ব্রেকিং নিউজ

রাত ১২:১২ ঢাকা, শনিবার  ২২শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

পাকিস্তানের নৃশংসতার বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের লিখিত দলিল টরেন্টো ঘোষণা

বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ অস্বীকার করে পাকিস্তান নির্লজ্জ মিথ্যাচার করেছে।
পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের একটি লিখিত দলিল টরেন্টো ঘোষণা। ১৯৭১ সালের ২১ আগস্টে এই ঘোষণা পাকিস্তানের নৃশংসতার বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছিল।
বিশ্বের বিশ জনেরও বেশি বিশিষ্ট জনের স্বাক্ষরিত টরেন্টো ঘোষণায় ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময়ে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের চার মাসের নৃশংস হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করতে পাকিস্তানকে সামরিক ও অর্থনৈতিক সহায়তা প্রদানকারী দেশসমূহের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়।
টরেন্টো ঘোষণায় বলা হয়, পূর্ব পাকিস্তানে সম্প্রতিক সময়ে পশ্চিম পাকিস্তানের বর্বরোচিত ও নৃশংস গণহত্যার কারণে লাখ লাখ লোক তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে প্রতিবেশী দেশে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়।
ঘোষণায় পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে সংশ্লিষ্ট দেশের রাষ্ট্র অথবা সরকার প্রধানের উপর চাপ সৃষ্টি করতে যে সকল দেশের জনগণের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
১৯৭১ সালের ১৯ আগস্ট থেকে ২১ আগস্ট পর্যন্ত টরেন্টোতে অনুষ্ঠিত একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে (দক্ষিণ এশিয়া সম্মেলন) এই ঘোষণা দেয়া হয়। সম্মেলনে দক্ষিণ এশিয়ার একটি রাষ্ট্র হিসেবে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করা হয়। সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিশিষ্ট জনদের মধ্যে সংসদ সদস্য, প-িত, প্রশাসক ও সম্পাদকগণসহ আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত দক্ষিণ এশিয়ার বিশিষ্ট জনেরা পাকিস্তানের নৃশংসতার নিন্দা জানান।
বেসরকারি ত্রাণ সংস্থা ওক্সফার্মের সহযোগিতায় এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
জাতিসংঘের কারিগরি সহায়তার সাবেক মহাপরিচালক এবং ইন্দোনেশিয়ায় নিযুক্ত কানাডার সাবেক রাষ্ট্রদূত মি. হুগ কিনলেসাইডর এতে সভাপতিত্ব করেন। সম্মেলনে ভারতে নিযুক্ত সে সময়ের মার্কিন রাষ্ট্রদূত হার্বার্ডের অধ্যাপক জন কেনেথ গ্যালব্রিথ ভাইস চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন।
সম্মেলন থেকে পূর্ব পাকিস্তানে নৃশংসতা বন্ধে পাকিস্তান সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি করার জন্য পাঁচ দফা দাবি সুপারিশ করা হয়। তারা পাকিস্তানে সকল প্রকার সামরিক সরবরাহ বন্ধ। সকল প্রকার অর্থনৈতিক সহায়তা স্থগিত এবং জাতিসংঘের নির্দেশনা ও পরিচালনায় পূর্ব পাকিস্তানে ব্যাপক ত্রাণ তৎপরতা চালাতে জরুরি কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়নে সকল প্রকার উৎস ব্যবহার করার আহ্বান জানানো হয়।
ঘোষণার অপর দু’টি দাবি ছিল ভারতে আশ্রয় গ্রহণকারী শরণার্থীদের জন্য পর্যাপ্ত ত্রাণের ব্যবস্থা করা এবং পাকিস্তানের কারাগারে আটক শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হস্তক্ষেপ কামনা।
ঘোষণায় স্বাক্ষরদানকারীরা হলেনÑ ই. জনসন, এন.সি. দহল, জি. পাপানেক, জে.টি থোরসন, জেনারেল জে.এন চৌধুরী, প্যাট্রিক পি. ডারম্যাট, নিয়াল ম্যাকডারমোট, চেষ্টার রোনিং, জ্যামস ব্যারিংটন, হান্নান পাপানেক, বার্নার্ড ব্রানিয়ে, এম. পি, জন হোলমস, অজিত ভট্টাচার্য, নূরুল হোসাইন, জন ই. রোধে, এম.ডি, রেভ. ইওইন এ. ম্যাককে, জিরার্ড ল্যাসেনে, থমস এ ডিনে, হুঘ এল. কীনসলেসাইড, রেভ. আর্নেস্ট লং, জডিথ হার্ট, এম. পি, কোর্নেলিয়া রোডে, স্ট্যানলে ওলপার্ট, রবার্ট ড্রোফম্যান, হোরনার এ. জ্যাক।
ঘোষণায় পূর্ব পাকিস্তানের পরিস্থিতিকে সমগ্র বিশ্বের জন্য হুমকি হিসেবে বর্ণনা করে বলা হয়, বর্তমান পরিস্থিতি দক্ষিণ এশিয়ার সাবকন্টিনেন্টে এবং সমগ্র বিশ্বের উভয় ক্ষেত্রে শান্তির জন্য একটি হুমকি। এই ঘটনায় পরাশক্তির সম্পৃক্তাকে ভয়াবহ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
সম্মেলনে পূর্ব পাকিস্তানের সংকটের অবসানে একটি রাজনৈতিক সমাধানের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করে সকল প্রকার হত্যাকা- বন্ধের আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, একমাত্র রাজনৈতিকভাবে এই সংকটের সমাধান হতে পারে।
এতে আরো বলা হয়, পূর্ব পাকিস্তানে জনগণের গণতান্ত্রিক মতামত ছাড়া রাজনৈতিক সমাধান স্থায়ী হতে পারে না।