ব্রেকিং নিউজ

বিকাল ৪:৫২ ঢাকা, বুধবার  ১৯শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

পদোন্নতি পিছিয়ে গেল

ডিসেম্বরের মধ্যে সুপিরিয়র সিলেকশন বোর্ড (এসএসবি) বৈঠকে বসছে না। অর্থাৎ প্রশাসনের তিন স্তরে ব্যাপকহারে পদোন্নতির যে উদ্যোগ নেয়া হয়েছিলো তা এ মাসে আর হচ্ছে না। এমনকি জানুয়ারির প্রথমার্ধেও বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা নেই। আগামী ১৫ জানুয়ারির পর এসএসবি’র বৈঠক হতে পারে। তাও সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে।

সূত্রমতে, জনপ্রশাসনের এই পদোন্নতিকে কেন্দ্র করে নানা রকমের সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। প্রথমত, প্রশাসনে অস্থিতিশীলতার আশঙ্কা। অর্থাৎ এর প্রতিক্রিয়া কি হতে পারে তা নিশ্চিত নয়। দ্বিতীয়ত, এমনিতেই প্রত্যেকটি স্তরে পদের চেয়ে অতিরিক্ত কর্মকর্তার সংখ্যা অনেক বেশি। নতুন করে কোন স্তরে কতজনকে পদোন্নতি দেয়া হবে, কারা পদোন্নতি পাবেন- সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া যায়নি। সর্বশেষ, যাদেরকে পদোন্নতির বিবেচনায় আনা হচ্ছে এদের কাছ থেকে ২০১৩ সালের এসিআর সংগ্রহের জন্য বলা হয়েছে। এ কার্যক্রমও এখন পর্যন্ত সম্পন্ন হয়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, আগামী ৩ জানুয়ারির আগে এ বিষয়ে এসএসবি’র কোনো বৈঠকের সম্ভাবনা নেই। ৩ জানুয়ারি জনপ্রশাসন সচিব বিদেশ সফরে যাচ্ছেন। তিনি বিদেশ থেকে ফেরার পর এ বিষয়ে উদ্যোগ নেয়া হবে। তাও সেই পর্যন্ত সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে।

এদিকে আগামী ৫ জানুয়ারি থেকে দেশে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার আশঙ্কা করা হচ্ছে। রাজনীতির মাঠ যদি সত্যি সত্যিই অস্থিতিশীল হয়ে উঠে সেক্ষেত্রে প্রশাসনে সরকার নতুন করে অস্থিতিশীলতার ঝুঁকি নেবে না। অর্থাৎ সেক্ষেত্রে পদোন্নতির প্রক্রিয়া অনির্দিষ্টকালের জন্য চাপা পড়ে যাবে।

উল্লেখ্য, প্রশাসনে বর্তমানে উপসচিব, যুগ্মসচিব ও অতিরিক্ত সচিব- এ তিনটি স্তরে পদোন্নতির প্রক্রিয়া চলছে। তিনটি স্তরেই নতুন করে ব্যাপক সংখ্যক কর্মকর্তাকে পদোন্নতির উদ্যোগ নেয়া হয়েছিলো। যদিও প্রত্যেকটি স্তরেই পদের চেয়ে কর্মকর্তা আছে বেশি। গত বৃহস্পতিবারের হিসেবমতে, অতিরিক্ত সচিব পর্যায়ে ১০৮টি পদের বিপরীতে কর্মকর্তা আছেন ২৬৬ জন, যুগ্মসচিব পর্যায়ে ৪৩০টি পদের বিপরীতে কর্মকর্তা আছেন ৮৯৩ জন এবং ৮৩০টি উপসচিব পদের বিপরীতে কর্মকর্তা আছেন ১ হাজার ২শ’ ৮৭ জন।

অতীতে দেখা গেছে, যখনই পদোন্নতি দেয়া হয়েছে বঞ্চিত ও ক্ষুব্ধদের পাল্লা ভারী হয়েছে। এবার অবশ্য সরকারের তরফে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিলো, অতীতে যারা পদোন্নতি থেকে বাদ পড়েছেন তাদের মধ্যে যারা পদোন্নতির যোগ্য- সবাইকে পদোন্নতি দেয়া হবে। অর্থাৎ যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া (বিভাগীয় মামলা প্রভৃতি) কাউকে বাদ দেয়া হবে না। কিন্তু, এ ক্রাইটেরিয়া পুরোপুরি অনুসরণ করতে গেলে পদোন্নতি প্রত্যাশী প্রভাবশালী কর্মকর্তাদেরকে বিবেচনায় আনা সম্ভব নয়।

অন্যদিকে, প্রশাসনে বিলম্বে পদোন্নতি পাওয়া কর্মকর্তাদের ধারণাগত জ্যেষ্ঠতার একটি ফাইল দীর্ঘদিন ধরে আটকে রয়েছে। তারা যৌথভাবে এখন মাঠে নেমেছেন এই পদোন্নতির আগেই ধারণাগত জ্যেষ্ঠতা আদায় করে নেয়ার জন্য। অবশ্য, এটা যুক্তিসঙ্গতও। এদেরকে ধারণাগত জ্যেষ্ঠতা না দিয়ে পদোন্নতির উদ্যোগ নেয়া হলে সেটা নতুন অস্থিতিশীলতার জন্ম দেবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছেন।