ব্রেকিং নিউজ

রাত ১২:০৩ ঢাকা, বুধবার  ২৬শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

বিক্ষোভে রোহিঙ্গারা
বিচারের দাবিতে শনিবার উখিয়ায় কুতুপালং আশ্রয়শিবিরে বিক্ষোভ-এএফপি

ন্যায়বিচারের দাবিতে বিক্ষোভে রোহিঙ্গারা

রাখাইন রাজ্যে মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর জাতিগত নির্মূল অভিযানের বর্ষপূর্তিতে ন্যায়বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন কয়েক হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থী। এ সময় তারা মিয়ানমার সরকারের বিচার ও নাগরিকত্ব নিয়ে নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার অধিকারের দাবি জানিয়েছেন।

শনিবার টেকনাফের আশ্রয়শিবিরে এ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়েছে।

টেকনাফ প্রতিনিধি জানিয়েছেন, সকাল ৯টায় প্রতিবাদ সভা ও বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়। এতে হাজার হাজার শরণার্থী অংশ নেন। তাদের হাতে থাকা প্লেকার্ডে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর হত্যা ধর্ষণের বিবরণ তুলে ধরেন।

মিছিল শুরুর আগে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের শালবন প্রধান মসজিদে এক প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তব্য রাখেন রোহিঙ্গা নেতা জাকারিয়া।

মিয়ানমার সরকারের বিচার, নাগরিকত্ব ও নিরাপদে নিজভূমিতে ফেরার পরিবেশ তৈরিসহ বিভিন্ন দাবির কথা বলেন তিনি। জাকারিয়া বলেন, দাবিগুলো পূরণ হলেই তারা নিজ দেশে ফেরত যাবেন।

রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মানবতার নেত্রী হিসেবে আখ্যা দেন তিনি। এছাড়া সেনা, বিজিবি, পুলিশ, আনসার ও উখিয়া টেকনাফের মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

ক্যাম্পের ভেতরে বিশাল সমাবেশের আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে।

এএফপি জানায়, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ ও সমাবেশে কয়েক হাজার শরণার্থী অংশ নিয়েছেন। এ সময় তারা ‘জাতিসংঘের কাছে আমরা ন্যায়বিচার চাই’ স্লোগান দিতে থাকেন।

কুতুপালংয়ের ক্যাম্পের বিক্ষোভে বিশাল ব্যানারে লেখা ছিল, রোহিঙ্গা গণহত্যা স্মরণ দিবস, ২৫ আগস্ট, ২০১৮। কেউ কেউ ‘রোহিঙ্গাদের রক্ষা কর’ লেখা বন্দনা পরে ছিলেন। কেউ পাতাকা ওড়াচ্ছিলেন।

আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গারা সব ধরনের সরকারি-বেসরকারি সুযোগ-সুবিধা পেলেও এভাবে অনিশ্চিত ভাসমান অবস্থায় দীর্ঘদিন থাকতে চান না তারা।

কুতুপালংয়ে বিক্ষোভে অংশ নেয়া ৪০ বছর বয়সী শরণার্থী মোহাম্মাদ হোসেইন এএফপিকে বলেন, আমরা ২৫ আগস্টকে স্মরণ করতে এখানে এসেছি। আমরা ন্যায়বিচার চাই।

তিনি বলেন, আমাদের রোহিঙ্গা হিসেবে স্বীকৃতি দিতে তাদেরকে বলছি। আমরা খুবই হতাশ, কারণ আমরা আমাদের জন্মভূমিতে থাকতে পারছি না। সবাই ন্যায়বিচার চায়, বিশ্বকে আমরা সে কথা জানাতে চাই।

আরেক বিক্ষোভকারী নুর কামাল বলেন, আমরা গণহত্যার শিকার হয়েছি। গত বছরের ২৫ আগস্ট আমরা মিয়ানমারে গণহত্যার শিকার হয়েছি। আমরা বিচার চাই।

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর জাতিগত নির্মূল অভিযান থেকে বাঁচতে গত বছরের আগস্ট থেকে সাত লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা মুসলিম পালিয়ে কক্সবাজারে আশ্রয় নিয়েছেন। জাতিসংঘ যেটাকে জাতিগত নিধনের জলন্ত উদহারণ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।

রোহিঙ্গাদের এই ঢলে মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক উত্তরণ নতুন করে হুমকিতে পড়েছে। দেশটির নেত্রী নোবেলজয়ী অং সান সুচির ভাবমূর্তি নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

মিয়ানমারে জাতিসংঘের সাবেক কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক রিচার্ড হোরসেই বলেন, রোহিঙ্গা সংকটে বিশ্বে মিয়ানমারের অবস্থান ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

পশ্চিমা মিত্ররা একসময় সুচিকে দেশটির গণতন্ত্রের প্রতীক হিসেবে আখ্যায়িত করেছিল। কিন্তু রোহিঙ্গাদের ওপর দমনপীড়ন বন্ধে তিনি কোনো উদ্যোগ নিতে অস্বীকার করায় তাকে সমালোচিত হতে হয়েছে। তার সরকারকে সেই সঙ্গে নানামুখী চাপ সামলাতে হচ্ছে।

এমনকি রাখাইনে হত্যা, ধর্ষণ ও জ্বালাওপোড়াওয়ের যেসব অভিযোগ উঠেছে দেশটির সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে সুচি তা অস্বীকার করছেন।

বরং তিনি বাংলাদেশকে উল্টো চাপে রাখার কৌশল বেছে নিয়েছেন। সম্প্রতি সিঙ্গাপুরে দেয়া এক বক্তৃতায় তিনি বলেছেন, রোহিঙ্গাদের দ্রুত প্রত্যাবাসন করার বিষয়টি বাংলাদেশের ওপর নির্ভর করছে।

সম্প্রতি পালিয়ে আসা অর্ধডজন রোহিঙ্গার সঙ্গে কথা বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, শূন্য গ্রাম ও আগুনে কালো হয়ে যাওয়া বাড়িঘরের মধ্যে মাসের পর মাস জীবন সংগ্রাম চালিয়ে আসার পর রোহিঙ্গারা সেনাবাহিনীর গ্রেফতার ও হয়রানির ভয়ে চলে আসতে বাধ্য হচ্ছেন।