Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

সন্ধ্যা ৭:০৯ ঢাকা, মঙ্গলবার  ২০শে নভেম্বর ২০১৮ ইং

মন্দির কর্তৃপক্ষ বলছে কজন পর্যটককে জুতা পরে প্রবেশ করতে মানা করার জন্য তাদের হুমকি ধামকির মুখে পড়তে হয়েছে। (ছবি: সুপ্রীতি ধর)

পর্যটকদের জন্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে যাচ্ছে স্বর্ণ মন্দির কর্তৃপক্ষ

বান্দরবান জেলায় অবস্থিত অন্যতম একটি দর্শনীয় স্থান ‘বুদ্ধ ধাতু জাদি’ যেটি মূলত স্বর্ণ মন্দির নামেই পরিচিত সেই মন্দিরে পর্যটকদের ভ্রমণের ওপর অনির্দিষ্টকালের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে যাচ্ছে মন্দির কর্তৃপক্ষ।

আগামী ২০শে ফেব্রুয়ারি থেকে এটি কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে।

তবে মন্দির কর্তৃপক্ষ বলছে পূজা বা ধর্মীয় রীতিনীতি পালন করতে চাইলে অনুমতি নিয়ে মন্দিরে প্রবেশ করা যাবে।

কেন এমন সিদ্ধান্ত?

মন্দির কর্তৃপক্ষ বলছে , দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা পর্যটকরা বৌদ্ধ মন্দিরের পবিত্রতা নষ্ট করছে, বিভিন্নভাবে ভক্তদের হয়রানিও করেছে।

স্বর্ণ মন্দিরের প্রধান পুরোহিত উপ ঞ ঞা জোত মহাথেরের সেক্রেটারি বাচ মঙ জানিয়েছেন, “পর্যটকেরা মন্দিরের বিভিন্ন মূর্তি স্পর্শ করে এমনকি পূজার আসনে বসে মন্দিরের পবিত্রতা নষ্ট করছে”।

“মন্দিরের পূজার দ্রব্য ফেলে দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটিয়েছে। অনেক পর্যটক জুতা নিয়েও মন্দিরে প্রবেশ করে। তাদের বাধা দিয়ে বাকবিতন্ডা তৈরি হয়েছে, মন্দিরের কর্মকর্তারা হুমকি-ধামকির মুখেও পড়েছেন”-বলেন মি: মঙ।

বিভিন্ন ঘটনার প্রেক্ষিতেই মন্দির কর্তৃপক্ষ পর্যটকদের জন্য স্বর্ণ মন্দিরে ভ্রমণে অনির্দিষ্টকালের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে যাচ্ছে বলে জানান বাচ মঙ।

অন্যদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা এমন সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারছেননা।

তারা বলছেন, মন্দিরে প্রবেশে অনির্দিষ্টকালের নিষেধাজ্ঞা আরোপের এ সিদ্ধান্তের কারণে জেলার পর্যটন ব্যবসায় ক্ষতি হতে পারে।

প্রায় ত্রিশ বছর ধরে বান্দরবানে বাস করছেন মফিজুল ইসলাম মামুন। স্বর্ণ মন্দিরে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারছেননা তিনি।

মি: মামুন বলছিলেন, “দেশ-বিদেশের বিভিন্ন অনুদানে এই মন্দির হয়েছে। এটা দর্শনীয় একটা স্থান। এটাতো এভাবে বন্ধ করা ঠিকনা। তারা তাদের পূজার জন্য নির্দিষ্ট একটা সময়ে বন্ধ রাখতে পারে কিন্তু এভাবে অনির্দিষ্টকালের নিষেধাজ্ঞা আনা ঠিক নয়। অনেক বিদেশী বন্ধুর এসেই গোল্ডেন টেমপলে যাবো অর্থাৎ স্বর্ণ মন্দিরে যাবার কতা বলে। এটাতো আমাদের দেশের জন্যও ক্ষতি”।

এ প্রসঙ্গে বাচ মঙ বলছেন “অনুমতি সাপেক্ষে তাদের মন্দিরে প্রবেশের বিষয়টি পর্যালোচনা করবেন মন্দিরের প্রধান”।

এমনকি পর্যটক বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মন্দিরের পবিত্রতা ও নিরাপত্তার বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারলে ভবিষ্যতে এটি আবার উন্মুক্তও করে দেয়া হতে পারে বলে জানিয়েছেন মি: মঙ। বিবিসি