮৮ কোটিতে। এর পরই শুরু হয় নেতিবাচক প্রবণতা। ধারাবাহিক নেতিবাচক প্রবণতায় মাত্র দু’মাসের ব্যবধানে বাজারটির লেনদেন নেমে আসে ২৬৩ কোটিতে। সূচকের অবনতি থামার পরও লেনদেনের এ অধোগতি ভাবিয়ে তুলেছে বিনিয়োগকারীদের।
গতকাল সূচকের ব্যাপক ওঠানামার মধ্য দিয়ে পুঁজিবাজারগুলো সপ্তাহের শেষদিন পার করলেও দিনশেষে দুই বাজারই সূচকের কিছুটা উন্নতি ধরে রাখে। ঢাকায় ডিএসইর প্রধান সূচকটি গতকাল ১৫ দশমিক ৯৪ পয়েন্ট উন্নতি ধরে রাখে। ৮ দশমিক ৮১ পয়েন্ট উন্নতি ঘটে ডিএসই-৩০ সূচকের। তবে শরিয়াহ সূচক কমে যায় ১ দশমিক ৮৪ পয়েন্ট। চট্টগ্রামে সার্বিক মূল্যসূচক ও সিএসসিএক্স সূচকের যথাক্রমে ৯ দশমিক ৬৯ ও ১৩ দশমিক ২৭ পয়েন্ট উন্নতি ঘটলেও দশমিক ৩৩ পয়েন্ট হ্রাস পায় সিএসই-৫০ সূচক।
কোনো কারণ ছাড়াই পুঁজিবাজারের চলমান মন্দায় অনেকটা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক সব পর্যায়ের বিনিয়োগকারী। বাজারে নেতিবাচক প্রবণতা শুরুর পর থেকে ইতোমধ্যে ঢাকা শেয়ারবাজারের সূচক কমে গেছে প্রায় ৬ শ’ পয়েন্ট। ১২ অক্টোবরের ৫ হাজার ৩৩৪ পয়েন্টে থাকা ডিএসইর প্রধান সূচকটি গত বুধবার নেমে আসে ৪ হাজার ৪৫৬ পয়েন্টে। আর একই সময় লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর একটি বড় অংশ ২০ থেকে ৩০ শতাংশ দর হারায়। এ অবস্থায় সবার বিনিয়োগই বলতে গেলে ঝুঁকির মধ্যে।
অপর দিকে লেনদেন কমে যাওয়াকে অনেকে আস্থাহীনতা হিসেবেও দেখছেন। তাদের মতে, দুই মাসের ব্যবধানে ডিএসইর লেনদেন এক হাজার ২৮৮ কোটি টাকা থেকে ২৬৩ কোটি টাকায় নেমে যাওয়া আস্থাহীনতা ছাড়া কিছুই নয়। বিনিয়োগকারীরা এখন আর আশ্বস্ত হতে পারছেন না যে, একটি পর্যায়ে বাজার আবার ঘুরে দাঁড়াবে। ফলে এক দিকে বিক্রিয়চাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে অন্য দিকে বিক্রয়লব্ধ পুঁজি আর বিনিয়োগে ফিরছে না। লেনদেন কমে যাওয়াকে তারা এভাবেই ব্যাখ্যা করলেন। বিনিয়োগকারীদের এ অংশটি মনে করেন, সামনে ডিসেম্বর মাস শুরু হচ্ছে। ব্যাংকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এ মাসে তাদের আর্থিক প্রতিবেদন তৈরি করবে। সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ। এটাকেও বিবেচনায় রাখছেন তারা। 
গতকাল দিনের শুরুটা ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় হলেও লেনদেনের মাঝখানে বড় ধরনের বিক্রয়চাপের শিকার হয়। তবে দিনের শেষভাগে এসে এ চাপ কিছুটা সামলে নেয় বাজারগুলো। এর ফলে দিনশেষে সূচকের নামমাত্র উন্নতি ধরে রাখতে সক্ষম হয় দুই বাজার। ঢাকায় ডিএসইর প্রধান সূচকটির ৪ হাজার ৭৫৬ দশমিক ৬১ পয়েন্ট থেকে লেনদেন শুরু করে প্রথম এক ঘণ্টায় সূচকটি পৌঁছে যায় ৪ হাজার ৭৯২ পয়েন্টে। এ পর্যায়ে সূচকের উন্নতি ঘটে প্রায় ৩৬ পয়েন্ট। কিন্তু বেলা সাড়ে ১১টায় বিক্রয়চাপ সৃষ্টি হলে কমতে থাকে বাজারসূচক। পরবর্তী এক ঘণ্টায় বৃদ্ধি পাওয়া সূচকের পুরোটাই আবার হারিয়ে বসে ডিএসই। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সূচকটি নেমে আসে ৪ হাজার ৭৫৫ পয়েন্টে। তবে বেলা ১টার দিকে ফের ঊর্ধ্বমুখী হয় বাজার। ৩০ মিনিটের বেশি সময় এ প্রবণতা টিকে থাকলেও সূচক আবার পৌঁছে যায় ৪ হাজার ৭৯০ পয়েন্টে। তবে দিনের সমন্বয় শেষে ৪ হাজার ৭৭২ দশমিক ৫৫ পয়েন্টে স্থির হয় সূচকটি।

Like & share করে অন্যকে দেখার সুযোগ দিন