ব্রেকিং নিউজ

রাত ২:৫১ ঢাকা, বুধবার  ২৬শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

পানি সংকট: বিদেশ সফর সংক্ষিপ্ত করে মালদ্বীপে ফিরলেন প্রেসিডেন্ট

মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট আবদুল্লা ইয়ামিন দেশের রাজধানী মালেতে সৃষ্ট পানি সংকটের কারণে তার মালয়েশিয়া সফর সংক্ষিপ্ত করে মালে ফিরে এসেছেন। প্রেসিডেন্টের দপ্তরের কর্মকর্তারা রোববার এ খবর জানান।
মালদ্বীপের রাজধানী মালের প্রধান পানি শোধনাগারটি অগ্নিকাণ্ডের কারণে বিকল হয়ে পড়ায় খাবার পানির সংকট সৃষ্টি হয়। রাজধানীর বাসিন্দারা তৃতীয় দিনের মতো খাবার পানির সংকটে ভুগছেন। এ নিয়ে বাসিন্দাদের মধ্যে অসন্তোষ বেড়ে চলছে। জনগণ পানির দাবিতে রাজপথে নেমে আসছে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রেসিডেন্ট তার সফর সংক্ষিপ্ত করলেন।
রাষ্ট্রপতি দফতরের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘প্রেসিডেন্ট ইয়ামিন তার মালয়েশিয়া সফর সংক্ষিপ্ত করে (শনিবার রাতে) মালে ফিরে এসেছেন।’
ইয়ামিন শনিবার দেশবাসীকে জাতীয় সংকট নিরসনে সরকারের সঙ্গে সহযোগিতা করার পাশাপাশি ‘ধৈর্যশীল ও ঐক্যবদ্ধ’ থাকার আহ্বান জানান।
পানি সংকটের কারণে বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে এবং রেশন পদ্ধতিতে পানির বোতল বিতরণকারী দোকানগুলোতে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ প্রেক্ষাপটে সরকার জনরোষ প্রশমিত করতে রোববার ও সোমবার সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছেন।
বাসিন্দাদের কাছে জরুরি পানি সরবরাহ পৌঁছতে শুরু করায় রোববার মালের পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
বাসিন্দারা জানিয়েছেন প্রধান পানি সরবরাহকারীও সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য পানি সরবরাহ শুরু করেছে। তবে পানির চাপ খুব কম থাকায় বহুতল ভবনের উপর তলার অ্যাপার্টমেন্টে পানি উঠছে না।
শনিবার সরকার বলেছে যে, তারা এক লাখ ২০ হাজার রাজধানীবাসীকে বিনামূল্যে পানি সরবরাহ করবে, কিছু পানি বিতরণ কেন্দ্রে বিদেশী শ্রমিকদের পানি দেয়া হচ্ছে না বলে খবর বেরোনোর পর বলা হয়, বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও শ্রীলংকা থেকে আসা হাজার হোজার অভিবাসী শ্রমিককেও পানি সরবরাহ করা হবে।
মালদ্বীপের সাবেক প্রেসিডেন্ট মামুন আবদুল গাইয়ুমও মালদ্বীপের জনগণের প্রতি শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
বর্তমান প্রেসিডেন্টের সৎ ভাই সাবেক প্রেসিডেন্ট টুইটারে বলেন, ‘সরকার মালেতে যথাশীঘ্র পানি সংকট সমাধানে কঠোর পরিশ্রম করছে। সমাধান না হওয়া পর্যন্ত আমাদের শান্ত থাকা চাই।’
সরকারি কর্মকর্তারা জানান, শোধনাগারে অগ্নিকাণ্ডের ক্ষয়ক্ষতি সারিয়ে স্বাভাবিক পানি সরবরাহ শুরু করতে পাঁচ দিন পর্যন্ত লাগতে পারে। পানি সংকটের কারণে রাজধানী মালের অনেক হোটেল-রেস্তোরাঁ বন্ধ রয়েছে। অনেক রাজধানীবাসী পানির জন্য পার্শ্ববর্তী দ্বীপে যাচ্ছেন।
তবে পানি সংকটের কারণে দেশটির পর্যটন শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। রাজধানীর বাইরে অন্যান্য দ্বীপে অবস্থিত পর্যটন রিসোর্টগুলোতে আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে নিজস্ব বিদ্যুৎ উৎপাদন ও পানি শোধন ব্যবস্থা রয়েছে।
মালদ্বীপে বৃষ্টির পানি ধরে রাখার ব্যবস্থা অপ্রতুল। দেশটির ভূ-গর্ভস্থ পানি খাওয়া ধোঁয়ার কাজে ব্যবহার করা যায় না। বাসিন্দাদের সাগরের শোধিত পানির ওপর নির্ভর করতে হয়।