ব্রেকিং নিউজ

রাত ৪:৪৮ ঢাকা, শুক্রবার  ২১শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

রুহুল কবির রিজভী
রুহুল কবির রিজভী, ফাইল ফটো

“পচা চাল” আমদানির অভিযোগ বিএনপির

আফ্রিকা থেকে পচা গম আমদানি করে বহু বিতর্কের পর এবার সরকার থাইল্যান্ড থেকে পচা চাল আমদানি করেছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

শুক্রবার এক প্রেস ব্রিফিংয়ে রিজভী এ অভিযোগ করে বলেন, ‘আফ্রিকা থেকে পচা গমের পর এবার থাইল্যান্ড থেকে পচা চাল আমদানি করা হয়েছে। এমবি ‘থাই বিন বে’ নামে একটি জাহাজে ১২ হাজার টন চাল ৩১ আগস্ট এবং এমভি ‘ডায়মন্ড’ নামে আরেকটি জাহাজে ১৯ হাজার ৮৫০ টন চাল চলতি মাসে আনা হয় থাইল্যান্ড থেকে। গত দুই দিন আগে এই পচা চালের গোমর ফাঁস হয়ে যাওয়ার পর এখন তোলপাড় শুরু হয়েছে চট্টগ্রামজুড়ে।’

‘এসব চাল একেবারেই খাবার অনুপযোগী ও অত্যন্ত নিম্নমানের। আমরা মনে করি, খাদ্যের অনুপযোগী চাল বা গম সরবারহ করা সংবিধান পরিপন্থি। এর মাধ্যমে সরকার শুধুমাত্র সংবিধানবিরোধী কাজই করেনি, মানবতাবিরোধী কাজ করছে, জনগণের ক্ষুধাকে নিয়ে তামাশা করছে।’

খাদ্য বিভাগ ওইসব পচা চাল চট্টগ্রাম বন্দরে খালাস না করার কথা বললেও জাহাজ দুটি বন্দরে নোঙর থাকায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন রিজভী।

তিনি বলেন, ‘খাদ্য বিভাগ চালগুলো ফিরিয়ে নিতে বলেছে থাই জাহাজ দুটিকে। কিন্তু জাহাজের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা চাল ফেরত না নিয়ে বেসরকারিভাবে বিক্রি করে যাবেন এই ধরনের সিদ্ধান্ত আমরা শুনতে পাচ্ছি। গত মঙ্গলবার থেকে তারা যোগাযোগ করে চট্টগ্রামসহ বেশ কয়েকটি চাল ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে। এখনও ওই জাহাজ দুটি বন্দরে খালাসের অপেক্ষায় থাকায় একটি বিষয় পরিষ্কার যে, এর পেছনে সরকারের রাঘববোয়ালরা জড়িত।’

‘প্রশ্ন হলো সরকারিভাবে আমদানি করা চাল বেসরকারিভাবে বিক্রির চেষ্টা কেন? এখানেই খটকা। হাওরে বন্যার কারণে খাদ্য সংকট দেখা দেয়ায় সরকার থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশ থেকে চাল আমদানি শুরু করে। ১৩ জুলাই থেকে এই পর্যন্ত সরকারি-বেসরকারি খাতে আমদানি করা চালবাহী ১৬টি জাহাজ বন্দরে এসেছে। পচা চালের খবর ফাঁস হওয়ায় জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে আগের আমদানি করা চালের চালানগুলোও নিম্নমানের কিনা?’

ওএমএস’র আতপ চাল সম্পর্কে অভিযোগ করে রিজভী বলেন, ‘নিম্ন আয়ের মানুষ খোলাবাজারে ওএমএসের আতপ চাল নিচ্ছে না। তারা যাতে এ চাল নেয় সেজন্য জোরজবরদস্তি করছেন ডিলাররা। এর পেছনে আরও খী কী রহস্য রয়েছে তা দ্রুত তদন্ত করে বের করা উচিত বলে আমরা মনে করি।’

সংবাদ ব্রিফিংয়ে দলের যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, হাবিব উন নবী খান সোহেল, কেন্দ্রীয় নেতা সানাউল্লাহ মিয়া, মাসুদ আহমেদ তালুকদার, হাবিবুল ইসলাম হাবিব, আবদুস সালাম আজাদ, অনিন্দ ইসলাম অমিত প্রমুখ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।