Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

রাত ১:৩৮ ঢাকা, মঙ্গলবার  ১৩ই নভেম্বর ২০১৮ ইং

পতনে শুরু পতনেই শেষ সপ্তাহের পুঁজিবাজার

Like & Share করে অন্যকে জানার সুযোগ দিতে পারেন। দ্রুত সংবাদ পেতে sheershamedia.com এর Page এ Like দিয়ে অ্যাক্টিভ থাকতে পারেন।

 

পতনে শুরু পতনের মধ্য দিয়েই সপ্তাহের লেনদেন শেষ করেছে দেশের পুঁজিবাজার। এ নিয়ে মোট পাঁচটি কার্যদিবসের মধ্যে এক দিন ভালো কাটলেও বাকি দিনগুলোতে দুই পুঁজিবাজার সূচকের পতন ঘটে। সপ্তাহের প্রথম দুই দিন খারাপ গেলে মঙ্গলবার কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও পরে এ ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেনি দেশের দুই পুঁজিবাজার।
বৃহস্পতিবার দিনশেষে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচকটি (ডিএসইএক্স) ২৩ দশমিক ৫৮ পয়েন্ট হ্রাস পায়। ডিএসই-৩০ ও শরিয়াহ সূচকের অবনতি ঘটে যথাক্রমে ৯ দশমিক ০৫ ও ৬ দশমিক ৬২ পয়েন্ট। দেশের দ্বিতীয় পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক ও সিএসসিএক্স সূচকের অবনতি ঘটে যথাক্রমে ৯৮ দশমিক ৪৪ ও ৬২ দশমিক ৩০ পয়েন্ট। সিএসই ৫০ সূচক হারায় ৭ দশমিক ৭৩ পয়েন্ট।
সূচকের পাশাপাশি অবনতি ঘটেছে দুই বাজারের লেনদেনেও। ঢাকায় গতকাল লেনদেন নেমে আসে ২০৬ কোটি টাকায় যা আগের দিন অপেক্ষা ২৯ কোটি টাকা কম। বুধবার ডিএসইর লেনদেন ছিল ২৩৫ কোটি টাকা। চট্টগ্রামেও এর ব্যতিক্রম ঘটেনি। এখানে ১৯ কোটি থেকে ১৭ কোটিতে নেমে আসে লেনদেন।
এ দিকে বাজারের লেনদেন খরার কারণে সক্ষমতা হারাচ্ছে ব্র্রোকার হাউজগুলো। টানা নেতিবাচক প্রবণতার শিকার পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীরা যেমন লোকসানের মুখে রয়েছেন তেমনি টিকে থাকতে গিয়ে লোকসান গুনতে হচ্ছে ব্রোকার হাউজগুলোকেও। ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কিছু ব্রোকার হাউজ বাদ দিলে বাকিদের জন্য এখন টিকে থাকাটাই কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ প্রতিটি ব্রোকার হাউজে যে পরিমাণ জনশক্তি নিয়োজিত রয়েছে বাজারের চলমান লেনদেন দিয়ে তা টিকে থাকার মতো নয়। কারণ লেনদেনের কমিশনটাই ব্রেকার হাউজগুলোর আয়ের প্রধান উৎস। গত এক মাসেরও বেশি সময় ধরে ডিএসইর লেনদেন ঘুরপাক খাচ্ছে ২০০ থেকে ৩০০ কোটির ঘরে। এর মধ্যে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানই লেনদেনের বেশির ভাগ নিয়ন্ত্রণ করে। ডিএসইর এমনও অনেক হাউজ রয়েছে যাদের দিনের টার্নওভার ২০ লাখ টাকাও পার হয় না। ফলে মাস শেষে ঠিকভাবে বেতনভাতা পরিশোধ করাও অনেক হাউজের জন্য কষ্টকর হয়ে দাঁড়ায়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএসইর একটি ব্রোকার হাউজের নির্বাহী নয়া বলেন, যেভাবে লেনদেন কমে যাচ্ছে তাতে সামনের দিনগুলোতে টিকে থাকা কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। ঢাকা শহরে তিনটি শাখা পরিচালনাকারী এ সিকিউরিটিজ হাউজের কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা প্রায় ৩০ জন। কিন্তু মাসশেষে লেনদেনের কমিশন থেকে যা আয় হয় তা দিয়ে তাদের বেতনভাতার অর্ধেকও পরিশোধ করা সম্ভব হয় না। এ অবস্থা চলতে থাকলে অনেক হাউজকে জনশক্তি ছাঁটাই করা ছাড়া গত্যন্তর থাকবে না।
পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, রাজনৈতিক অচলাবস্থার প্রভাব থেকে বের হতে পারছে না পুঁজিবাজারগুলো। প্রতিদিনই একটি ভালো দিনের প্রত্যাশায় বিনিয়োগকারীরা লেনদেনে অংশ নিতে এলেও দিনশেষে হতাশা নিয়েই তাদের বাড়ি ফিরতে হচ্ছে। চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতায় দেশের অর্থনীতির অন্য সব খাতের মতো পুঁজিবাজারও এ মুহূর্তে চলেছে অনির্দিষ্ট গন্তব্যে। এ অবস্থায় প্রতিদিনই বাড়ছে আস্থাহীনতা। অনেকে লেনদেনে অংশ নিলেও পারতপক্ষে বিনিয়োগ বাড়াতে চাচ্ছে না। বাজারে ক্রেতার চাইতে বিক্রেতাই বেশি। এর ফলে প্রতিদিনই পতন ঘটছে বাজার সূচকের। ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কেউই চাচ্ছে না ঝুঁকি বাড়াতে। তাই একদিকে বিক্রয়চাপ বৃদ্ধি পেয়ে অবনতি ঘটছে সূচকের অন্য দিকে কমছে পুঁজিবাজারের প্রতিদিনের লেনদেনও।
গতকাল লেনদেনের শুরুতেই বিক্রয়চাপের মুখে পড়ে বাজারগুলো। প্রায় আড়াই ঘণ্টা এ চাপ অব্যাহত থাকলে ডিএসই সূচকের অবনতি ঘটে ৪০ পয়েন্টের বেশি। চার হাজার ৭৪৭ পয়েন্ট থেকে লেনদেন শুরু করা ডিএসইএক্স সূচকটি বেলা ১টার দিকে নেমে আসে চার হাজার ৭০৫ পয়েন্টে। তবে ১টার পর আবার ঊর্ধ্বমুখী হয় বাজার সূচক। লেনদেনের শেষ দেড় ঘণ্টা এ প্রবণতা অব্যাহত থাকলে হারানো সূচকের একটি অংশ ফিরে পায় পুঁজিবাজারটি। সূচকের ২৩ পয়েন্ট অবনতিতে লেনদেন শেষ করে ডিএসই।
গতকাল লেনদেন হওয়া খাতগুলোর বেশির ভাগই চরম দরপতনের শিকার হয়। নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও খাতে শতভাগ কোম্পানির দরপতন ঘটে। ব্যাংক, বীমা ও টেক্সটাইল খাতে ৯০ শতাংশের বেশি কোম্পানি দর হারায়। সিমেন্ট, সিরামিকস ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতের অবস্থাও ছিল অনুরূপ। ফলে দুই বাজারের পতনের তালিকা হয়ে ওঠে বেশ দীর্ঘ। ঢাকায় লেনদেন হওয়া ৩০৩টি সিকিউরিটিজের মধ্যে দাম বাড়ে মাত্র ৫৫টির। ২০৪টি সিকিউরিটিজ বাজারটিতে দর হারায়। অপরিবর্তিত ছিল ৪৪টির দর। পক্ষান্তরে চট্টগ্রাম স্টকে লেনদেন হওয়া ২৩৮টি সিকিউরিটিজের মধ্যে ৪৭টির দাম বাড়ে, ১৫৮টির কমে এবং ৩৩টির দর অপরিবর্তিত থাকে।
লেনদেনে গতকালও দুই বাজারের শীর্ষস্থানটি ধরে রাখে সি অ্যান্ড এ টেক্সটাইল। ঢাকায় ১০ কোটি ৯০ লাখ টাকায় ৪২ লাখ ২৪ হাজার শেয়ার হাতবদল হয় কোম্পানিটির। সাত কোটি ৭০ লাখ টাকা লেনদেন করে শীর্ষ দশ কোম্পানির তালিকার দ্বিতীয় স্থানে ছিল লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট। তালিকার অন্য কোম্পানিগুলো ছিল যথাক্রমে চিটাগাং ভেজিটেবল অ্যান্ড পেট্রকেমিক্যাল রিফাইনারি, বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবলস, গ্রামীণফোন, আমরা টেকনোলজিস, শাহজিবাজার পাওয়ার কোম্পানি, জিএসপি ফিন্যান্স, ডেসকো ও স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস।

FOLLOW US: