Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

সকাল ৮:৪৫ ঢাকা, বৃহস্পতিবার  ১৫ই নভেম্বর ২০১৮ ইং

পাকিস্তানে জঙ্গিবাদ দমনে সামরিক আদালত প্রতিষ্ঠার ঘোষণা

পাকিস্তান সরকার গত সপ্তাহে পেশোয়ারের একটি স্কুলে নৃশংস তালেবান হামলায় অধিকাংশ শিশুসহ দেড় শতাধিক লোক নিহতের প্রেক্ষাপটে বৃহস্পতিবার দেশে সন্ত্রাসী কর্মকা- সংক্রান্ত মামলা পরিচালনার জন্য সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে বিশেষ আদালত প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়েছে।
নওয়াজ শরিফ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, সন্ত্রাসী হামলার সঙ্গে জড়িতদের প্রতি কোনো মায়া-দয়া দেখানো হবে না।
প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ সন্ত্রাস দমনে জাতীয় অ্যাকশন প্ল্যান তৈরির ব্যাপারে দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে এক বৈঠকে দীর্ঘ প্রায় ১১ ঘণ্টা আলাপ-আলোচনার পর মধ্যরাতে এক ভাষণে বলেন, জঙ্গিবাদের মূলোৎপাটনে কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন।
টেলিভিশনে প্রচারিত এ ভাষণে প্রধানমন্ত্রী জঙ্গিবাদ নির্মূলে ১৭ দফা কর্ম-পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এ সামরিক আদালত প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেন।
এক সপ্তাহ আগে পাকিস্তানের ইতিহাসে নৃশংসতম এ সন্ত্রাসী হামলার পর পর নওয়াজ শরিফ দেশে সন্ত্রাসী মামলার ক্ষেত্রে মৃত্যদ-াদেশের ওপর ছয় বছরের একটি স্থগিতাদেশ তুলে নেন।
নওয়াজ শরিফ বলেন, ‘সন্ত্রাসীদের দ্রুত বিচারের জন্য সামরিক কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে বিশেষ আদালত প্রতিষ্ঠা করা হবে।’
তিনি বলেন, বিশেষ আদালতগুলো দুই বছর কাজ করবে।
শরিফ বলেন, ‘পেশোয়ার নৃশংসতা পাকিস্তানকে বদলে দিয়েছে। জঙ্গিবাদ ও উগ্র শিয়া-সুন্নি মতাদর্শকে পরাস্ত করতে আমাদের সন্ত্রাসবাদের মানসিকতা দূর করতে হবে।’তিনি বলেন, ‘এই জঘন্য হামলা পুরো দেশকে কাঁপিয়ে দিয়েছে… সন্ত্রাসীরা ওই শিশুদের হত্যার মধ্য দিয়ে দেশের ভবিষ্যতের ওপর আঘাত করেছে।’
এই কর্মপরিকল্পনায় সন্ত্রাসীদের আর্থিক সহায়তা বন্ধ এবং নিষিদ্ধ সংগঠনগুলোর নতুন নামে কাজ করা রোধের বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
নওয়াজ শরিফ বিশেষ সন্ত্রাসবাদ দমন বাহিনী গঠন এবং ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মাদ্রাসাগুলোকে সরকারি নিয়ন্ত্রণে আনারও ঘোষণা দেন।
এই উচ্চাভিলাসী ‘কর্মপরিকল্পনা’য় সংবিধান সংশোধন, ইলেক্ট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় সšা¿সীদের সুযোগ দেয়া নিষিদ্ধকরণ এবং তাদের যোগাযোগ ব্যবস্থা ধ্বংস ও আফগান শরণার্থীদের দেশে ফেরত পাঠানোসহ ব্যাপক পদক্ষেপ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
নওয়াজ শরিফ বলেন, ‘একজন পিতা হিসেবে আমি বুঝি ওই কফিনগুলো তাদের পিতা-মাতার জন্য কতটা ভারী ছিল।’
শরিফ বলেন, ‘আমাদের সন্তানেরা রক্ত দিয়ে আমাদের ও সন্ত্রাসীদের মধ্যে একটি বিভাজন রেখা টেনে দিয়েছে।’
পেশোয়ার হামলার পর সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায় একটি পরিকল্পনা প্রণয়নে ইসলামাবাদে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে এ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে উপস্থিত সব দলের সদস্যরাই এই বিশেষ আদালত প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে একমত হন।
এদিকে বিরোধী দলীয় নেতা সাইদ খুরশিদ শাহ বলেছেন, ‘এই আদালতে কেবল সন্ত্রাসীদের বিচার করা হবে, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এই আদালত ব্যবহৃত হবে না।’
তিনি বলেন, ‘সামরিক আদালত প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য হলো সন্ত্রাসীদের দ্রুতবিচার নিশ্চিত করা। আমাদের বিচার ব্যবস্থায় অনেক ফাঁক-ফোকর থেকে গেছে এবং এটি কাক্সিক্ষত ফল দিতে ব্যর্থ হয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, সামরিক আদালত প্রতিষ্ঠা সুগম করতে সব রাজনৈতিক দল সংবিধান সংশোধন করতে সম্মত হয়েছে। বৈঠকে দেশের ইতিহাসে নৃশংসতম এ হত্যাকা-ের নিন্দা জানিয়ে সর্বসম্মতভাবে একটি নিন্দা প্রস্তাব পাস হয়।
তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের সদস্যরা পেশোয়ারে সেনাবাহিনীর পরিচালিত একটি স্কুলে হামলা চালিয়ে গত সপ্তাহে ১৫২ জনকে হত্যা করে।
এর মধ্যে ১৩৩ জনই ছিল শিশু। এই ঘটনা শুধু পাকিস্তান নয়, পুরো বিশ্বকে হতবাক করে দেয়।
এরপর দেশটিতে সন্ত্রাস বিরোধী অভিযান জোরদার করা হয়েছে।