Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

রাত ১২:১৪ ঢাকা, বৃহস্পতিবার  ১৫ই নভেম্বর ২০১৮ ইং

পিলখানা হত্যা মামলার আপিল শুনানির বেঞ্চ পুনর্গঠন

বহুল আলোচিত পিলখানা হত্যা মামলায় দায়ের করা সকল ডেথ রেফারেন্স ও ফৌজদারি আপিলের শুনানির জন্য হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চ পুনর্গঠন করা হয়েছে।
নতুন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা এ বেঞ্চ গঠন করে দেন। বিচারপতি মো. শওকত হোসেনের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিশেষ বেঞ্চের সদস্য বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলামের পরিবর্তে বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদারকে সদস্য করা হয়েছে। বেঞ্চের অপর সদস্য হিসেবে রয়েছেন বিচারপতি মো. আবু জাফর সিদ্দিকী।
পুনর্গঠিত নতুন বেঞ্চের আজ রোববারের কার্য তালিকায় (ডেথ রেফারেন্স ৫৮/২০১৩) শুনানির জন্য রয়েছে পিলখানা হত্যা মামলায় দায়ের করা ডেথ রেফারেন্স ও ফৌজদারি আপিল।
এর আগে এই বিশেষ বেঞ্চ বিচারপতি মো. শওকত হোসেনের নেতৃত্বে বিচারপতি মো. আবু জাফর সিদ্দিকী ও বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম সমন্বয়ে গঠন করা হয়েছিল। পিলখানা হত্যা মামলায় আসামিদের আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের শুনানির জন্য গত ৪ জানুয়ারি এই বিশেষ বেঞ্চ গঠন করে দিয়েছিলেন বিদায়ী প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেন।
পিলখানা হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স শুনানিতে মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত ১৫১ জনের জন্য ১৫১টি পেপার বুক লাগবে। কিন্তু এ পর্যন্ত ৩৫টি পেপার বুক প্রস্তুত করা হয়েছে। অবশিষ্ট পেপার বুক প্রস্তুত করতে সংশ্লিষ্টদের গত ৫ জানুয়ারি আদেশ দিয়েছে আদালত।
পুরান ঢাকার আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে অবস্থিত ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক ড. মো. আখতারুজ্জামান ২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর ইতিহাসের কলঙ্কজনক এবং সর্ববৃহৎ এ হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেন।
রায়ে ১৫২ জনকে মৃত্যুদন্ড, ১৬০ জনকে যাবজ্জীবন, ২৫৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে (তিন বছর থেকে ১৭ বছর পর্যন্ত) কারাদন্ড এবং ২৭৮ জনকে খালাস এবং আর ৪ জন আসামি বিচার চলাকালে মারা যাওয়ায় মামলার দায় থেকে তারা অব্যাহতি পায়।
২০০৯ সালের ২৫-২৬ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পিলখানায় বিডিআর সদর দপ্তরে বিদ্রোহের ঘটনায় ৫৭ জন সেনাকর্মকর্তাসহ ৭৪ জন হত্যাকান্ডের শিকার হয়। এ ঘটনায় প্রথমে রাজধানীর লালবাগ থানায় হত্যা এবং বিস্ফোরক আইনে দুটি মামলা হয়। পরে এসব মামলা নিউমার্কেট থানায় স্থানান্তরিত হয়।
সিআইডি দীর্ঘ তদন্ত শেষে এই হত্যা মামলায় ২৩ বেসামরিক ব্যক্তিসহ প্রথমে ৮২৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে। পরে সম্পূরক অভিযোগপত্রে আরও ২৬ জনের নাম অন্তর্ভুক্ত করায় আসামি দাড়ায় ৮৫০ জনে। এ ছাড়া বিস্ফোরক আইনে করা মামলায় ৮০৮ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেয় সিআইডি। পরে আরো ২৬ জনকে অভিযুক্ত করে মোট ৮৩৪ জনের বিরুদ্ধে সম্পূরক অভিযোগপত্র দেয়া হয়। দুই মামলার বিচার একইসঙ্গে চলে। মামলায় ২০ জন আসামি পলাতক রয়েছেন। বিচার চলার সময়ে বিডিআরের ডিএডি রহিমসহ চার আসামির মৃত্যু হয়। মামলায় আসামীদের মধ্যে বিএনপি নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য নাসির উদ্দিন আহমেদ পিন্টু ও স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা তোরাব আলীও রয়েছে। তাদের দন্ড হয়েছে।
রক্তাক্ত ওই বিদ্রোহের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী এ বাহিনী পুনর্গঠন করে নাম বদলাতে হয়। এই বাহিনী এখন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) নামে পরিচিত।