Press "Enter" to skip to content

পদ্মা সেতু নিয়ে এখনো রাজনীতি চলছে

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, পদ্মা সেতু নিয়ে এখনো রাজনীতি চলছে। আজ তিনি মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার দোগাছির পদ্মা সেতু সার্ভিস এরিয়া ওয়ান-এ এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন।
সেতু মন্ত্রী বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘তিনি বলেছেন আমরা কমিশন অর্šÍভূক্ত করেছি। তাই পদ্মা সেতুর নির্মাণ ব্যয় বেড়েছে। আসলে আমাদের কমিশন খাওয়ার অভ্যাস নেই। যাদের আছে তারা কমিশনের কথা বলে পদ্মা সেতুকে আবারো অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিতে চাচ্ছে।’
তিনি বলেন, কমিশন খাওয়ার অভ্যাস তাদেরই ছিল। কমিশনের কথা বলে পদ্মা সেতুর কাজকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে না দিয়ে বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে পদ্মা পাড়ে এসে এখানে কি হচ্ছে দেখে যেতে তিনি অনুরোধ করেন।
তিনি বলেন, ১২০ মিটার গভীরে এখন পাইল বসানো হচ্ছে। এখানকার বিশাল কর্মযজ্ঞ দেখে যাওয়ার অনুরোধ রইলো। কিভাবে কাজ হচ্ছে। কোথায় অতিরিক্ত কাজ হচ্ছে। কোথায় কমিশন নিচ্ছি। কমিশনের অপবাদ দিবেন না। তিনি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে পদ্মা সেতুর অতিরিক্ত নির্মাণ ব্যয় নিয়ে অন্ধকারে ঢিল না ছোড়ার অনুরোধ করেন।
তিনি বলেন, সততা ও স্বচ্ছতা নিয়ে কথা বলবেন না। নিজস্ব অর্থায়নের কাজে আপনাদের কেন জ্বালাপোড়া। বিশ্ব ব্যাংক চলে গেলেও অনেকেই চায়নি আওয়ামী লীগ পদ্মা সেতু করুক। তারা বাধা দিয়ে বিরূপ মন্তব্য করে কাজ বন্ধ করতে চেয়েছিল। কিন্তু বন্ধ করতে পারেনি। এখন এখানে সাড়ে আট হাজার কোটি টাকার মত অতিরিক্ত ব্যয় পাশ হয়েছে। মিডিয়া এটাকে ভাল চোখে দেখছে।
তিনি বলেন, পদ্মা সেতু কোন দলের সম্পদ নয়, এটা দেশের সম্পদ। বর্তমান সরকার নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু করে সাহসের প্রমাণ দিয়েছে।
তিনি বলেন, বিশ্ব ব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট বলে গেছেন পদ্মা সেতু থেকে সরে যাওয়া তাদের ভুল ছিল। বিশ্ব ব্যাংক চুরির অভিযোগ করলেও তা প্রমান করতে পারেনি। শতভাগ স্বচ্ছতা নিয়েই পদ্মা সেতুর কাজ হচ্ছে।
ওবায়দুল কাদের বলেন, পদ্মা সেতু হচ্ছে বিশ্বের ১৭তম বৃহত্তম সেতু। ডলারের দাম ৬৯টাকা থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৭৮টাকায় দাঁড়িয়েছে। ২০১০ সালে ডিপিপি করার সময় পুরোপুরি করা হয়নি। ২০১০ সালের পরে কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ড করতে ৪ বছর লেগেছে। ৫শ’ একর অতিরিক্ত জমি অধিগ্রহন করতে হয়েছে। মাওয়ায় ১.৩ কি. মি. নদী শাসনের জন্য ও জাজিরায় ২ কি.মি. কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ডে জন্য অতিক্তি জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। উভয় পাড়ে সড়ক নির্মাণ দীর্ঘ ও প্রসস্ত করা হয়েছে। ফলে পদ্মা সেতুর নির্মাণ ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে।
মন্ত্রী আরো বলেন, জাইকা মেট্রো রেলের কাজ করছে। তিন বছর আগে তা পাশ হয়েছে। আগামী মাসে মেট্রো রেলের নির্মাণ কাজ শুরু হবে।
তিনি বলেন, বর্তমানে রাস্তা খারাপ নেই। রাস্তা খারাপের জন্য দেশে কোন সড়ক দুর্ঘটনা হচ্ছেনা। বরং চালকদের বেপরোয়া গাড়ী চালানোর ফলেই দুর্ঘটনায় মানুষ মারা যাচ্ছে। এমনকি কুয়াশার মধ্যেও চালকরা বেপরোয়াভাবে গাড়ী চালাচ্ছে। ফলে বঙ্গবন্ধু সেতুতে গত শনিবার দুর্ঘনায় ভূমি মন্ত্রীর ছেলেসহ বেশ কয়েকজন মারা গেছে।
সেতু মন্ত্রী বলেন, জন কল্যাণ সমিতি নামে একটি ভূয়া সংগঠন গত বছর সড়ক দুর্ঘটনার মারা যাওয়া লোকের যে সংখ্যা দিয়েছে তা সঠিক নয়। পুলিশের হিসাব অনুযায়ী গত ১১ মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় ২হাজার ১৭৭ জন মারা গেছে । পুলিশের হিসাব যদি ঠিকও না হয়ে থাকে তাতে বড়জোড় দ্বিগুণই হবে। কিন্তু ৮ হাজার ৩শ’ লোক কোথায় মারা গেলো তা বোধগম্য নয়।
সেতু মন্ত্রী বলেন , মোটরযান অধ্যাদেশেকে শিঘ্রই আইনে পরিণত করা হবে। বিল আকারে সংসদের আগামী অধিবেশনে তা পাশ করা হবে। সে আইনে দুর্ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের কঠোর শাস্তির বিদান
রাখা হবে।
এ সময় সেখানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পদ্মা সেতু বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী (নদী শাসন) সারফুল ইসলাম, নির্বাহী প্রকৌশলী (পুনর্বাসন) তোফাজ্জল হোসেন ।

Mission News Theme by Compete Themes.