Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

বিকাল ৫:১১ ঢাকা, মঙ্গলবার  ২০শে নভেম্বর ২০১৮ ইং

ফাইল ফটো

ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর আইনের খসড়া অনুমোদন

মন্ত্রিসভায় আজ বিদ্যমান বিএনসিসি’কে একটি আধুনিক কাঠামোয় নিয়ে আসা এবং এ বিষয়ে একটি পৃথক অধিদফতর প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি) আইন, ২০১৫-এর খসড়া নীতিগতভাবে অনুমোদন করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে বাংলাদেশ সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়েছে।
বৈঠকের পর মন্ত্রিসভা সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের এ বিষয়ে ব্রিফ করেন।
শফিউল আলম জানান, সরকার বিদ্যমান বিএনসিসি’র বিভিন্ন কর্মকান্ডে আরো গতিশীলতা সঞ্চার এবং সংস্থাকে একটি আইনী কাঠামোর মধ্যে এনে সংগঠিত করা ও একটি পৃথক অধিদফতর গঠনের লক্ষ্যে ‘বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি) আইন, ২০১৫’ প্রণয়ন করছে।
বিএনসিসি প্রতিষ্ঠার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে মন্ত্রিসভা সচিব বলেন, ১৯৫০ সালে প্রণীত একটি পুরনো আইনের আলোকে সংস্থাটি এ যাবত ইউনিভার্সিটি অফিসার্স ক্যাডেট কোর আইন, ১৯৭৯ অনুযায়ী পরিচালিত হয়ে আসছিল।
তিনি বলেন, প্রস্তাবিত আইন অনুযায়ী প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিএনসিসি’র জন্য একটি পৃথক অধিদফতর প্রতিষ্ঠা করা হবে। অধিদফতরের মহাপরিচালক সরকার কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত হবেন এবং তিনি এটির প্রধান হবেন।
এছাড়া, অধিদফতর সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য একটি উপজেলা কমিটি থাকবে। শৃঙ্খলা বিরোধী কর্মকান্ড রোধ করার লক্ষ্যে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মন্ত্রিসভা সচিব বলেন, বিএনসিসি’র সদর দফতর রাজধানীতে প্রতিষ্ঠা করা হবে এবং দেশের অন্যান্য স্থানে আরো কিছু শাখা থাকবে।
সংস্থার শৃঙ্খলা লংঘনের বিষয়ে শফিউল আলম বলেন, বিভিন্ন বাহিনী থেকে বিএনসিসিতে প্রেষণে নিয়োজিত অফিসারদের শৃঙ্খলা ভঙ্গের ঘটনা ঘটলে তাদের সংশ্লিষ্ট বাহিনীর আইনগত ব্যবস্থার সম্মুখীন হতে হবে।
তিনি বলেন, এছাড়া বাংলাদেশ সার্ভিস রুলস অনুযায়ী বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস থেকে প্রেষণে নিয়োজিতদের বিরুদ্ধেও আইনগত প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হবে।
তিনি বলেন, মন্ত্রিসভায় বাংলাদেশ ও থাইল্যান্ডের মধ্যে পর্যটনের ক্ষেত্রে সহযোগিতা সংক্রান্ত একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে।
মন্ত্রসভা সচিব বলেন, পর্যটন খাতে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরো জোরদারের লক্ষ্যে দু’টি দেশের মধ্যে থাই সরকারের প্রস্তাবিত এমওইউ’টি দু’টি দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত হবে।
তিনি বলেন, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া ও ভূটানসহ এ অঞ্চলের বৌদ্ধ ঐতিহ্য সমৃদ্ধ দেশগুলোর সঙ্গে একটি যোগাযোগ গড়ে তোলার উদ্যোগের অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।
মন্ত্রিসভা সচিব বলেন, মন্ত্রিসভায় গত ৩-৫ নভেম্বর নেদারল্যান্ডে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি সফরের কর্মকান্ড সম্পর্কে অবহিত করা হয়।
এছাড়াও, মন্ত্রিসভায় গত ১৭-২০ নভেম্বর পর্যন্ত থাইল্যান্ডে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের সফর, ২১-৩০ নভেম্বর অস্ট্রেলিয়া সফর এবং জাতিসংঘ খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (ফাও) কর্তৃক বৈশ্বিক কৃষি ঐতিহ্য ব্যবস্থা হিসেবে বাংলাদেশের ভাসমান চাষাবাদ ব্যবস্থার স্বীকৃতি মন্ত্রিসভা বৈঠকে অবহিত করা হয়।
বৈঠকে গত ৩০ নভেম্বর থেকে ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্যারিসে অনুষ্ঠিত ২১তম বিশ্ব পরিবেশ শীর্ষ সম্মেলনে পরিবেশ ও বন মন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলা দেশ প্রতিনিধি দলের অংশগ্রহণের বিষয়টি অবহিত করা হয়।
মন্ত্রীবর্গ, প্রতিমন্ত্রীগণ বৈঠকে যোগ দেন। সংশ্লিষ্ট সচিবগণ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।