Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

রাত ২:১৯ ঢাকা, বুধবার  ২১শে নভেম্বর ২০১৮ ইং

পদ্মা সেতু আর কোন স্বপ্ন নয়, এখন এটি বাস্তবতা

পদ্মা বহুমুখী মূল সেতুর নির্মাণ ও নদী শাসন কাজ আগামীকাল আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়ার প্রেক্ষাপটে দেশবাসীর কাছে পদ্মা সেতু আর কোন স্বপ্ন নয়, এখন এটি বাস্তবতা।
প্রধানমন্ত্রী আগামীকাল সকালে শরীয়তপুরের জাজিরা ও মুন্সিগঞ্জের মাওয়ায় মূল সেতুর নির্মাণ ও নদী শাসন কাজের উদ্বোধন করবেন।
আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার সকালে জাজিরা পয়েন্টে এক সুধী সমাবেশে এবং বিকেলে মুন্সিগঞ্জের লৌহজং উপজেলার উত্তর মেদিনি মন্ডলের খানবাড়ী প্রাঙ্গণে স্থানীয় আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক জনসভায় ভাষণ দেয়ার কথা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সেতু দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত করবে এবং দক্ষিণাঞ্চলের ১৯ জেলার প্রায় ছয় কোটি লোকের জীবন ও জীবিকায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে। কারণ এই সেতুর মাধ্যমে দক্ষিণাঞ্চলের লোকদের রাজধানী ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপিত হবে।
তারা আরো বলেন, এই সেতুর ফলে এসব জেলার জনগণের দীর্ঘ দিনের ভোগান্তির লাঘব হবে। তাদের ভ্রমণ সময় বাঁচবে দুই থেকে তিন ঘণ্টা।
সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, মুন্সিগঞ্জের মাওয়া ও শরীয়তপুরের জাজিরার মধ্যেকার ৬.১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ বহুল প্রতীক্ষিত এই পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ ২০১৮ সালে সম্পন্ন হবে বলে সরকার আশা করছে।
তিনি গতকাল বৃহস্পতিবার সেতু নির্মাণ কাজ পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘নির্মাণ প্রক্রিয়া দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাওয়ায় এই পর্যন্ত সেতুর প্রায় ২৭ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। সাহসী ও গতিশীল নেতৃত্বের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ।’
মন্ত্রী বলেন, বিজয়ের মাসে পদ্মা সেতুর মূল নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করে শেখ হাসিনা জাতির জন্য আরেকটি বিজয় নিশ্চিত করবেন।
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বাঙ্গালি জাতি ১৯৭১ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধ করে বিজয় অর্জন করেছে এবং ২০১৫ সালে বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদ্মা বহুমুখী সেতু উন্মুক্ত করার মাধ্যমে অর্থনৈতিক বিজয় অর্জন করতে যাচ্ছেন।
মন্ত্রী বলেন, গাড়ি ও রেল চলাচলের জন্য পদ্মা সেতুতে দু’টি স্তর থাকবে। উপরের স্তর দিয়ে গাড়ি চলাচল করবে, এটি কনক্রিটে তৈরি হবে এবং নিচ দিয়ে রেল চলবে এটির কাঠামো হবে স্টিলের।
কর্মকর্তারা বলেন, ব্রিজ নির্মাণ সম্পন্ন হলে এটি হাইওয়ে ও রেল লাইনের সঙ্গে যুক্ত হবে এবং রাজধানীর সঙ্গে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের ১৯ জেলার যোগাযোগ স্থাপিত হবে। জাজিরা ও মাওয়া সাইটে এ্যাপ্রোচ সড়কের ৬০ শতাংশ কাজ ইতোমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে।
সরকার নিজস্ব অর্থায়নে ২৮,০০০ কোটি টাকা ব্যয়ে দেশের বৃহত্তম অবকাঠামো পদ্মা সেতু নির্মাণ করছে।
পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ ৫টি ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে। মূল সেতু, নদী শাসন, দু’টি লিংক রোড এবং অবকাঠামো (সার্ভিস এলাকা) নির্মাণ।
পদ্মা সেতু প্রকল্প পরিচালক এম শফিকুল ইসলাম বলেন, সেতুর মূল নির্মাণ কাজ হচ্ছে- পাইলিং ও নদী শাসন।
মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, ডিজাইন এবং পদ্মা সেতুর উভয় অংশে ঢাকা থেকে যশোর ১৬০ কিলোমিটার রেলওয়ে নির্মাণের ভূমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে।
মূল সেতু নির্মাণে চায়না রেলওয়ে মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কর্পোরেশনকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। নদী শাসনের জন্য গত চার মাস ধরে মাটি পরীক্ষা ও খনন কাজ চলছে।
সেতুতে মোট ৪২টি পিলার থাকবে। পিলারের ওপর স্টিলের স্প্যান বসানো হবে। সেতুতে মোট ৪১টি স্প্যান বসানো হবে।
নদী শাসনের জন্য চীনের সিনোহাইড্রো কর্পোরেশনকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে এবং বাংলাদেশের আবদুল মোমেন লিমিটেডকে দুটি অ্যাপ্রোচ রোড ও অবকাঠামো নির্মাণের কাজ দেয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বুয়েট এবং কোরিয়া এক্সপ্রেসওয়ে কর্পোরেশন অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটস সেতুর নির্মাণ কাজ তদারকি করবে। আশা করা হচ্ছে- এই সেতু দেশের ব্যবসা এবং উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক কার্যক্রম জোরদার করবে।