ব্রেকিং নিউজ

রাত ৯:৪১ ঢাকা, বৃহস্পতিবার  ১৯শে এপ্রিল ২০১৮ ইং

এ এইচ মাহমুদ আলী ও শাহরিয়ার আলম
প্রেস ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম

‘পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তারের বিরুদ্ধে অবস্থান সুসংহত হবে প্রধানমন্ত্রীর সফরে’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ইন্টারন্যাশনাল এ্যাটমিক এনার্জি এজেন্সির (আইএইএ) সম্মেলনে যোগ দেয়ার মাধ্যমে পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তারের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের অবস্থান সুসংহত হবে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী আজ এক প্রেস ব্রিফিংয়ে একথা বলেন। ব্রিফিংয়ে অন্যান্যের মধ্যে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, পররাষ্ট্র সচিব মো. শহিদুল হক উপস্থিত ছিলেন।

আইএইএ সম্মেলনে যোগ দেয়ার প্রাক্কালে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এই সফরে প্রধানমন্ত্রী অস্ট্রিয়ার ফেডারেল চ্যান্সেলর ক্রিস্টিয়ান কার্নের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন।

প্রধানমন্ত্রীর এই অংশগ্রহণে বহির্বিশ্বে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বলতর হবে একথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, উন্নয়নশীল ও অন্যান্য স্বল্পোন্নত দেশগুলো এ অনুষ্ঠানে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে শান্তিপূর্ণভাবে পারমাণবিক শক্তির ব্যবহার সম্পর্কে বাংলাদেশের কাছে জানতে পারবে।

মাহমুদ আলী বলেন, সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে পরমাণবিক শক্তিতে বাংলাদেশের কারিগরি সক্ষমতা গড়ে তুলতে আইএইএ’র কারিগরি সহায়তা কর্মসূচির বিষয়ে আলোকপাত করবেন। এতে বিজ্ঞানভিত্তিক ডিজিটাল সমাজ গঠনে সরকারের গৃহীত বিভিন্ন বাস্তবমুখী কর্মসূচির কথাও তুলে ধরা হবে।

১৯৭২ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর আইএইএ’র সদস্যপদ লাভের পর থেকে বাংলাদেশ সংস্থাটির সঙ্গে পারমাণবিক প্রযুক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারে ঘনিষ্টভাবে কাজ করে আসছে।

শেখ হাসিনা ৩০ মে অনুষ্ঠিত ‘কনফারেন্স অন দ্য আইএইএ টেকনিক্যাল কো-অপারেশন প্রোগ্রাম : কন্ট্রিবিউটিং টু ডেভেলপমেন্ট’ শীর্ষক সম্মেলনে যোগ দিতে কাল সোমবার সকালে ঢাকা ত্যাগ করবেন।

তিনি অষ্ট্রিয়ার ফেডারেল চ্যান্সেলর ছাড়াও দেশটির ফেডারেল প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার ভ্যান ডার ভেল্লেনের সঙ্গে বৈঠক করবেন। বৈঠকে বিভিন্নখাতে দু’দেশের মধ্যে সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয় গুরুত্ব পাবে। এতে বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদ, অভিবাসন সমস্যা, জলবায়ু পরিবর্তন এবং ইউরোপের দেশগুলোতে বেক্সিট পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হবে। এ সফরে দু’দেশের মধ্যে পররাষ্ট্র দফতর বিভিন্ন আলোচনার জন্য একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী আইএইএ’র মহাপরিচালক ইয়োকিয়া আমানোর সঙ্গেও বৈঠক করবেন। বিকেলে তিনি গ্রান্ড হোটেলে একটি কমিউনিটি অনুষ্ঠান ও ইফতার মাহফিলে যোগ দেবেন।

তিনি ৩১ মে সকালে দেশে ফিরবেন।

ইউরোপের মধ্যে অষ্ট্রিয়া ১৯৭২ সালে বাংলাদেশকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি প্রদানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এক্ষেত্রে তৎকালীন অষ্ট্রিয়ার প্রধানমন্ত্রী অথবা ফেডারেল চ্যান্সেলর ব্রুনো ক্রিয়েস্কি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। এর স্বীকৃতি হিসেবে বাংলাদেশ ব্রুনোকে ২০১২ সালে ‘ফ্রেন্ডস অব লিবারেশন ওয়ার অনার এ্যওয়াড’ পদকে ভূষিত করে।