ব্রেকিং নিউজ

রাত ৩:১৫ ঢাকা, শনিবার  ১৭ই নভেম্বর ২০১৮ ইং

পিলখানা হত্যাকান্ডের পুনরাবৃত্তি দেখতে চায় না সরকার

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যদের প্রতি এ বাহিনীর উন্নতি বিধানে শৃঙ্খলা, মানবিকতা, শ্রদ্ধাবোধ সমুন্নত রাখা ও সিনিয়রদের সম্মান জানানো এবং সর্বোপরি পারস্পরিক সহানুভূতি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন যে, তাঁর সরকার কখনোই একটি শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছ থেকে পিলখানা হত্যাকান্ডের মতো মর্মান্তিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি দেখতে চায় না। আজ নগরীর পিলখানায় বিজিবি সদর দফতরে এ বাহিনীর বিশেষ দরবার উপলক্ষে ভাষণদানকালে প্রধানমন্ত্রী একথা বলেন।
বিজিবি আন্তর্জাতিক মানের একটা শান্তিরক্ষা বাহিনীতে পরিণত হবে এমন দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে শেখ হাসিনা বলেন, এ বাহিনী এমনকি এদেশের জন্য ক্ষতিকর হয় এমন কাজ তাদের করা উচিত নয়।
তিনি ২০০৯ সালের বিডিআর বিদ্রোহের উল্লেখ করে বলেন, সরকার স্বল্পতম সময়ের মধ্যে এ বাহিনীর সংস্কার কাজ সম্পন্ন এবং দুষ্কৃতকারীদের বিচার নিশ্চিত করেছে।
তিনি বলেন, ‘এখন বিজিবি সদস্যদের আনুগত্য ও আত্মবিশ্বাস নিয়ে কোন প্রশ্ন নেই এবং এ বাহিনী এখন মর্যাদা ও সুনামের সঙ্গে কাজ করছে।’
তিনি বলেন, দেশের মানুষ শান্তি চায় এবং বিজিবি সদস্যরা এই জনগণের অংশ। তিনি বিজিবি সদস্যদের বলেন যে সরকার তাদের দাবি ও সমস্যা সম্পর্কে অবগত রয়েছে। তিনি আরো বলেন, আলোচনার মাধ্যমে সকল সমস্যার সমাধান করা হবে।
বিজিবি’র সংস্কারে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, এ বাহিনীর আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, এছাড়া নতুন সাংগঠনিক কাঠামো প্রতিষ্ঠার পর বিজিবি জনশক্তির বিষয়ে অগ্রাধিকার দিয়ে ২০০৯ সাল থেকে অতিরিক্ত প্রায় ২০ হাজার জনশক্তি নিয়োগ দেয়া হয়েছে।
শেখ হাসিনা এ বাহিনীর দীর্ঘ ২১৯ বছরের ইতিহাস স্মরণ করে বলেন, রামগড় স্থানীয় ব্যাটালিয়ন গঠনের মাধ্যমে ১৭৯৫ সালে বিজিবি প্রতিষ্ঠা করা হয় এবং এখন এটি দেশের একটি সুসংগঠিত সীমান্ত রক্ষা বাহিনীতে পরিণত হয়েছে।
তিনি বলেন, দেশের সীমান্ত রক্ষায় আরো দক্ষ হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার এই সদা সতর্ক-জাগ্রত বাহিনীর উন্নয়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
এ প্রসঙ্গে তিনি বিভিন্ন সেক্টর, ব্যাটালিয়ন ও ইউনিটকে ২৬টি ডাবল কেবিন পিক-আপ এর অনুমোদন দেয়ার পাশাপাশি বিজিবির জন্য যানবাহন দেয়া, বিওপিতে মটরসাইকেল দেয়া, সীমান্ত সেন্ট্রি পোস্ট নির্মাণ ও অন্যান্য আনুসঙ্গিক সামগ্রী দেয়ার কথা উল্লেখ করেন।
ভারতের সঙ্গে ৪৭৯ কিলোমিটার দীর্ঘ অরক্ষিত সীমান্তের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার ইতোমধ্যে বিজিবি’র জন্য ২টি সেক্টর, ৫টি ব্যাটালিয়ন ও ৯২টি বিওপি’র অনুমোদন দিয়েছে। তিনি আরো বলেন, এসব প্রকল্পের বেশিরভাগ ইতোমধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রকল্পের কাজ পুরোপুরি সম্পন্ন হলে গোটা পার্বত্য চট্টগ্রাম হবে সর্বাধিক সংরক্ষিত ও নিরাপদ।
বিজিবি সদস্যরা সততা, দেশপ্রেম ও শৃঙ্খলাসহকারে তাদের দাযিত্ব পালন করে যাবে শেখ হাসিনা এমন আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, তাঁর সরকার এ বিষয়ে সার্বিক সাহায্য ও সহযোগিতা দেবে।
আনুষ্ঠানিক ভাষণ শেষে প্রধানমন্ত্রী বিজিবি সদস্যদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ। কয়েকজন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও কূটনীতিক এবং ঊর্ধ্বতন বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।