ব্রেকিং নিউজ

রাত ১১:০৩ ঢাকা, মঙ্গলবার  ১৮ই সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

পাক-ভারত সীমান্তে গুলি বিনিময়, নিহত ১০, আহত ৫০

ভারত ও পাকিস্তানের বিরোধপূর্ণ সীমান্তে আজ শুক্রবার দুই পক্ষের গুলিবিনিময়ে কমপক্ষে ১০ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত ও ৫০ জনেরও বেশি আহত হয়েছে।
পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, দেশটির পাঞ্জাব প্রদেশের শিয়ালকোটের কাছে ভারতীয় সেনাবাহিনীর গুলিতে ছয়জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে। অন্যদিকে ভারতের সেনাবাহিনীর এক কর্মকর্তা বলছেন, ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর গুলিতে কমপক্ষে চার গ্রামবাসী নিহত হয়েছে।
কাশ্মীরে গোলযোগের প্রেক্ষাপটে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে পরিকল্পিত উচ্চ পর্যায়ের আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্য এ গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটলো। দুই দেশ কাশ্মীরের দুই অংশ নিয়ন্ত্রণ করলেও পূর্ণাঙ্গ অঞ্চলটির দাবিদার উভয় পক্ষই।
দু’দেশই কাশ্মীর ও পাঞ্জাবের দক্ষিণাঞ্চলে বিরোধপূর্ণ সীমান্ত বরাবর গোলা ও মর্টার নিক্ষেপ করে। এতে উভয়পাশে সীমান্তবর্তী এলাকায় বসবাসরত বেসামরিক নাগরিক মারা পড়ছে।
পাকিস্তানের ঊর্ধ্বতন এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা এএফপিকে বলেন, শুক্রবার স্থানীয় সময় ভোর রাত তিনটার দিকে ভারতের সেনাবাহিনী প্রথমে গুলি ছোড়া শুরু করে এবং সকাল পর্যন্ত তা থেমে থেমে চলে। দেশটির সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে দেয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়, চাপরার ও হার্পাল সেক্টরে শিয়ালকোটের কাছে সীমান্ত বরাবর ভারত গোলা বর্ষণ করে ও গুলি ছুড়তে থাকে। এতে ছয়জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন। এছাড়া ২২ নারীসহ ৪৬ জন আহত হন।
ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে সে দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা বাহিনীর (বিএসএফ) কর্মকর্তা রাকেশ কুমার শর্মা অভিযোগ করেন, পাকিস্তান কোনো উসকানি ছাড়াই বেসামরিক নাগরিকদের ওপর মর্টার হামলা চালাচ্ছে।
ওই অঞ্চলের জ্যেষ্ঠ প্রশাসনিক কর্মকর্তা পবন কোতোয়াল বলেন, সীমান্তে গোলা বর্ষণের ঘটনায় চার গ্রামবাসী নিহত হয়েছে। তাদের মধ্যে তিনজন ভোরে মারা যায়। আহত একজন পরে হাসপাতালে মারা যায়।
বিএসএফের আরেক কর্মকর্তা জে এস ওবেরয় বলেন, পাকিস্তান সেনাবাহিনী ভারতের কমপক্ষে ১০টি সীমান্ত চৌকিতে হামলা চালিয়েছে। এতে ১৬ জন গ্রামবাসী আহত হয়েছে।
১৯৪৭ সালে স্বাধীনতা লাভের পর দুই দেশের মধ্যে তিনটি যুদ্ধ হয়েছে। এর মধ্যে দুটি যুদ্ধই হয়েছে কাশ্মীর নিয়ে।