ব্রেকিং নিউজ

সকাল ১০:১৯ ঢাকা, শনিবার  ১৭ই নভেম্বর ২০১৮ ইং

শেখ হাসিনা
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

পলাতক তারেককে দেশে ফিরিয়ে নিব : প্রধানমন্ত্রী

কমনওয়েলথ সম্মেলনে যোগ দিতে এখানে সফররত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, পলাতক আসামী তারেক রহমানকে তার অপরাধের জন্য অবশ্যই বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। তিনি বলেন, তার সরকার তারেককে দেশে ফিরিয়ে নিতে যুক্তরাজ্য সরকারের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী গতকাল এখানে এক অনুষ্ঠানে বলেন, তারেককে আদালতে বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। আমরা অবশ্যই একদিন তাকে দেশে ফিরিয়ে নিব। তিনি তারেকের মতো সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামীকে আশ্রয় দেয়ার জন্য যুক্তরাজ্যের সমালোচনা করে বলেন, আমরা তাকে দেশে ফিরিয়ে নিতে যুক্তরাজ্য সরকারের সঙ্গে কথা বলছি।

শেখ হাসিনা বলেন, ব্রিটেন একটি মুক্ত দেশ। যে কেউ এ দেশে আশ্রয় প্রার্থনা করতে পারে। তবে তারেক রহমান তো একজন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামী। তার অপরাধের জন্য আদালত তাকে সাজা দিয়েছে। আমি বুঝতে পারছি না, যুক্তরাজ্য কেন একজন সাজাপ্রাপ্ত আসামীকে আশ্রয় দিয়েছে। হাইকোর্ট একটি দুর্নীতি মামলায় তিন বছর আগে তাকে ৭ বছরের সাজা দিয়েছে। এ ছাড়া কয়েকটি মামলায় তারেকের বিরুদ্ধে আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে। কয়েকটি ফৌজদারি ও দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত আসামী হওয়ায় তাকে পলাতক ঘোষণা করা হয়েছে। এই পলাতক আসামীকে কি করে বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ঘোষণা করা হলো।

তারেক রহমান ২০০৭ সালের পর থেকে লন্ডনে বসবাস করছে। অর্থ পাচার আইনে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়। হাইকোর্ট ২০১৬ সালে মামলার রায়ে তার ২০ কোটি টাকা জরিমানা করে। তারেক ২০০৪ সালে আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলা মামলার মূল পরিকল্পনাকারী আসামী। এই হামলায় আওয়ামী লীগের ২৪ জন নেতাকর্মী নিহত হন। শেখ হাসিনা অল্পের জন্য প্রাণে বেঁেচ যান। তবে কানে শুনার ক্ষেত্রে তার স্থায়ী সমস্যা হয়।

বাংলাদেশ এর আগে তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে দিতে লন্ডনের প্রতি আহবান জানায়। তবে ব্রিটিশ সরকার এ বিষয়টিকে ব্যক্তিগত বিষয় হিসেবে উল্লেখ করে এ ব্যাপারে প্রকাশ্য কোন বক্তব্য দিতে অস্বীকার করে।

বিগত সামরিক সমর্থিত সরকারের সময়ে তারেকের বিরুদ্ধে কয়েকটি মামলা থাকা সত্ত্বেও সে সময়ে সুপ্রিম কোর্টের আদেশে তাকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাবার অনুমতি দেয়া হয়। তিনি আর দেশে ফিরে আসেননি। সেখানেই বসবাস করছেন। লন্ডনে থেকেই এখন তিনি দলের ভাইস চেয়াম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন। গত ফেব্রুয়ারি মাসে একটি দুর্নীতি মামলায় তার মা ও দলের চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার ৫ বছর কারাদন্ডাদেশে তাকে জেলে পাঠানোর পর লন্ডনে বসবাসরত তারেককে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়াম্যান করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী ওভারসিজ ডেভেলপমেন্ট (ওডিআই)-এ প্রধান বক্তা হিসেবে ‘বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট স্টোরি : পলিসি প্রগ্রেস এন্ড প্রসপেক্টস্’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠানে এ মন্তব্য করেন। তার এ বক্তৃতায় রোহিঙ্গা ইস্যুও বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। বাংলাদেশ ও মিয়ানমার উভয় দেশের মধ্যে মন্ত্রীপর্যায়ের সফর বিনিময়ের প্রেক্ষাপটে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের ব্যাপারে ঢাকার সঙ্গে চুক্তি সম্পাদন সত্যেও সাড়া না দেওয়ার জন্য শেখ হাসিনা মিয়ানমারকে অভিযুক্ত করেন। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ সরকার-এর প্রতি বন্ধুসুলভ মনোভাব দেখালেও দুর্ভাগ্যজনকভাবে মিয়ানমার তাদের প্রত্যাবাসনে কোন উদ্যোগ গ্রহণ করছে না।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশটি এতে আগ্রহ দেখালেও প্রত্যাবাসনে কিছুই করেনি এবং এ কারণেই আমরা চাই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় মিয়ানমারের ওপর আরো চাপ সৃষ্টি করুক।’

তিনি বলেন, ‘অনেক শরণার্থী শূন্য রেখার ওপর অবস্থান করলেও মিয়ানমার মাত্র একটি পরিবারের অর্ধেক সদস্যকে গ্রহণ করেছে, কারণ সম্ভবত তারা বিশ্বকে দেখাতে চায় তারা তাদের ফিরিয়ে নিচ্ছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এটা একটা ভালো লক্ষণ কিন্তু একটি পরিবারের কেবল অর্ধেক লোককে কেনো?’

শেখ হাসিনা বলেন, এদিকে বর্ষাকালও এগিয়ে আসছে। রোহিঙ্গারা যাতে ভালোভাবে বসবাস করতে পারে তার জন্য তাঁর সরকার রোহিঙ্গাদের একটি জায়গায় সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করছে। কারণ, এখন যেসব অস্থায়ী তাঁবুতে তারা গাদাগাদি করে বসবাস করছে সেখানে কোন দুর্যোগ ঘটতে পারে। তিনি বলেন, ‘আমরা খাদ্যসহ সকল প্রকার সহযোগিতা প্রদান করছি।’ তিনি আরো বলেন, তাঁর সরকার সেখানে কিছু ঘর-বাড়ি ও ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণের কাজ শুরু করেছে যাতে তারা সেখানে যেতে পারে। ইচ্ছা করলে জীবন ধারণের জন্য তারা সেখানে কিছু করতেও পারবে।