ব্রেকিং নিউজ

ভোর ৫:১৯ ঢাকা, মঙ্গলবার  ২৫শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

রেক্স টিলারসন
পাকিস্তানকে তাদের নিজেদের স্বার্থেই ব্যবস্থা নিতে হবে - রেক্স টিলারসন

পাকিস্তানকে নিয়ে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির নজির চোখে পড়েনা

কাগজে কলমে এখনো পাকিস্তান আমেরিকার ঘনিষ্ঠ মিত্র, কিন্তু আফগান সঙ্কট নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার যে ভাষায় পাকিস্তানের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন, তার নজির খুব একটা চোখে পড়েনা।

তিনি খোলাখুলি হুমকি দিয়েছেন, তালেবানকে নিজেদের মাটিতে নিরাপদ আশ্রয় দেয়া বন্ধ করতে হবে পাকিস্তানকে।

তিনি যদি মনে করেন পাকিস্তান তার কথা শুনছে না, তাহলে আমেরিকা কী করবে – সেটা খোলাসা করেননি মি ট্রাম্প। তবে মুখে তিনি যেটা বলেছেন তা হলো – আমেরিকা আফগানিস্তানে ভারতের অধিকতর ভূমিকা দেখতে চায়। মি ট্রাম্প হয়তো মনে করছেন, ভারতের ভূমিকা নিয়ে এই বক্তব্য পাকিস্তানের ওপর মারাত্মক চাপ তৈরি করবে।

কিন্তু মার্কিন সেনাবাহিনীর সাবেক উপ-প্রধান জেনারেল জ্যাক কিন, যার সাথে বর্তমান আমেরিকান প্রশাসনের ঘনিষ্ঠতা রয়েছে, তিনি বলেছেন – প্রেসিডেন্ট যেটা মুখে বলেননি তা হলো যদি পাকিস্তান তালেবানের ‘নিরাপদ আশ্রয় শিবিরগুলো’ বন্ধ না করে, তাহলে আমেরিকাকেই সেই দায়িত্ব নিতে হবে।

জেনারেল কিন যেটা ইঙ্গিত করেছেন, তালেবানকে শায়েস্তা করতে পাকিস্তানের ভেতরে সামরিক অভিযান চালাতে পেছপা হবেনা আমেরিকা।

মি ট্রাম্পের এই হুমকির পরদিনই (বুধবার) পাকিস্তানের প্রতি চাপ অব্যাহত রেখেছেন তার পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন। তিনি বলেছেন, আফগানিস্তানে প্রেসিডেন্টের নতুন কৌশলকে অবশ্যই গুরুত্ব দিতে হবে পাকিস্তানকে।

তা না হলে, মি টিলারসন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে পাকিস্তান যে ‘বিশেষ মর্যাদা’ পেয়ে আসছে তা হারাতে হবে। “পাকিস্তানকে তাদের নিজেদের স্বার্থেই ব্যবস্থা নিতে হবে।”

পাকিস্তান এখনো প্রতি বছর গড়ে প্রায় ৩০ কোটি ডলারের সামরিক সাহায্য পায় আমেরিকার কাছ থেকে, যদিও তালেবান ইস্যুতে সে সব সাহায্যের অনেকগুলো এখন স্থগিত।

এখন পর্যন্ত পাকিস্তান সরকার আমেরিকার নতুন এই হুমকির ব্যপারে খুব বেশি কথা বলেনি। তাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শুধু বলেছে – পাকিস্তান তালেবানকে কখনই নিজেদের মাটিতে আশ্রয় দেয়না এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই বক্তব্যকে পাকিস্তান নিন্দা করে।

তবে আমেরিকা, আফগান সরকার এবং পশ্চিমা বিশ্লেষকদের মধ্যে কোনো সন্দেহ নেই যে পাকিস্তান তাদের কৌশলগত স্বার্থে তালেবানকে গোপনে সাহায্য সহযোগিতা করছে ।

কিন্তু আমেরিকার এই হুমকি ধামকিতে তা কি বন্ধ করবে পাকিস্তান?

বিবিসির কূটনৈতিক বিষয়ক সংবাদদাতা জনাথন মার্কাস বলছেন, পাকিস্তান এখন আমেরিকার “আধা মিত্র -আধা সমস্যা।”

আর কাবুল থেকে সেকেন্দার কেরমানি সন্দেহ প্রকাশ করে বলছেন – একসময়কার ঘনিষ্ঠ মিত্রের সাথে আমেরিকার দিন দিন দূরত্ব তৈরি হচ্ছে, এবং কৌশলগত কারণেই আমেরিকার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী চিনের সাথে পাকিস্তানের ঘনিষ্ঠতা বাড়ছে।

বিশ্লেষকদের মধ্যে কোনো সন্দেহ নেই যে পাকিস্তান আফগানিস্তানে ভারতের প্রভাব দেখতে নারাজ।

এছাড়া, উর্দু বিভাগের আসাদ আলী বলছেন, পাকিস্তান চায় ভবিষ্যতে আফগান সঙ্কটের রাজনৈতিক সমাধান হলে, এমন কোনো সরকার যেন কাবুলে বসে যাদের ওপর তারা ভরসা করতে পারে।

“ফলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যে আফগানিস্তানে ভারতের অধিকতর ভূমিকার কথা বলেছেন, সেটা পাকিস্তানের সরকার বা সেনাবাহিনী একবারেই ভালোভাবে নেবেনা।”

এছাড়া, কাবুলে দাউদ আজমি বলছেন, গত কয়েক বছরে আফগানিস্তানে রাশিয়া, চিন এবং ইরানের ভূমিকার কারণে আমেরিকার জন্য পরিস্থিতি আরো কঠিন হয়ে পড়ছে।

প্রধানত ইসলামিক স্টেটের উত্তরোত্তর প্রভাব নিয়ে উদ্বেগের কারণে, রাশিয়া এবং ইরান তালেবানের সাথে যোগাযোগ শুরু করেছে। এমন খবরও রয়েছে যে তালেবান নেতৃত্ব সম্প্রতি রাশিয়ার ভেতরে গিয়ে রুশ কর্তৃপক্ষের সাথে বৈঠক করে এসেছেন।

দাউদ আজমি বলছেন, রাশিয়া এবং ইরানের সাথে তালেবানের এই যোগাযোগ পাকিস্তানকে সুবিধে দিচ্ছে। “তাদের ওপর আমেরিকার চাপ সামাল দেওয়া পাকিস্তানের জন্য এখন সুবিধে হচ্ছে।”

মি ট্রাম্পের এই হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে আগামিকাল (বৃহস্পতিবার) ইসলামাবাদে পাকিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ এক বৈঠকে বসছে। আমেরিকার হুমকিকে পাকিস্তান কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে বৈঠকের পর তা হয়তো কিছুটা বোঝা যাবে। -বিবিসি

 

http://www.bbc.com/bengali/news-41024577